
এনার ছেলের সঙ্গে ওনার মেয়ের বিয়ে হয়েছে। বিয়ের আইনি স্বীকৃতিতে ওনারা একে অপরের বি-আইন, অর্থাৎ বিয়াইন।
সুযোগ পেলেই ওনারা দূরপাল্লার ফোনালাপে মেতে ওঠেন। দুজনের কথার প্রায় সত্তর শতাংশ জুড়েই থাকে এনার ছেলে আর ওনার মেয়ের কথা।
ইনি ছেলের মা, তাই ছেলের যত ভালো-মন্দ, ফাঁপানো-ফুঁপানো গল্পই বলবেন, এটাই তো স্বাভাবিক। তিনিও নিশ্চয়ই মেয়ের গুণ, অভ্যাস আর সাফল্যের গল্প শোনাবেন—এটাও স্বাভাবিক। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, ঘটনা ঠিক উল্টো। ইনি নিজের ছেলের কথা প্রায় না বলেই ওনার মেয়েটি কত ভালো, কত যত্নশীলা সেই গল্পই করেন। আর তিনিও কম যান না। নিজের মেয়ের কথা বাদ দিয়ে মেয়ের জামাইয়ের প্রশংসাতেই যেন পঞ্চমুখ।
ওনারা যেন প্রচলিত প্রথা ভেঙে অন্য এক পথ বেছে নিয়েছেন। শ্বশুরবাড়ির সামান্য অবহেলা, দৈনন্দিন ঘাটতি কিংবা ছোটখাটো ভুল, এসবের দিকে কারোরই যেন কোনো খেয়াল নেই। এ-বাড়ির ভুল ও-বাড়ির ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়ার যে রেওয়াজ এতদিন দেখে এসেছি, তা সত্যিই বদলে যাচ্ছে?
সমাজটা কবে এমন করে নতুন হলো?
জানি, সময় বদলেছে। মানুষ এখন ছোটখাটো বিষয় এড়িয়ে চলতে শিখেছে। কিন্তু তাই বলে
‘তোমার মা-বাবা’,
‘আপনার ছেলে’
‘আপনার মেয়ে’ বলে কণ্ঠস্বর চড়িয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ার যে দৃশ্য একসময় খুব পরিচিত ছিল, সেটিও কি তবে অতীত হয়ে গেল?
এই, ইনি আর উনি আমাকে নতুন করে ভাবাচ্ছে।
জীবনের প্রথম শিক্ষা শুরু হয় সংসার থেকে, আর সেই শিক্ষায় মায়েদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ইনি-উনির সম্পর্কের মধ্যে আমি সেই শিক্ষার এক সুন্দর প্রতিফলন দেখছি।
সংসারের আরেক নাম, বিধি-বিদ্যালয়।
স্কারবোরো, কানাডা

