
আমরা যারা কনজারভেটিভ আইডিয়ালস এর অনুসারী, অর্থাৎ রক্ষণশীল জীবনধারায় বিশ্বাস করি, তারা বরাবরই বলে থাকি এবং জানি, কনজারভেটিভদের জন্য পকেট বুকটাই মূল ইস্যু। যেমন প্রভিন্সিয়াল কনজারভেটিভ এর ক্ষেত্রে দেখুন, যেমন ডাগ ফোর্ডের নেতৃত্বাধীন অন্টারিও প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ সরকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ কমাতে বেশ কিছু পকেটবুক ইস্যু নিয়ে কাজ করেছে।
যেমন, লাইসেন্স প্লেট নবায়ন ফি বাতিল, গ্যাস ট্যাক্স কমানো, হাইওয়ে ৪১২, ৪১৮ ও ৪০৭ ইস্টের টোল তুলে দেওয়া এবং সিঙ্গেল ফেয়ার চালুর মাধ্যমে ট্রানজিট খরচ কমানো। দ্রব্যমূল্যের চাপ থাকলেও এসব উদ্যোগ মানুষের পকেটে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে।
আবার অন্টারিও স্টুডেন্টস অ্যাসিস্টেন্স প্রোগ্রাম (OSAP) নিয়ে কি জালিয়াতিই না হয়েছে। এই এত বছর পর যখন পিসির সরকার osap অনুদান প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে, তখন তদন্ত করতে গিয়ে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে আসছে। পাঁচটি বেসরকারি কলেজ সরকারের এই অনুদানের প্রোগ্রামকে যথেচ্ছ অপব্যবহার করেছে, লুটেপুটে নিয়েছে বললেও কম বলা হয়। সরকারকে ধন্যবাদ দিতে হয় কেননা এই প্রোগ্রাম নতুন করে ডিজাইন করার আগে লুপ হোল গুলো অর্থাৎ সমস্যার জায়গাগুলো গভীরভাবে তলিয়ে দেখার সুযোগ তৈরি হয়েছে । তবেই ভবিষ্যতে আর কেউ এ ধরনের কাজে লিপ্ত হতে দুবার ভাববে।
সামার শেষের পথে, আবহাওয়া কিছুটা শান্ত হয়ে আসছে কিন্তু নির্বাচনের লু হাওয়া এখন উত্তপ্ত। স্কারবরো সাউথ ওয়েস্ট উপনির্বাচন কাল বাদে পরশু, তাই নির্বাচনের উত্তাপ এখন অনেক প্রখর ।
এই নির্বাচনে একটা জিনিস ভালো হয়েছে নির্বাচন নিয়ে কমিউনিটির হার্ড (herd) মেন্টালিটি এপ্রোচ বা দৃষ্টিভঙ্গি অনেকটা দূর হয়ে গেছে। সোজা বাংলায় বললে দঙ্গল রাজনীতির মনোভাব । দঙ্গল রাজনীতি থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারছি। এখন আমরা কথা বলছি পলিসি নিয়ে, রাজনৈতিক প্লাটফর্ম নিয়ে এবং এটা খুব জরুরী। রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ-বিপক্ষ পলিটিক্যাল অপারেটিভরা তাদের নিজেদের সমর্থনে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছে। সমর্থকরা তো আছেই। এবং এটা আগামীর রাজনৈতিক পথচলা কে অনেকটা সহজ করে দেবে। আপনি জানবেন কারা আপনার রাজনৈতিক কমরেড। যেমন কিছুদিন আগে মোহাম্মদ আলী বুখারী এবং শহিদুল ইসলাম মিন্টু দুজনেই নিজেদের দলের পক্ষে Climate Channel টিভিতে পরিষ্কারভাবে যুক্তি তর্ক তুলে ধরেছেন। কেউ বলেননি আমরা বাঙালি ভাই ভাই, যে কোনভাবেই আমাদেরকে নিজেদের লোক নিয়ে আসতে হবে। এটা সুস্থ রাজনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার, বিশেষ করে কানাডার মত বহুজাতিক একটি দেশে। কারণ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়লে শুধু আমরা বাঙালিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি না, আমাদের মত অন্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাত্র কয়েক বছর আগেও হার্ড (herd) মেন্টালিটির কারণে আমরা পলিসির দিকে তাকাইনি, যেন তেনভাবে ভোট দিয়ে কাটিয়ে দিয়েছি কিন্তু পরিশেষে কি পেয়েছি সেটা আর আমরা ভাবি নি।

