28.4 C
Toronto
শনিবার, জুন ২৫, ২০২২

‘হাজার কোটি টাকার সাংস্কৃতিক উৎসবে আমিই একমাত্র বেকার শিল্পী’

- Advertisement -
‘হাজার কোটি টাকার সাংস্কৃতিক উৎসবে আমিই একমাত্র বেকার শিল্পী’ - The Bengali Times
কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর

বিজয়ের ৫০ বছর উপলক্ষে দেশব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে এই সাংস্কৃতিক উৎসবে একেবারেই বেকার ছিলেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর, তবে এ নিয়ে তাঁর আফসোস ছিল না। গত ১৫ বছরে তাঁর নিয়তিতে এমনটাই হচ্ছে।

ঝিনাইদহে একটি কনসার্টে দীর্ঘদিন পর গাইবার অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখতে গিয়ে বললেন আসিফ আকবর। বললেন, ‘চলমান হাজার কোটি টাকার সাংস্কৃতিক উৎসবে আমিই একমাত্র আফসোসহীন বেকার শিল্পী।’

আসিফ আকবর বলেন, সেই ২০২০ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি টোটাল টিম নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পারফর্ম করেছিলাম। প্রিয় ভাই বন্ধু সোহেল মেহেদীর এসএসসি ৯৩ ব্যাচের রি-ইউনিয়নে আবার একটা শো করার সুযোগ পেলাম এই ১৭ই ডিসেম্বর। ঝিনাইদহের জোহান পার্কে এই শোটা ছিল আমার দম চেক এর চ্যালেঞ্জ। রেকর্ডিং আর প্রগ্রামে বিস্তর ফারাক সব সময়। বেসিক ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে তৈরি শিল্পী আর আমার মতো হঠাৎ শিল্পীর প্রিপারেশনেও আত্মবিশ্বাসের ব্যাপারটা আমি নতমস্তকে স্বীকার করি। দীর্ঘদিন পর নিজের টিমমেটদের সঙ্গে শো করার এক্সাইটমেন্টটা ছিল আলাদা। দেশব্যাপী চলমান হাজার কোটি টাকার সাংস্কৃতিক উৎসবে আমিই একমাত্র আফসোসহীন বেকার শিল্পী।

ঝিনাইদহ যাওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে জনপ্রিয় এই গায়ক লিখেছেন, ‘আরিচার পদ্মা পার হতে হবে, এপারে মানিকগঞ্জ, ওপারে রাজবাড়ী। ফেরি পার হতেই মনে পড়ল তিনটা মেয়ের কথা, ওদের বাড়ি ছিল গোয়ালন্দ ঘাট সংলগ্ন এলাকায়। ও প্রিয়া হিট হওয়ার পর তিন বান্ধবী মিলে আমাকে চিঠি লিখেছিল। আমিও উত্তর দিয়েছিলাম, তাদের ঠিকানা আজও আমার পুরনো ডায়রিতে লেখা আছে। এক অদ্ভূত নস্টালজিয়া কাজ করছিল মনে।

নড়াইল জেলা দেখেই সাকিবের প্রসঙ্গ চলে আসে। আসিফ আকবর বলেন, ‘ফরিদপুর থেকে মাগুরা প্রবেশের আগেই গড়াই নদীর অপরূপ সৌন্দর্যে আবারও মুগ্ধ হলাম। এক রাস্তার ছোট্ট শহর মাগুরায় গিয়ে বিশ্বসেরা সাকিব আল হাসানের বীরত্বের গন্ধ শুঁকতে চাইলাম। কেউ একজন বলল- মাগুরা খুব ছোট একটা জেলা। আমি হাসলাম মনে মনে- যেখানে সাকিবের মতো বিশ্বসেরার জন্ম, সেই জেলা ছোট হলেও চন্দন কাঠের মতোই চির সুগন্ধী হয়ে থাকবে ইতিহাসের পাতায়।’

শেষ ১৫ বছরের নিয়তি সম্পর্কে আসিফ লিখেছেন, “পৌঁছে গেলাম ঝিনাইদহ জোহান পার্কে, ওখানেই শো। নানা কারণে ঘুমহীন ৩৬ ঘণ্টার ক্লান্তি গ্রাহ্য করিনি একটা লাইভ শো’তে সুযোগ পাওয়ার আনন্দে। ফেসবুকে মাইকিং করিনি, কারণ ক্ষমতাসীন শুভাকাঙ্ক্ষীরা কনসার্টটা বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। এটাই আমার শেষ পনেরো বছরের অলিখিত নিয়তি। একটু বিশ্রাম শেষে উদ্দামতা নিয়ে গাইলাম গান। আমার দল দি এ টিম-এর মেম্বাররা জোশ বাজাল অনেক দিনের স্টেজ শোর অতৃপ্তি কাটিয়ে।”

নিজের ওপর আত্মবিশ্বাস নিয়ে আসিফ বলেন, ‘ভেবেছিলাম আমার স্টেজে গাওয়ার দিন হয়তো শেষ। আমরা ’৯৩ ব্যাচ ঝিনাইদহের বন্ধুদের কনসার্ট করে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলাম আবার, ফুরিয়ে যাইনি এখনো। যারা আমাকে অপাঙক্তেয় ভাবছে, তাদের চিন্তার বলিরেখা শুধু বড় হতেই থাকবে দিনে দিনে। বাংলাদেশের গায়ক আমি, রাজনীতির বিষবাষ্প আমাকে ছুঁয়ে গেলেও ভষ্ম করতে পারেনি। ঝিনাইদহ শহরটার সঙ্গে আমার ভালোবাসা ১৯৮৮ সাল থেকে, অনূর্ধ্ব-১৬ ন্যাশনাল ক্রিকেট খেলতে গিয়েছিলাম। বোলার হিসেবে জীবনের প্রথম হ্যাটট্রিক ঐ শহরের স্টেডিয়ামটায়। আনন্দ নিয়ে ফিরেছি ঝিনাইদহ থেকে, যদিও একটু লুকিয়ে কমান্ডো স্টাইলে যেতে হয়েছে। গাইতে তো পেরেছি !! এই আনন্দে বাঁচব আরো কটা দিন ইনশাআল্লাহ। ভালোবাসা অবিরাম…’

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles