
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার যোগীপাড়া ইউনিয়নের বাজেকোলা গ্রামে ইভা খাতুন (১৭) নামে এক তরুণীর মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সকালে ইভা খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মৃত্যুতে সন্দেহের জাল বিস্তার করছে এবং পুলিশ এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) বাগমারা থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ইভার গলায় এক ধরনের দাগ পাওয়া গেছে। শরীরে এই চিহ্ন ছাড়া অন্য কোনও চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যা একে সন্দেহজনক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ঘটনার দিন সকালে একটি প্রতিবেশী বাড়িতে গিয়ে ইভাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং তাৎক্ষণিক পুলিশে খবর দেন।
ইভা খাতুন দুর্গাপুর উপজেলার আলিপুর গ্রামের আবুল হোসেনের মেয়ে এবং গত কিছুদিন আগে বাগমারার বাজেকোলা গ্রামের কায়েস হোসেন (১৭) নামের এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে করেন। তাদের সম্পর্কের সূত্রপাত কোচিং ক্লাসে, যেখানে দুজনেরই পড়াশোনা চলছিল। কোচিংয়ে পরিচয়ের পর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে, কিন্তু দুই পরিবারের বয়স নিয়ে আপত্তি থাকায় তারা পালিয়ে গিয়ে রেজিস্ট্রি ছাড়া নিজেদের বিয়ে করে ফেলে।
তাদের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারের মধ্যে বিরোধ ছিল। কায়েসের পরিবারের পক্ষ থেকে এ সম্পর্ক মেনে নেয়নি। কিছুদিন আগে কায়েস এবং ইভা কায়েসের বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, কায়েসের মা তাদের মেনে নেননি এবং খাবারের জন্যও অস্বীকৃতি জানানো হয়। এক প্রতিবেশীর বরাত দিয়ে জানা যায়, ঘটনার একদিন আগে কায়েস তার দোকান থেকে খাবার সংগ্রহ করে নিয়ে গিয়েছিল এবং জানিয়েছিল যে তাদের খাবার দেওয়া হচ্ছে না।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনাটিকে সন্দেহজনক হিসেবে দেখছি এবং ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
এদিকে নিহত ইভার বাবা আবুল হোসেন জানিয়েছেন, তার মেয়ে এবং জামাই কিছুদিন আগে তাদের বাড়ি থেকে কায়েসের বাড়িতে চলে গিয়েছিল। তিনি আরও বলেন, তার মেয়ে কায়েসের পরিবারের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পাচ্ছিল না, যা তাদের জন্য দুঃখজনক ছিল।
এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন এবং পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

