
একুশের রাতে টরন্টো শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে হঠাৎ দেখি আমার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাউ। মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি ফিরে যাচ্ছিলেন কিন্তু যাবার পথটা ছিল খুবই বেহাল, বরফ আর পানি এড়িয়ে সংকীর্ণ একটা প্যাসেজ দিয়ে যেতে হবে কিন্তু মানুষের ভীড়ে যেতে পারছিলেন না। টরন্টোর পুলিশ মেয়রের অধীনে এবং চারিদিকে অনেক পুলিশ দাঁড়িয়েও ছিল। কিন্তু কোন পুলিশ বা সিকিউরিটি এসে মেয়রকে পার করে দিতে জনগণকে সরিয়ে দিতে দেখা গেল না।
আমার বাসার পানির বিল এবার অস্বাভাবিক বেশী এসেছে। যেখানে পুর্ববর্তী বিল ছিল ৯০০ ডলার এবার এসেছে ১৪০০ ডলার। বিল দেখেই মেজাজ গরম ছিল এবং ভাবছিলাম মেয়রের সাথে দেখা করে কিছু গরম কথা শুনিয়ে দেব। তো হঠাৎ করে শহীদ মিনারে তাকে দেখেই বলে উঠলাম, হ্যালো মেয়র, আমার বাসার পানির বিল এত বেশী কেন? তোমরা কী শুরু করেছো? মেয়র আমার কথা শুনে কিছুটা হতচকিয়ে গেলেন বলে মনে হলো, পাশেই দাঁড়ানো তার সেক্রেটারির মুখের দিকে একবার তাকিয়ে তারপর আমাকে বললেন, দেখ সেরকমতো বাড়ানো হয় নি।

অনেক সময় মিটারে সমস্যা থাকতে পারে, তুমি ৩১১ কল করে বলো বিষয়টা চেক করতে। এটা বলতে বলতেই তাঁর সেক্রেটারি মেয়রের বিজনেস কার্ড বাড়িয়ে দিয়ে যোগাযোগ করতে বললেন। এত ভীড়ের মধ্যেও জনগণের দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার কথা মনযোগ দিয়ে শোনাতে পকেট থেকে ফোন বের করে ক্যামেরা অন করতেই মেয়রের সেক্রেটারি নিজেই আমার ফোনটা হাতে নিয়ে ছবি তুলে দিলেন। মেয়রকে ধন্যবাদ জানিয়ে বললাম এক সময় আমিও তোমার মেয়রের পদের মতই তবে ছোট একটা এলাকার একজন জনপ্রতিনিধি ছিলাম। তিনি কোথায় জানতে চাইলে বললাম, বাংলাদেশে। হাসিমুখে বিদায় নিলেন।
জনপ্রতিনিধি যদি সত্যিকার ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত হন তাহলে তিনি যে কোন জায়গায় যে কোন মানুষের কথা শুনতে বাধ্য, আর এখানেই জনগণের কর্তৃত্ব এবং মালিকানার পরিচয় ফুটে উঠে। আর এই একই কারণে আমার এলাকার জনগণের কাছে ৩৬ বছর পরও দায়বদ্ধতা অনুভব করি এবং বছর শেষে দেশে গেলে সুযোগ হলেই জনগণের কথা শোনার চেষ্টা করি এবং জনগণের সাথে মিশে যাই।

