অবসর সুনামির সামনে কানাডা

অবসর সুনামির সামনে কানাডা - the Bengali Times
কানাডা দ্রুত এগোচ্ছে এক অভূতপূর্ব অবসর সুনামির দিকে

কানাডা দ্রুত এগোচ্ছে এক অভূতপূর্ব “অবসর সুনামি”–র দিকে। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটির সব বেবি বুমার (১৯৪৬-১৯৬৪ সালে জন্ম নেওয়া প্রজন্ম) অবসরের বয়সে পৌঁছে যাবেন। এর ফলে কানাডার অর্থনীতি, শ্রমবাজার ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্যে ব্যাপক প্রভাব পড়বে এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে রয়্যাল ব্যাংক অব কানাডা (আরবিসি)।

আরবিসির হিসাব অনুযায়ী, বেবি বুমারদের অবসরের ঢেউ শুরু হয় ২০১১ সালে, যখন সবচেয়ে সিনিয়র বুমারদের বয়স ৬৫-তে দাঁড়ায়। ২০২৪ সাল নাগাদ এই প্রজন্মের দুই-তৃতীয়াংশ অবসরের যোগ্য বয়সে পৌঁছে গেছেন। অর্থনীতিবিদ সিন্থিয়া লিচের ব্যাখ্যা অনুযায়ী “বাকি বুমাররাও ২০৩০ সালের মধ্যে ৬৫ বছরে পৌঁছাবেন, যা কানাডার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অবসর ঢেউ তৈরি করবে।” এই ঢেউ সরাসরি প্রভাব ফেলবে কানাডার শ্রমবাজারে, কারণ বর্তমানে কর্মশক্তির একটি বড় অংশই বেবি বুমারদের ওপর নির্ভরশীল।

- Advertisement -

আরবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডা ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে উচ্চ বেকারত্বের চাপ মোকাবিলা করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বেকারত্ব স্বল্পমেয়াদি; খুব শীঘ্রই বুমারদের অবসরের কারণে উল্টো পরিস্থিতি এক তীব্র শ্রমিক সংকট তৈরি হবে।

আরবিসির পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৪–২০৩০ সময়ে শ্রমশক্তিতে অংশগ্রহণ ২% কমে যাবে, গত ১৪ বছরের মোট শ্রমশক্তি হ্রাসকেও ছাড়িয়ে যাবে এই পতন এবং  শ্রমবাজারে বুমারদের প্রভাব হবে “ঐতিহাসিক” মাত্রার। লিচ বলেন, “বর্তমান দুর্বল শ্রমবাজার দেখে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। খুব দ্রুতই কানাডাকে অত্যন্ত আঁটসাঁট শ্রমবাজারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”

উচ্চ মাত্রায় অভিবাসন থাকা সত্ত্বেও শ্রমিক সংকট মেটানো সম্ভব হবে না এমন মত দিয়েছে আরবিসি। ফেডারেল সরকারের বর্তমান অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যৎ প্রবাহ আরও কমবে বলে ধারণা।

আরবিসির অনুমান – ২০২৬ এবং ২০২৭ সালে কানাডার জনসংখ্যা বৃদ্ধি শূন্যের কোটায় নেমে যেতে পারে এবং  ২০২০ থেকে ২০২৭ সময়ে মোট জনসংখ্যা বৃদ্ধি ২০১০–২০১৯ সময়ের গড়ের তুলনায় সামান্য বেশি হলেও তা যথেষ্ট হবে না।

স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তাজা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে কানাডার টোটাল ফার্টিলিটি রেট (টিএফআর) ছিল ১.২৫, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন। তার মানে নারীপ্রতি জন্মের সংখ্যা প্রাকৃতিক জনসংখ্যা বজায় রাখার হার (২.১)-এর অর্ধেকেরও কম।

২০২৪ সালে অতি নিম্ন ফার্টিলিটি হারের দেশের তালিকায় কানাডার পাশাপাশি রয়েছে – সুইজারল্যান্ড (১.২৯), লুক্সেমবার্গ (১.২৫), ফিনল্যান্ড (১.২৫), ইতালি (১.১৮), জাপান (১.১৫), সিঙ্গাপুর (০.৯৭), দক্ষিণ কোরিয়া (০.৭৫) বিশ্বের সর্বনিম্ন হার।

মা হওয়ার গড় বয়স বাড়ছে কানাডায়। ২০২4 সালে প্রথম সন্তান ধারণের গড় বয়স: ৩১.৮ বছর (রেকর্ড সর্বোচ্চ) ১৯৭৬ সালে এটি ছিল ২৬.৭ বছর। বিলম্বিত মাতৃত্বের কারণে দেশের জন্মহার আরও কমছে বলে বিশ্লেষকদের মত।

বুমারদের দ্রুত অবসর, কমতে থাকা ফার্টিলিটি রেট, অভিবাসন নীতির পরিবর্তন এবং শ্রমশক্তি সংকট—সব মিলিয়ে কানাডা এগোচ্ছে এক বড় ধরনের জনসংখ্যাগত চ্যালেঞ্জের দিকে।

অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, কানাডার সামনে এগিয়ে আসছে এক নীরব সংকট যেখানে শ্রমবাজার আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি চাপের মুখে পড়বে।

এই অবসর-সুনামি মোকাবিলায় নীতি পরিবর্তন ও অভিবাসনের ভারসাম্য রক্ষা এখন কানাডার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles