টিউলিপের বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য!

টিউলিপের বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য! - the Bengali Times
ছবিঃ সংগৃহীত

শেখ হাসিনার ভাগ্নি শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ রিজোয়ানা সিদ্দিক বাংলাদেশের আলোচিত নাম হয়ে উঠেছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দাবি করে আসছিলেন যে তিনি শুধু ব্রিটিশ নাগরিক। কিন্তু এবার নানা তথ্যের মাধ্যমে সেই দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিট টিউলিপ সিদ্দিকের ট্যাক্স ফাইল, ব্যাংক হিসাব ও পরিচয়পত্রের নথি যাচাই করে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য খুঁজে পেয়েছে।

- Advertisement -

সূত্র জানায়, টিউলিপ দীর্ঘদিন যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও তার বাংলাদেশে ট্যাক্স ফাইল ও ব্যাংক হিসাব রয়েছে।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, টিউলিপ সিদ্দিক ২০১৫ সালে লন্ডনের হ্যান্ডমস্টেড অ্যান্ড কিলবার্ন আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। ২০২৪ সালের ৯ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি অর্থনৈতিক সেক্রেটারি ও সিটি মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু একই সময়ে বাংলাদেশে তিনি ট্যাক্স ফাইল জমা দিয়েছেন এবং ব্যাংক একাউন্ট চালিয়েছেন, যা এখন তদন্তের মুখোমুখি।

সূত্র জানায়, ২০০৬ থেকে টিউলিপ নিয়মিতভাবে রিটার্ন জমা দিতে শুরু করেন এবং ২০১৮ পর্যন্ত তা প্রমাণিত। প্রথমে তিনি ধানমন্ডি ৫৪ নম্বর বাসা রোড ৫ ঠিকানা ব্যবহার করলেও ২০১৪-১৫ অর্থবছরে নতুন ঠিকানা দেখান গুলশানের বাসা রোড ১৩। এছাড়া ২০০৭ সালের ১ জুলাই সোনালী ব্যাংকের গণভবন শাখায় তিনি একটি একাউন্ট খোলেন, যার শুরুর স্থিতি ছিল ৬ লাখ ৫৭ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সেই অঙ্ক দাঁড়ায় ৯০ লাখ ৩৩ হাজার টাকায়।

তদন্তে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ট্যাক্স ফাইল খোলার সময় টিউলিপ নিজেকে নিবাসী দেখিয়েছেন, যেখানে নিয়ম অনুযায়ী বছরে অন্তত ১৮২ দিন দেশে থাকতে হবে। অথচ তিনি শুধুমাত্র মাঝে মাঝে ঢাকায় এসে কয়েকদিন থাকতেন।

দুদক আরও অভিযোগ তুলেছে যে, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে টিউলিপ সিদ্দিক, শেখ হাসিনা, মা শেখ রেহানা ও দুই ভাইবোন বেআইনিভাবে সরকারি প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন। দুদকের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে যোগ্যতা এড়িয়ে তারা প্লট দখল করেছেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ বলেন, “টিউলিপ সিদ্দিক একজন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশের পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। অথচ তিনি বরাবরই বলেছেন যে তিনি বাংলাদেশী নাগরিক নন। যদি তিনি বাংলাদেশী নাগরিক হন, দেশের আইনে তার বিচার হতে বাধা নেই। আর যদি ব্রিটেনে তথ্য গোপন করে থাকেন, তবে সেখানে তার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে।”

এই ঘটনার পর টিউলিপ সিদ্দিককে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক ও অনুসন্ধান আরও তীব্র আকার ধারণ করছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles