
ফুটবল জগতের মহারথী লিওনেল মেসি, নেইমার ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে এটিই। ২০৩০ সালে মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেনে বিশ্বকাপ রয়েছে। নেইমার ও সিআরসেভেন সে অবধি আর জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন না। লিওনেল মেসি ২০২২ সালে ফুটবল বিশ্বকাপ জিতে ক্যারিয়ারের চক্র পূরণ করেছেন। কিন্তু নেইমার ও রোনালদোর সে স্বপ্ন পূরণ হয়নি। তবে বয়স বলছে, বিদায়ের ঘণ্টা বেজে গেছে।
মেসি আর্জেন্টিনার হয়ে দুটি কোপা আমেরিকা, অলিম্পিক গোল্ড ও একটি বিশ্বকাপ জয় করেছেন। নেইমার অবশ্য একটি অলিম্পিক গোল্ড পেয়েছেন। কিন্তু বিশ্বকাপ বা কোপা জিততে পারেননি। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো দেশের হয়ে একটি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ও দুটি নেশন্স লিগ জয় করেছেন।
ক্লাবে গেলে দেখা যায় রোনালদো ম্যানইউ ও রিয়ালের হয়ে ৫টি চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন। মেসির সেখানে বার্সেলোনার হয়ে ৪টি শিরোপা রয়েছে। নেইমার একটি জিতেছেন ২০১৫ সালে। দেশ ও ক্লাবের গোলের হিসাবে রোনালদো সবার সামনে। মেসি বিশ্বকাপ জিতে এগিয়ে গেছেন অর্জনে।
নেইমার জুনিয়র ব্রাজিলের অন্যতম প্রতিভাবান ফুটবলার। সান্তোসে ক্যারিয়ার শুরু করে তিনি বার্সেলোনা, পিএসজি এবং পরে সৌদি আরবের ক্লাবে খেলেছেন। তার অসাধারণ ড্রিবলিং, গতি এবং সৃজনশীলতা ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে বছরের পর বছর। নেইমার ৪০০-এর বেশি গোল করেছেন এবং ব্রাজিল জাতীয় দলের ইতিহাসে অন্যতম সর্বোচ্চ গোলদাতা। বার্সেলোনার হয়ে তিনি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, লা লিগা এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ শিরোপা জিতেছেন। যদিও বিশ্বকাপ জয় তার অধরা রয়ে গেছে, তবুও তিনি ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হন।
রোনালদো, মেসি ও নেইমার এই তিনজন শুধু ফুটবলার নন, তারা একটি যুগের প্রতীক। রোনালদো শিখিয়েছেন কঠোর পরিশ্রমের মূল্য, মেসি দেখিয়েছেন প্রাকৃতিক প্রতিভার সৌন্দর্য, আর নেইমার ফুটবলকে দিয়েছেন আনন্দ ও সৃজনশীলতার নতুন মাত্রা। তাদের গোল, ট্রফি এবং অসাধারণ পারফরম্যান্স ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। ফুটবল ইতিহাসে এই তিন মহাতারকার নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে চিরকাল।

