21.7 C
Toronto
মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২

ফেসবুকে ‘ বড়লোক’ পরিচয়ে তরুণীর সঙ্গে প্রেম-বিয়ে, অতঃপর…

- Advertisement -
ফেসবুকে বড়লোক পরিবারের সন্তান হিসেবেই পরিচয় দিয়ে এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন আরিফুল ইসলাম ইমন নামে এক যুবক

পেশায় দোকান কর্মচারী হলেও ফেসবুকে বড়লোক পরিবারের সন্তান হিসেবেই পরিচয় দিয়ে এক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে করেন আরিফুল ইসলাম ইমন নামে এক যুবক। বিয়ের পরে ওই তরুণী ইমনের বাড়ি যাওয়ার পর দেখেন পুরোটা উল্টো। পরে প্রতারিত হয়ে ওই তরুণী আত্মহত্যা করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রে উপপরিচালক সৈয়দ ফারুক আঙ্গাউড়া থেকে ওই তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করেন।

আরিফুল ইসলাম ইমন নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার একলাশপুর গ্রামের বাসিন্দা।

ওই তরুণী কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের আঙ্গাউড়া (পশ্চিম) গ্রামের বাসিন্দা। এ বছর গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি।

ওই তরুণীর মামা বলেন, আমার ভাগনি এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। পরীক্ষার শেষদিন বাড়িতে না আসায় মোবাইলে ফোন করলে জানায় সে নোয়াখালীতে। এরপর তার মোবাইল বন্ধ পাই। পরে ফেসবুকে তার সঙ্গে একটি ছেলের ছবি দেখে তার পরিচয় খুঁজে বের করি। ছেলেটি নাম ইমন, তার বাড়ি নোয়াখালী। পরদিন আমি নোয়াখালী গিয়ে অনেক চেষ্টার পর ছেলেটির সঙ্গে দেখা করি। পরে আমার ভাগনির সঙ্গে দেখা হলে সে আমার সঙ্গে চলে আসবে বলে জানায়।

তিনি আরো বলেন, তখন আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেয়ার কথা বলে ইমনের দুই আত্মীয়কে সঙ্গে করে ওই দিনই ভাগনিকে নিয়ে আমরা বাড়িতে (গৌরীপুরে) চলে আসি। পরে জানতে পারি, ইমন ইঞ্জিনিয়ার, ৫০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি করে, এই বলে প্রতারণা করে গত ৯ অক্টোবর অ্যাফিডেভিট করে আমার ভাগনিকে বিয়ে করে। এরপর ইমন আমার ভাগনির সঙ্গে ওঠানো কিছু উল্টো পাল্টা ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এগুলো দেখে ভাগনি আমাকে জানালে আমি ইমনের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, এটা আমাদের স্বামী স্ত্রীর ব্যাপার।

এ নিয়ে গত দুই দিন যাবৎ ওই তরুণী ঘরে দরজা বন্ধ করে একা থাকত। শুক্রবার বিকেলে ডাকাডাকির পর দরজা খুলছে না। পরে জানালা দিয়ে দেখা যায় ওই তরুণী ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে।

এ বিষয়ে আরিফুল ইসলাম ইমন জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে ওই তরুণীর সঙ্গে দেড় বছর আগে পরিচয়, এরপর প্রেম হয়। দোকানে দশ হাজার টাকা মাসিক বেতনে চাকরির কথা বলেই আমি বিয়ে করেছি। তার সঙ্গে সর্বশেষ ১৬ ডিসেম্বর আমার কথা হয়। আমাকে বলেছিল ২৪ ডিসেম্বর তাকে নিয়ে যেতে। কিন্তু তার মামা আমাদের আসতে নিষেধ করে। এর মধ্যে আজ সে আমাকে ছেড়ে দুনিয়া থেকে চলে গেছে।

গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক সৈয়দ ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ ব্যাপারে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles