ছয়জনের বিরুদ্ধে গুপ্তরচরবৃত্তি করেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা

ছয়জনের বিরুদ্ধে গুপ্তরচরবৃত্তি করেছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা - the Bengali Times
কানাডার সাস্কেচুয়ান প্রদেশে রেজাইনা পুলিশ সার্ভিসের আরপিএস শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা যে কার্যত অকার্যকর তা স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন প্রদেশটির প্রাইভেসি কমিশনার

কানাডার সাস্কেচুয়ান প্রদেশে রেজাইনা পুলিশ সার্ভিসের (আরপিএস) শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা যে কার্যত অকার্যকর তা স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন প্রদেশটির প্রাইভেসি কমিশনার। এক পুলিশ কর্মকর্তার দীর্ঘদিন ধরে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যে বেআইনি অনুপ্রবেশের ঘটনায় আরপিএস যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তা অপরাধের গুরুত্বের তুলনায় একেবারেই নগণ্য বলে মন্তব্য করা হয়েছে কমিশনারের প্রতিবেদনে।

১১ ডিসেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আরপিএসের এক কনস্টেবল ক্লিনটন ডুকেট বৈধ কোনো দায়িত্ব বা প্রয়োজন ছাড়াই অন্তত ছয়জন নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যে মোট ৬৭ বার প্রবেশ করেছিলেন। এই অনিয়ম চলেছে ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত, অর্থাৎ টানা তিন বছর, তিন মাস ও ১৫ দিন ধরে।

- Advertisement -

আরপিএসের প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ডস শাখার নিজস্ব তদন্তেই এই গুরুতর অনিয়মের বিষয়টি ধরা পড়ে। তবে তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলেও, ডুকেটের বিরুদ্ধে যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রাইভেসি কমিশনার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় ডুকেটের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তির মধ্যে রয়েছে – মাত্র এক দিনের বেতন কর্তন, এক ঘণ্টার পুনঃগোপনীয়তা প্রশিক্ষণ, আরপিএসের গোপনীয়তা প্রোটোকলে পুনরায় স্বাক্ষর এবং দুই বছরের জন্য নিরীক্ষার আওতায় রাখা।

কমিশনারের মতে, এত দীর্ঘ সময় ধরে বারবার ব্যক্তিগত তথ্যে বেআইনি প্রবেশের মতো গুরুতর লঙ্ঘনের জন্য এই শাস্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রতিবেদনে স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে, এই ধরনের শাস্তি আরপিএসের প্রতি জনআস্থা পুনরুদ্ধারে ব্যর্থ হবে।

প্রতিবেদনে আরও জোর দিয়ে বলা হয়েছে, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আরপিএসকে অবশ্যই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে যদি কোনো কর্মকর্তা ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যক্তিগত তথ্যে অনধিকার প্রবেশ করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা জরুরি।

প্রাইভেসি কমিশনারের মতে, জনগণের জানার অধিকার রয়েছে যে পুলিশ বাহিনী তাদের ব্যক্তিগত তথ্য কতটা নিরাপদে সংরক্ষণ করছে এবং সেই তথ্যের অপব্যবহার হলে তার কী পরিণতি হবে।

এই ঘটনা আবারও কানাডায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জবাবদিহিতা ও তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং ব্যবস্থায় ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার রোধে কঠোর নীতি ও শাস্তির বিকল্প নেই। অন্যথায়, পুলিশের ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আরও গভীর সংকটে পড়বে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles