যে ঘরোয়া পরীক্ষায় বুঝবেন হার্টে ব্লক আছে কি না

যে ঘরোয়া পরীক্ষায় বুঝবেন হার্টে ব্লক আছে কি না - the Bengali Times
প্রতীকী ছবি

হৃদযন্ত্র আমাদের দেহের ইঞ্জিনের মতো। নিরবচ্ছিন্নভাবে রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে পুরো দেহে অক্সিজেন ও পুষ্টি পৌঁছে দেয়। কিন্তু এই ইঞ্জিনের রাস্তায় যখন বাধা সৃষ্টি হয়, তখনই দেখা দেয় বিপদের ইঙ্গিত—যাকে আমরা বলি হার্ট ব্লকেজ।

হৃৎপিণ্ডে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে চর্বি বা প্লাক জমে ধীরে ধীরে ব্লক তৈরি হয়।

- Advertisement -

সমস্যা বাড়ার আগেই শরীর কিছু সংকেত পাঠাতে শুরু করে। সেই লক্ষণগুলো চিনতে পারলে বড় ধরনের জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

ঘরে বসেই হার্ট ব্লকেজ বোঝার কয়েকটি সহজ উপায় তুলে ধরা হলো—

রক্তচাপের নিয়মিত পরীক্ষা ক্ষেত্রে সবচেয়ে সহজ ইঙ্গিত দেয়। প্রতিদিন রক্তচাপ পর্যবেক্ষণ করলে বড় কিছু হওয়ার আগেই তার প্রতিকার করা যায়।

নিয়মিত উচ্চ রক্তচাপ ধমনির শক্ত হয়ে যাওয়া বা রক্তপ্রবাহে বাধার লক্ষণ হতে পারে। এতে হৃদযন্ত্রকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়।

হৃদ্স্পন্দনের ছন্দে নজর রাখাটাও গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, খুব দ্রুত অথবা খুব ধীর স্পন্দন—সবই হতে পারে ধমনীতে পরিবর্তন বা হার্টে চাপ বেড়ে যাওয়ার আগাম সতর্কতা।

সিঁড়ি ওঠার ঘরোয়া পরীক্ষা হার্টের ফিটনেস বোঝার অন্যতম সহজ পদ্ধতি। চারতলা বা প্রায় ৬০ ধাপ সিঁড়ি একটানা উঠে দেখা যেতে পারে শরীর কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়। যদি ৯০ সেকেন্ডে সিঁড়ি উঠে যেতে পারেন, শ্বাসকষ্ট না হয়, বুকে চাপ বা মাথা ঘোরা না আসে তাহলে বুঝতে হবে হৃদযন্ত্র ভালো কাজ করছে।

কিন্তু যদি সিঁড়ি ওঠার সময় বুকে টান ধরে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, পা ভারী লাগে বা মাথা ঝিমঝিম করে—তাহলে রক্তনালিতে ব্লকেজের ইঙ্গিত মিলতে পারে।

এ রকম হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

এঙ্কেল-ব্র্যাকিয়াল ইনডেক্স (এবিআই) টেস্ট করে ব্লকেজের ইঙ্গিত পাওয়া যায়। এই টেস্টে হাত ও গোড়ালির রক্তচাপ তুলনা করা হয়। গোড়ালির রক্তচাপ যদি হাতে তুলনায় কম হয়—তাহলে তা ধমনী সংকুচিত হওয়া বা রক্তপ্রবাহে বাধার ইঙ্গিত দেয়।

এ ছাড়া সাধারণ লক্ষণগুলোর প্রতিও সতর্ক থাকতে হবে। যেমন, বুকে চাপ, মাথা ঘোরা, হাঁটতে বা সিঁড়ি উঠতে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ঘাম, অস্বাভাবিক ক্লান্তি হতে পারে ব্লকেজের প্রাথমিক লক্ষণ।

বর্তমানে স্মার্টওয়াচ, মোবাইল অ্যাপ বা ঘরোয়া ইসিজি ডিভাইস হৃদযন্ত্রের বৈদ্যুতিক সিগন্যাল রেকর্ড করতে পারে। এগুলো হার্টে অতিরিক্ত চাপ বা অনিয়মের তথ্য আগেভাগেই জানাতে সাহায্য করে।

তবে প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। তাই হৃদযন্ত্রের যত্ন নেওয়া উচিত। যেমন, নিয়মিত ব্যায়াম, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, চর্বি ও লবণ কমানো।

এ ছাড়া সময় মতো স্বাস্থ্য পরীক্ষা আপনাকে দীর্ঘকাল ধরে হৃদরোগ থেকে দূরে রাখতে পারে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করতে পারে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles