-14.4 C
Toronto
সোমবার, জানুয়ারী ২৪, ২০২২

ঢাবির ‘ভুতুড়ে’ নিয়মে আবাসিক হলে নিষিদ্ধ বিবাহিত ছাত্রীরা

- Advertisement -

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একটি নিয়ম অনুযায়ী, বিবাহিত ছাত্রীদের আবাসিক হলগুলোতে থাকতে দেওয়া হয়না। তবে, আশ্চর্যজনকভাবে এ ব্যাপারে আদৌতে লিখিত কোনো আইন বা নিয়ম নেই, যা উল্লেখ করা যেতে পারে।

- Advertisement -

তা সত্ত্বেও দেশের শীর্ষ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীহল কর্তৃপক্ষ এই ভুতুড়ে নিয়মের চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপরীতে, বিবাহিত ছাত্রীদের ঢাবির আবাসিক হলে থাকার অনুমতি দেননা, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।

উপাচার্য, উপ-উপাচার্য বা প্রাধ্যক্ষসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এখনও পর্যন্ত কোনো নথিপত্রে এ ধরনের নিয়ম দেখাতে পারেননি।

ঢাবির ছেলেদের আবাসিক হলগুলোর জন্য একই ধরনের ‘নিয়ম’ রয়েছে; তবে কর্তৃপক্ষ কখনই শিক্ষার্থীদের ওপর এটি চাপিয়ে দেন না। এছাড়া, প্রতিটি হলের জন্য ‘নিয়ম’ এক নয় বলেও জানা গেছে।

সম্প্রতি ঢাবির এক ছাত্রীর বিয়ের পর তার আবাসিক হলের সিট বাতিল করা হলে বিষয়টি সামনে আসে।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচিত হয় এবং ছাত্রী হলগুলোতে এই প্রথার বিরুদ্ধে ছাত্রীরা আন্দোলন শুরু করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলে থাকার ক্ষেত্রে অন্তঃস্বত্ত্বা ও বিবাহিত শিক্ষার্থীদের ওপর বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ঢাবির পাঁচটি ছাত্রীহলের শিক্ষার্থীরা।

হল পাঁচটির কক্ষ বরাদ্দের সঙ্গে জড়িত সূত্র জানায়, কোনো শিক্ষার্থী বিবাহিত হলে তাকে অবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে, অন্যথায় তার আসন বাতিল করা হবে। তবে বিবাহিত ছাত্রীদের বিশেষ বিবেচনায় তাদের বর্তমান শিক্ষাবর্ষের জন্য হলে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। কোনো ছাত্রী অন্তঃস্বত্ত্বা হলে, তিনিও আবাসিক হলে থাকতে পারবেন না বলে জানান তারা।

দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (টিবিএস) সংবাদদাতা ছাত্রী হলগুলো যে আইন অনুসরণ করে, তার একটি অনুলিপি পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হলগুলোর শীর্ষ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথাও বলেছেন। কিন্তু কেউই এ বিষয়ে সঠিকভাবে কিছু বলতে পারেননি।

ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান টিবিএসকে বলেন, তারা শীঘ্রই তাদের পরবর্তী বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন। তিনি বলেন, “আমাদের দেখতে হবে এ বিষয়ে আসলে কী বিধান রয়েছে।”

ঢাবির উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল জানান, এ আইন সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।

ঢাবির রোকেয়া হলের প্রভোস্ট প্রফেসর জিনাত হুদা বলেন, “বাংলাদেশে সামাজিক রীতিনীতি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মগুলো চালু রয়েছে।”

তিনি বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই নিয়ম বিদ্যমান। মেয়েদের তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়া রোধ করার জন্য নিয়মগুলো প্রয়োজন, কারণ অনেক অভিভাবক তাদের ছাত্রী সন্তানদের বিয়ে দিতে বাধ্য করেন। এক্ষেত্রে আবাসিক হলের আশ্রয় নিয়ে ছাত্রীরা তাড়াতাড়ি বিয়ে করা থেকে নিজেদের বাঁচাতে পারে।” হলের ওই ‘নিয়ম’ এভাবেই তিনি ব্যাখ্যা করেছেন।

অধ্যাপক জিনাত আরও বলেন, “ছেলেদের হলের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য; যদিও হল কর্তৃপক্ষ তা কখনও প্রয়োগ করে না।”

শামসুন্নাহার হলের প্রভোস্ট প্রফেসর লাফিফা জামাল বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে এটি চালু থাকলেও এখন পরিবর্তনের সময় এসেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।”

ঢাবির শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের প্রভোস্ট দেলোয়ার হোসেন জানান, দিনে রাতে যে কোনো সময় ছেলেরা হলে যাওয়া আসা করতে পারে বলে ছেলে শিক্ষার্থীদের খোঁজ রাখা খুবই কঠিন।

তিনি বলেন, “ছেলেদের আবাসিক হলগুলো কখনই বিয়ের পরে ছাত্রদের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে না, কারণ বিষয়টি এখনও পর্যন্ত কোনো হলে কোনো ধরনের সমস্যা তৈরি করেনি।”

বিজয় একাত্তর হলের প্রভোস্ট আবদুল বশির বলেন, তিনি এ বিধান প্রয়োগ করেননি এবং এ ধরনের কোনো নিয়ম তার জানা নেই।

জহুরুল হক হলের সাবেক প্রভোস্ট অধ্যাপক জাহিদুল ইসলাম বলেন, “আসলে ছাত্রাবাসের আসন সংকটের কারণে এ নিয়ম প্রয়োগ করা হচ্ছে, তবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান করা যেতে পারে।”

ছাত্র আন্দোলনের মুখপাত্র এস কে তাসনিম আফরোজ ইমি বলেন, “অন্তঃস্বত্ত্বা ছাত্রীদেরকে হলের বাইরে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নিষ্ঠুর সিদ্ধান্ত। এমনকি জরুরি অবস্থাতেও ছাত্রীদের রাত ৮টার পরে হলের ভেতরে ও বাইরে যেতে দেওয়া হয় না, যার পরিবর্তন করা দরকার।”

দাবি মানা না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ঢাবিতে অধ্যয়নরত ছাত্রীর সংখ্যা ১৪ হাজার। পাঁচটি ছাত্রী হলে তাদের সংযুক্তি থাকলেও, মাত্র ৮ হাজার ছাত্রী আবাসিক হলের বাসিন্দা।

শনিবার মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (এমবিএসটিইউ) বিবাহিত শিক্ষার্থীদের হল খালি করার নির্দেশ দিয়েছে; সেইসঙ্গে তাদেরকে হলে আসনের জন্য আবেদন করতেও নিষেধ করেছে।

এই ঘটনাটিও সমালোচনার জন্ম দেয় বিভিন্ন মহলে। ফলে এমবিএসটিইউ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য হন।

এমবিএসটিইউর জাহানারা ইমাম হলের প্রভোস্ট নার্গিস আক্তার বলেন, “বিবাহিত শিক্ষার্থীদের হলের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত অমানবিক। আমরা পরবর্তী বৈঠকে এটি নিয়ে আলোচনা করব এবং আমি মনে করি এই বিধানটি বাদ দেওয়া হবে।”

আরও কয়েকটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সাবেক সভাপতি মোতাহার হোসেন টিবিএসকে জানান, বিবাহিত ছাত্রীদের হলে থাকার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগের কোনো নিয়ম তাদের নেই।

তিনি বলেন, “অনেক বিবাহিত শিক্ষার্থী জাবি হলে অবস্থান করছেন। আবাসিক হল থেকে মেয়েদের নিষিদ্ধ করা কোনো ভালো নীতি নয়। তাদের অবশ্যই বিয়ে করার অধিকার আছে এবং একইসঙ্গে হলে থাকারও অধিকার আছে।”

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হলের প্রাক্তন ছাত্রী তাওসিয়া তাজমীম জানান, তার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবাহিত ছাত্রীদের হলে থাকার ব্যাপারে কোনো বাধা নেই।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles