মার্কিন শুল্কের পাল্টা পদক্ষেপ চান অধিকাংশ কানাডিয়ান

মার্কিন শুল্কের পাল্টা পদক্ষেপ চান অধিকাংশ কানাডিয়ান - the Bengali Times
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকিকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কানাডা যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক হুমকিকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক। যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য নতুন শুল্ক নীতির বিরুদ্ধে এবার নিজেদের সরকারের কাছেই কঠোর অবস্থান নেওয়ার দাবি তুলছেন অধিকাংশ কানাডিয়ান। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সুবিধাজনক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সক্ষমতা নিয়েও সাধারণ মানুষের আস্থা আগের তুলনায় কমেছে বলে একটি নতুন জনমত সমীক্ষায় উঠে এসেছে। অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউট পরিচালিত সর্বশেষ সমীক্ষা অনুযায়ী, কানাডিয়ানদের বড় একটি অংশ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে নতি স্বীকার না করে অটোয়ার উচিত সমানতালে জবাব দেওয়া। ২৩ থেকে ২৫ জুলাই পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেশজুড়ে বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষের মতামত সংগ্রহ করা হয়।

সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুই দেশের মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তি না হলে কানাডার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমানে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো বাণিজ্য চুক্তি-এর আওতায় যেসব পণ্য শুল্কমুক্ত রয়েছে, সেগুলোকেও নতুন শুল্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, আলোচনায় সমাধান না এলে আগামী ১৯ আগস্ট থেকে এই নতুন শুল্ক কার্যকর হতে পারে। ফলে দুই দেশের দীর্ঘদিনের মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই শুল্ক কার্যকর হলে উৎপাদন, কৃষি, অটোমোবাইল, ধাতু এবং ভোক্তা পণ্যের বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী ব্যবসা ও সরবরাহ ব্যবস্থাও নতুন অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।

- Advertisement -

সমীক্ষার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ছাড় দেওয়ার পক্ষে কানাডিয়ানদের সমর্থন অত্যন্ত সীমিত। জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, অতিরিক্ত শুল্ক এড়াতে কানাডার উচিত যুক্তরাষ্ট্রের দাবির কাছে নতি স্বীকার করা। অন্যদিকে, ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা সরকারের কাছে প্রতিশোধমূলক বা পাল্টা শুল্ক আরোপের দাবি জানিয়েছেন। তবে এই পাল্টা পদক্ষেপের ধরন নিয়ে মতভেদ রয়েছে। ৩৪ শতাংশ চান, যুক্তরাষ্ট্র যে পরিমাণ শুল্ক আরোপ করবে, কানাডাও সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করুক। ২৮ শতাংশ সীমিত পরিসরে লক্ষ্যভিত্তিক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষে। ১৯ শতাংশ মনে করেন, সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিত। মাত্র ৭ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড় দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। এতে স্পষ্ট যে, কানাডিয়ানদের বড় অংশ এখন কঠোর বাণিজ্য নীতির পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকারকে আরও দৃঢ় ভূমিকা নিতে দেখতে চান।

সমীক্ষায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে ঘিরে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি অনুকূল বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনে তাঁর সক্ষমতার ওপর আগের তুলনায় মানুষের আস্থা কমেছে। সর্বশেষ জরিপে মাত্র ৪৩ শতাংশ উত্তরদাতা বিশ্বাস করেন, কার্নি শেষ পর্যন্ত কানাডার জন্য একটি ভালো ও লাভজনক বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করতে পারবেন। কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিল মাসে একই প্রশ্নে এই আস্থার হার ছিল ৫১ শতাংশ। অর্থাৎ মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জনবিশ্বাস ৮ শতাংশ পয়েন্ট কমেছে। ট্রাম্পের ধারাবাহিক শুল্ক হুমকি এবং দীর্ঘায়িত অনিশ্চয়তার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আস্থার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, কূটনৈতিক আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রয়োজনে কঠোর অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতাও সরকারের থাকতে হবে।

আগামী ১৯ আগস্টের আগে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা না হলে নতুন শুল্ক কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেত্রে উত্তর আমেরিকার অন্যতম বৃহৎ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। যদি শুল্ক যুদ্ধ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে, তবে এর প্রভাব শুধু কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং উত্তর আমেরিকার সরবরাহ ব্যবস্থা, শিল্প উৎপাদন, বিনিয়োগ এবং ভোক্তা বাজারেও এর নেতিবাচক প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।

অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের সর্বশেষ সমীক্ষা স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্ক হুমকিকে কানাডিয়ানরা কেবল অর্থনৈতিক নয়, জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন হিসেবেও দেখছেন। তাই যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে আপসের বদলে পাল্টা পদক্ষেপের দাবিই এখন জনমতের মূল সুর। তবে একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির আলোচনার মাধ্যমে অনুকূল চুক্তি আদায়ের সক্ষমতা নিয়ে মানুষের আস্থা কমে যাওয়ায় সরকারের সামনে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles