৫ হাজার চাকরির বিপরীতে ৫৪ হাজার আবেদন

৫ হাজার চাকরির বিপরীতে ৫৪ হাজার আবেদন - the Bengali Times
কানাডার অন্টারিও প্রদেশে তরুণদের মধ্যে উচ্চ হারে বেকারত্বের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে জাতীয় চাকরি মেলা সিএনইর সাম্প্রতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে

কানাডার অন্টারিও প্রদেশে তরুণদের মধ্যে উচ্চ হারে বেকারত্বের বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে জাতীয় চাকরি মেলা সিএনই’র সাম্প্রতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে। বুধবার সকাল থেকে নায়াগ্রা ও টরন্টোসহ বিভিন্ন শহর থেকে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী চাকরির আশায় লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কেউ সকাল পাঁচটা থেকেই এসে অপেক্ষা করেছেন সাক্ষাৎকারের সুযোগ পাওয়ার জন্য। দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার পরও তরুণদের মুখে ছিল আশার ছাপ ও কর্মজীবনের নতুন সূচনা পাওয়ার প্রত্যাশা।

চাকরি মেলা আয়োজন করেছে কানাডিয়ান ন্যাশনাল এক্সিবিশন (সিএনই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, এ বছর দুই সপ্তাহব্যাপী চাকরি মেলায় পাঁচ হাজার মৌসুমি পদের বিপরীতে তারা অনলাইনে পঞ্চান্ন হাজারেরও বেশি আবেদন পেয়েছে। আয়োজকদের ভাষায়, এত বেশি আবেদন তারা আগে কখনো পাননি। এটি তাদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেকর্ড।

- Advertisement -

চাকরিগুলোর মধ্যে রয়েছে নগদ অর্থগ্রহণকারী বা ক্যাশিয়ার, খুচরা বিক্রয় সহকারী, গেম স্টলে অ্যাটেন্ডেন্ট, খাবার পরিবেশনকারী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, মিডওয়ে অপারেটর এবং তথ্য প্রদানকারী গাইডের মতো পদ। আয়োজক কমিটির মতে, এসব পদ মৌসুমি হলেও অনেক তরুণের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ, কারণ এখান থেকেই অনেকে পূর্ণকালীন কাজের দিকে অগ্রসর হতে পারেন।

সিএনই জানিয়েছে, বুধবার সকালে প্রায় চার হাজার আবেদনকারী সরাসরি উপস্থিত হয়ে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সকাল ৫টার পর থেকেই প্রার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে শুরু করেন এবং ২৪টি খাবার ও গেম ভেন্ডরের বুথে ধারাবাহিকভাবে সাক্ষাৎকার গ্রহণ চলতে থাকে। দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষারত তরুণদের মধ্যে কেউ কেউ সঙ্গীদের সঙ্গে গল্প করছিলেন, কেউ আবার উদ্বিগ্নভাবে জীবনবৃত্তান্ত হাতে সাক্ষাৎকারের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

আবেদনকারীদের একজন দাতোস রিটা বলেন, গ্রীষ্ম শেষ হওয়ার আগেই একটি চাকরি পাওয়া তার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তিনি জানান, গত কয়েক মাসে তিনি বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফরমে পঞ্চাশটিরও বেশি চাকরির জন্য আবেদন করেছেন, কিন্তু তিনটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া কোথাও থেকে কোনো উত্তরই পাননি। “আমি আজ এসেছি যেকোনো চাকরির জন্য। ক্যাশিয়ার বা গেম অ্যাটেন্ডেন্ট হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা আছে, তাই সেগুলোর জন্য বেশি আগ্রহী,” বলেন তিনি।

আরেক আবেদনকারী আসিফ খান জানান, তিনি ভোর সাড়ে পাঁচটায় মেলায় পৌঁছান। “পুরো সকালটাই লাইন ধরে কাটিয়েছি। এটা একদম বিশৃঙ্খল ছিল, কারণ প্রতি মুহূর্তে নতুন মানুষ আসছে, ভিড় বাড়ছে। এত তরুণ-তরুণীকে চাকরির আশায় একসাথে দেখা সত্যিই অভাবনীয়,” বলেন তিনি।

চাকরি মেলা পরিদর্শনকারী এক পর্যবেক্ষক বেঙ্গলি টাইমসকে বলেন, “এমন বিপুল অংশগ্রহণ আসলে তরুণদের হতাশা ও বাস্তবতার প্রতিফলন। এটি প্রমাণ করে যে বর্তমানে চাকরির সুযোগ সীমিত, অথচ কর্মপ্রত্যাশীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। যারা শিক্ষা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে চান, তাদের জন্য এটি ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।”

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাসে মৌসুমি সমন্বয়ের পর ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার ছিল ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ। যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং ব্যবসা খাতের নিয়োগ কমে যাওয়া তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগকে সীমিত করে দিয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো যে আর্থিক চাপে রয়েছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে এন্ট্রি-লেভেল চাকরিতে। সিএনই’র মতো মেলাগুলো তরুণদের অস্থায়ীভাবে কিছু সুযোগ দিলেও এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। তারা বলছেন, সরকার ও বেসরকারি খাতকে একসাথে কাজ করতে হবে, যাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং তরুণদের দক্ষতাকে বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য করা যায়।

চাকরি মেলার শেষ প্রান্তে দেখা গেছে, অনেক তরুণই হাতে জীবনবৃত্তান্ত নিয়ে এখনও সাক্ষাৎকারের জন্য অপেক্ষা করছেন। কেউ কেউ জানিয়েছেন, তারা পরবর্তী দিনগুলোতেও আবার চেষ্টা করবেন। অনেকের চোখে ক্লান্তি থাকলেও মুখে ছিল হাসি—কারণ চাকরি পাওয়া না পাওয়া যাই হোক, তারা বিশ্বাস করেন, চেষ্টা না করলে সাফল্যও আসে না।

এই দৃশ্য শুধু একটি চাকরি মেলার নয়, বরং এটি আজকের তরুণ কানাডিয়ান প্রজন্মের সংগ্রাম ও আশার প্রতিচ্ছবি।

This article was written by Sohely Ahmed Sweety as part of the LJI.

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles