
কানাডার নিউ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এনডিপি) নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় প্রার্থীরা এখন শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। ব্যালটে জায়গা নিশ্চিত করতে সদস্যদের স্বাক্ষর সংগ্রহ এবং চূড়ান্ত দফায় ২৫ হাজার ডলার তহবিল সংগ্রহ এই দুই চ্যালেঞ্জই এখন প্রার্থীদের সামনে সবচেয়ে বড় বাধা। দলীয় বিধি অনুযায়ী, ব্যালটে থাকতে মোট চার কিস্তিতে নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে হয়। ভোটদানে যোগ্য সদস্যদের তালিকা চূড়ান্ত করা এবং শেষ দফার তহবিল সংগ্রহ উভয়েরই সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ জানুয়ারি।
এই প্রতিযোগিতায় তহবিল সংগ্রহে এগিয়ে থাকার দাবি করেছে আভি লুইসের প্রচার শিবির। লুইসের শিবিরের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত তারা ৭ লাখ ৫১ হাজার ডলারের বেশি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে অন্যান্য প্রার্থীরা এখনো তাদের তহবিল সংগ্রহের প্রাথমিক উপাত্ত প্রকাশ করতে আগ্রহ দেখাননি।
লুইস শিবিরের ওই মুখপাত্র আরও দাবি করেন, তাদের প্রচারণা প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮ হাজার ডলার করে অনুদান পাচ্ছে। ২০২৫ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে ব্যক্তিগত অনুদানদাতার সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার, যা প্রচারণার বিস্তৃতি ও সমর্থনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে শিবিরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, ম্যাকফারসন এবং রব অ্যাশটন উভয় প্রার্থীর শিবিরই জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তহবিল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে বলে তারা আশাবাদী। যদিও তারা নির্দিষ্ট অঙ্ক বা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি।
তহবিল সংগ্রহের এই চিত্র নিয়ে বিশ্লেষণ দিয়েছেন ট্র্যাক্সিয়ন স্ট্র্যাটেজির প্রেসিডেন্ট এবং সাবেক এনডিপি কৌশলী কার্ল বেলাঙ্গার। তিনি বলেন, অন্যান্য প্রার্থীদের তহবিল সংগ্রহ সংক্রান্ত উপাত্ত প্রকাশ না হলে লুইস শিবিরের দাবি পুরোপুরি মূল্যায়ন করা কঠিন। তবে তার মতে, সাত লাখ ডলারের বেশি সংগ্রহ নিঃসন্দেহে একটি শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
নেতৃত্ব প্রতিযোগিতায় রাজনৈতিক বক্তব্য ও কৌশলগত অবস্থানও স্পষ্ট হচ্ছে। কর্মী নেতৃত্বাধীন এনডিপির দাবি তুলে ধরে রব অ্যাশটন রোববার একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি বলেন, দলের এমন কোনো নেতার প্রয়োজন নেই যিনি প্রাদেশিক এনডিপি শাখাগুলোকে কেবল বক্তৃতা শোনান। তাঁর অভিযোগ, “এই কারণেই আভি আমাদের ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছেন।”
এদিকে, প্রতিযোগিতায় একমাত্র বর্তমান এমপি হিসেবে থাকা ম্যাকফারসন দলের ভিত্তি সম্প্রসারণে জোর দিচ্ছেন। তিনি মনে করেন, এনডিপি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ হারাতে বসেছে। তাঁর ভাষায়, দলকে আবার মাঠপর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে হবে এবং সাধারণ ভোটারদের আস্থার জায়গা পুনর্গঠন করতে হবে।
সব মিলিয়ে, নির্ধারিত সময়সীমার আগে স্বাক্ষর সংগ্রহ, অর্থ জোগাড় এবং রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করার দৌড়ে এনডিপি নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা এখন চূড়ান্ত উত্তেজনার দিকে এগোচ্ছে। আগামী ২৮ জানুয়ারি এই প্রতিযোগিতার গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দিন হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

