
ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর একটি ইসলামিক সেন্টারে ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনার পর কানাডার টরন্টো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন। একই সঙ্গে মুসলিম কমিউনিটিগুলোকে আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, ঘৃণা ও সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সোমবার রাতে সান ডিয়েগোর “ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো”-তে ঘটে যাওয়া গুলির ঘটনায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও একজন আহত হয়েছেন। হামলার ঘটনাকে ঘৃণা-প্রসূত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনার পরপরই উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন মুসলিম কমিউনিটিতে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতের ওই হামলায় দুইজন সশস্ত্র যুবক মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়। এতে ৩৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত আরেকজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
পরে সন্দেহভাজন দুই হামলাকারীকে একটি গাড়ির ভেতর মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তাদের বয়স যথাক্রমে ১৭ ও ১৮ বছর। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হামলার পর তারা আত্মহত্যা করেছে। তবে পুরো ঘটনাটি ঘিরে এখনো বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
সান ডিয়েগোর সবচেয়ে বড় মসজিদ হিসেবে পরিচিত ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। হামলার পর কেন্দ্রটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মসজিদটি সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। কমিউনিটির সদস্যদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।
এই হামলার পেছনে প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে ঘটনাটি ঘৃণা-প্রসূত অপরাধ কিনা, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং ইসলামবিরোধী মনোভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে এই হামলাকে বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা হিসেবে না দেখে বৃহত্তর সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে সান ডিয়েগোর ঘটনার পর টরন্টো এরিয়া পুলিশ সার্ভিসেস জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর ঘনিষ্ঠ নজর রাখছে এবং মুসলিম কমিউনিটির নিরাপত্তা নিশ্চিতে অতিরিক্ত দৃশ্যমান টহল পরিচালনা করবে। পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমানে স্থানীয়ভাবে কোনো নির্দিষ্ট হুমকির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানের আশপাশে টহল জোরদার করা হয়েছে।
ইয়র্ক রিজিয়নাল পুলিশও একই ধরনের বার্তা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, “সান ডিয়েগোতে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক ঘটনাটি ইয়র্ক রিজিয়নের মানুষও গভীরভাবে অনুভব করছেন। আজ এবং প্রতিদিন আমরা আমাদের কমিউনিটির পাশে রয়েছি।”
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আমরা আমাদের বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করতে চাই যে, এই অঞ্চলে ঘৃণা, সহিংসতা কিংবা ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো স্থান নেই। সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মীয় উপাসনালয়কে কেন্দ্র করে সহিংস হামলার সংখ্যা বাড়ছে, যা বহুসাংস্কৃতিক সমাজের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত। বিশেষ করে মুসলিম, ইহুদি ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়গুলো প্রায়ই নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। ফলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল নয়, সামাজিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
সান ডিয়েগোর ঘটনার তদন্ত চলমান থাকলেও এই হামলা উত্তর আমেরিকার মুসলিম কমিউনিটির মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা, সামাজিক সহাবস্থান এবং ঘৃণা-প্রসূত অপরাধ মোকাবিলা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

