
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলজীবনের পর আবারও যেন সেই পুরোনো দিনগুলো ফিরে এলো। ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মধ্যে প্রাণবন্ত, অম্লমধুর বাকযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দারুণ একটি বিকেল কেটে গেল।
মাঠে যাই হোক শেষ পর্যন্ত আড্ডার ফল ১–১ গোলে ড্র! তাই শান্তিপূর্ণভাবেই সমাপ্তি ঘটল সেই চিরচেনা ফুটবলীয় তর্কযুদ্ধের।
ক্যাম্পাসের প্রাণোচ্ছল অগ্রজ ও অনুজদের এই আন্তরিকতা, বন্ধুত্ব আর ভালোবাসা চিরঞ্জীব হোক। ফুটবল বদলাবে, প্রজন্ম বদলাবে, কিন্তু এই বন্ধনের গল্প যেন কখনো না বদলায়।
আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের খেলা শেষে গতকাল সন্ধ্যায় টরন্টোর নান এন্ড কাবাব রেস্টুরেন্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ফোরাম কানাডার নির্বাহী কমিটির সদস্যরা এক সভায় মিলিত হন। ২০২৬ এর সফল পিকনিক আয়োজনে যারা প্রচন্ড কষ্ট করেছেন তাদেরকে এবং দিনভর বৃষ্টি থাকা সত্তেও যারা অংশ নিয়েছেন তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয় ও পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সবকিছু ছাপিয়ে আলোচনার মুল প্রতিপাদ্য হয়ে উঠে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের খেলা। ভাবলাম সবেমাত্র নাটকীয় জয়ের পর হাত তুলতে বললে অনেকেই আজ আন্ডারগ্রাউন্ড সমর্থন ছেড়ে আমাদের সাথে আর্জেন্টিনার পক্ষে হাত তুলবেন! ভাইরে ভাই, অবাক করা বিষয় হলো মাত্র আমরা তিন জন ছাড়া আর কেউই হাত তুললো না। অনেকেই দেখি এখন স্পেনের পক্ষে সমর্থন দিতে মুখিয়ে আছে। জোর করে তারা ফটোসেশন করলেও ছবি দেখে কেউ বিশ্বাস করবেন না সবাই আর্জেন্টিনার সমর্থক। আমার শুধু একটা গানের কলি মনে পড়ছিল তখন, “একজন মানুষ হইয়া তুমি কয়জনারে বিলাও মন…”!
টেইক ইট ইজি গাইজ। আর মাত্র একটা খেলা, তারপরই আবার চারটি বছরের জন্যে হারিয়ে যাবে আমাদের এই তর্ক বিতর্ক, আনন্দ আর উল্লাস। আসুন আমরা ফাইনাল উপভোগ করি, স্পেন আর আর্জেন্টিনা এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে যোগ্য দুটি দল, যেই জিতুক আমরা সেলিব্রেট করবো, হাতে হাত আর কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে। ইনশাআল্লাহ।
স্কারবোরো, কানাডা

