
কানাডার ব্যস্ততম বিমানবন্দর টরন্টো পিয়ারসন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যুক্তরাষ্ট্রগামী যাত্রীদের জন্য নেক্সাস ও গ্লোবাল এন্ট্রি প্রি-ক্লিয়ারেন্স কার্যক্রম রবিবার সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার পর সোমবার সকালে পুনরায় চালু হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সৃষ্ট বিঘ্ন কাটিয়ে পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক হয়েছে।
রবিবার বিকেলে হঠাৎ করেই প্রি-ক্লিয়ারেন্স প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত দেখা দিলে যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আগে কানাডার মাটিতেই কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার যে সুবিধা তা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেকেই দীর্ঘ লাইনের আশঙ্কায় পড়েন। এ অবস্থায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে মোবাইল পাসপোর্ট কন্ট্রোল অ্যাপ ব্যবহারের পরামর্শ দেয়।
একই ধরনের সমস্যা দেখা যায় ক্যালগারি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ভ্যাঙ্কুভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, অটোয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং মন্ট্রিয়াল–ট্রুডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও। কিছু বিমানবন্দর যাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত হওয়ার আহ্বান জানায়, যাতে বিলম্ব হলেও ফ্লাইট ধরতে সমস্যা না হয়।
ক্যালগারি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, নেক্সাস কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্তৃপক্ষ পরিচালনা করে এবং এ বিষয়ে তাদের কাছে অতিরিক্ত তথ্য নেই। ভ্যাঙ্কুভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক নোটিশে ইঙ্গিত দেওয়া হয়, পরিস্থিতিটি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের আংশিক শাটডাউনের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আংশিক সরকারি শাটডাউন শুরু হয়, যখন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অর্থায়ন নিয়ে কংগ্রেসে সমঝোতা হয়নি। শাটডাউনের প্রভাবে কিছু প্রশাসনিক কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়ে। এ প্রেক্ষাপটে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, শাটডাউন চলাকালে গ্লোবাল এন্ট্রি কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত থাকতে পারে।
নেক্সাস কর্মসূচি মূলত কম ঝুঁকিপূর্ণ ও পূর্ব-অনুমোদিত ভ্রমণকারীদের জন্য দ্রুত সীমান্ত পারাপারের সুবিধা দিতে চালু করা হয়। কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় যাত্রীরা আলাদা লেন ব্যবহার করে দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারেন। অপরদিকে গ্লোবাল এন্ট্রি প্রোগ্রামও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় স্বয়ংক্রিয় কিয়স্ক ব্যবহারের সুযোগ দেয়, যা সময় সাশ্রয়ী।
রবিবারের এই সাময়িক স্থগিতাদেশ ভ্রমণকারীদের জন্য বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করলেও সোমবার থেকে কার্যক্রম পুনরায় চালু হওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটাই স্বস্তিদায়ক হয়েছে। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রগামী যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বিমানবন্দরে আসা বাঞ্ছনীয়।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সিও জানায়, প্রি-ক্লিয়ারেন্স কার্যক্রম সংক্রান্ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার এখতিয়ার যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃপক্ষের।
সামগ্রিকভাবে, প্রি-ক্লিয়ারেন্স ব্যবস্থার মতো সময়-সাশ্রয়ী উদ্যোগে সাময়িক বিঘ্ন ভ্রমণ ব্যবস্থাপনায় কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, রবিবারের ঘটনা তারই একটি উদাহরণ। যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে, তবুও চলমান শাটডাউনের প্রেক্ষাপটে ভবিষ্যতে এ ধরনের বিঘ্ন এড়াতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

