
হার নিশ্চিত বলেই মনে হচ্ছিল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকা, লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিস এবং দুর্দান্ত খেলতে থাকা মিশরের রক্ষণ—সবকিছুই যেন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ছিল। কিন্তু বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা দেখাল কেন তারা সবচেয়ে ভয়ংকর দলগুলোর একটি। দুই গোলের ধাক্কা সামলে রোমাঞ্চকর প্রত্যাবর্তনে মিশরকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে পড়ে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। ১৫তম মিনিটে কর্নার থেকে মারওয়ান আতিয়ার নিখুঁত ক্রসে শক্তিশালী হেডে গোল করে মিশরকে এগিয়ে দেন ডিফেন্ডার ইয়াসির ইব্রাহিম।
পাঁচ মিনিট পরই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। বক্সের ভেতরে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক নিতে এসে লিওনেল মেসির শট অসাধারণ দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির চতুর্থ পেনাল্টি মিস এবং চলতি আসরে দ্বিতীয়।
প্রথমার্ধের বাকি সময়েও একাধিক আক্রমণ চালায় আর্জেন্টিনা। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড, হুলিয়ান আলভারেজের শট এবং মেসির কয়েকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন মোস্তফা শোবেইর।
বিরতির পর আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। তবে মিশরের ঘন রক্ষণ সহজে ভাঙতে পারেনি তারা। এক পর্যায়ে পাল্টা আক্রমণে জিকো বল জালে পাঠালেও আক্রমণের শুরুতে ফাউল থাকায় ভিডিও সহকারী রেফারির (ভিএআর) পর্যালোচনার পর গোলটি বাতিল করা হয়।
সেই মুহূর্ত থেকেই ম্যাচের মোড় ঘুরতে শুরু করে। আর্জেন্টিনা একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে অবশেষে ম্যাচে ফেরে। এরপর দ্রুত আরও দুটি গোল করে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধান ধরে রেখে নাটকীয় জয় নিশ্চিত করে তারা।
মেসির পেনাল্টি মিস সত্ত্বেও দল হিসেবে দুর্দান্ত মানসিক দৃঢ়তা দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। কঠিন পরিস্থিতি থেকে ফিরে এসে জয় তুলে নিয়ে তারা আবারও প্রমাণ করেছে, নকআউট মঞ্চে তাদের কখনোই আগেভাগে হিসাবের বাইরে রাখা যায় না।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের শেষ আটে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। এখন শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে কোয়ার্টার ফাইনালের লড়াইয়ের অপেক্ষায় লিওনেল স্কালোনির দল।

