ক্রিস্টোফার লিউর আর্থিক পরামর্শ

ক্রিস্টোফার লিউর আর্থিক পরামর্শ - the Bengali Times
কানাডার সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আর্থিক পরিকল্পনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভুল বারবার দেখা যাচ্ছে যা দীর্ঘমেয়াদে বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে

কানাডার সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আর্থিক পরিকল্পনায় কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভুল বারবার দেখা যাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে। আর্থিক বিশেষজ্ঞ ক্রিস্টোফার লিউ, যিনি একজন সিএফপি ও সিএফএ চার্টারহোল্ডার এবং সাবেক আর্থিক পরামর্শদাতা, সম্প্রতি এই বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।

তার মতে, সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো নিবন্ধিত কর-সুবিধাপ্রাপ্ত অ্যাকাউন্টগুলো যথাযথভাবে ব্যবহার না করা। কানাডায় টিএফএসএ এবং আরআরএসপি-এর মতো অ্যাকাউন্টগুলো বিশ্বের অন্যতম সেরা কর-আশ্রয়ী বিনিয়োগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক কানাডিয়ানই এসব অ্যাকাউন্টের পূর্ণ সুবিধা নিচ্ছেন না।

- Advertisement -

লিউ ব্যাখ্যা করেন, সাধারণ সঞ্চয়ী হিসাবে রাখা অর্থ থেকে যে সুদ বা আয় হয়, তা করযোগ্য। কিন্তু একই অর্থ যদি টিএফএসএ বা আরআরএসপি অ্যাকাউন্টে বিনিয়োগ করা হয়, তাহলে তা করমুক্তভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে, যারা এখনো এসব অ্যাকাউন্টে নিয়মিত অবদান রাখছেন না, তাদের জন্য এটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, শুধু অ্যাকাউন্ট খোলা যথেষ্ট নয় সেখানে কী ধরনের সম্পদ রাখা হচ্ছে, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়টিকে বলা হয় “অ্যাসেট লোকেশন”। সঠিক সম্পদ সঠিক অ্যাকাউন্টে রাখার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা বছরে হাজার হাজার ডলার কর সাশ্রয় করতে পারেন।

অবসরপ্রাপ্ত বা অবসরের কাছাকাছি থাকা ব্যক্তিদের জন্য লিউ বিশেষভাবে একটি কৌশলের কথা উল্লেখ করেন পেনশন আয়ের বিভাজন। এই পদ্ধতিতে একজন ব্যক্তি তার পেনশন আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ তার স্বামী বা স্ত্রীর সঙ্গে ভাগ করতে পারেন, বিশেষ করে যদি তার সঙ্গীর আয় কম হয়। এর ফলে সামগ্রিক করের পরিমাণ কমে যায়। এই সুবিধা নিতে হলে আয়কর রিটার্নের সঙ্গে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করতে হয়।

এছাড়া, অনেক করদাতা নিয়মিতভাবে বড় অঙ্কের ট্যাক্স রিফান্ড পেয়ে থাকেন, যা আপাতদৃষ্টিতে ভালো মনে হলেও বাস্তবে এটি ইঙ্গিত দেয় যে, তাদের বেতন থেকে অতিরিক্ত কর কেটে রাখা হচ্ছে। লিউর মতে, এই পরিস্থিতিতে করদাতারা চাইলে তাদের নিয়োগদাতার সঙ্গে কথা বলে কর কর্তনের পরিমাণ কমিয়ে নিতে পারেন। এতে করে বছরের শেষে বড় রিফান্ডের অপেক্ষা না করে মাসিক হাতে পাওয়া আয় বাড়ানো সম্ভব।

সবশেষে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কম কর দেওয়ার অর্থ কোনো বেআইনি ফাঁক খোঁজা নয়। বরং সরকার যেসব বৈধ সুযোগ-সুবিধা আগে থেকেই নির্ধারণ করে রেখেছে, সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সচেতন পরিকল্পনা ও সঠিক আর্থিক কৌশল গ্রহণের মাধ্যমে কানাডিয়ানরা তাদের করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেন। তবে এর জন্য প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি যা অনেকেই এখনো অবহেলা করে চলেছেন।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles