21.7 C
Toronto
মঙ্গলবার, আগস্ট ৯, ২০২২

মায়ের দুধ ও ইসলাম

- Advertisement -

মায়ের দুধ পান শিশুর জন্মগত অধিকার। ইসলাম এই অধিকার নিশ্চিত করেছে। আল কোরআনের সূরা আল বাকারার ২৩৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা তোমাদের সন্তানকে দীর্ঘ দুই বছর পর্যন্ত বুকের দুধ পান করাবে।’ এ প্রসঙ্গে সূরা আহকাফে আল্লাহ আরও বলেন, ‘মা তাকে কষ্টের সঙ্গে গর্ভে ধারণ করে এবং দুধ ছাড়াতে লাগে ৩০ মাস।’ সুতরাং শিশুকে দুধ পান করানো মহান আল্লাহর নির্দেশ এবং শিশুর জন্মগত অধিকার। মায়ের দুধ শিশুর জন্য মহান আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ নেয়ামত। শিশুর জন্য মায়ের দুধ সর্বাপেক্ষা উৎকৃষ্ট খাদ্য। যার সমমানের কোনো খাবার নেই।

মায়ের দুধ যেমন পুষ্টিকর তেমনি বিশুদ্ধ, নিরাপদ, আদর্শ, সর্বশ্রেষ্ঠ খাবার। একটি শিশুর দৈহিক-মানসিক সুষ্ঠু, সুন্দর বিকাশের জন্য যেসব খাদ্য উপাদান প্রয়োজন তার সব উপাদানই সঠিক মাত্রায়, সঠিক তাপমাত্রায় বিশুদ্ধ অবস্থায় মজুদ থাকে মায়ের দুধে। তাই জন্মের পর পরই শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। মায়ের দুধকে শিশুর পুষ্টির ভাণ্ডার বলা হয়। খাদ্যের সব উপাদান মায়ের দুধে পরিমাণ মতো বিদ্যমান। জন্মের পর থেকে শিশুকে নিয়মিত মায়ের বুকের দুধ খাওয়ালে শিশুরা সত্যিকারভাবেই বলিষ্ঠ, রোগমুক্ত ও মেধাবী হিসেবে গড়ে উঠবে। তাই শিশুকে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর ব্যাপারে সবাইর যত্নবান হওয়া অত্যন্ত জরুরি। মাতৃদুগ্ধ পানে মায়েদের সচেতন করে তোলার জন্য প্রতি বছর আগস্টের প্রথম সপ্তাহব্যাপী মাতৃদুগ্ধ সপ্তাহ পালন করা হয়।

আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, ‘আমি তো মানুষকে তার পিতা-মাতার প্রতি সদাচরণের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে কষ্টের পর কষ্ট করে গর্ভধারণ করে। এরপর তার দুধ ছাড়ানো হয় দুই বছরে।’ (সূরা লোকমান, আয়াত : ১৪)। অন্য একটি আয়াতে বলা হয়েছে, ‘তাকে গর্ভে ধারণ করতে ও দুধ ছাড়াতে লাগে ৩০ মাস।’ (সূরা আল আহকাফ, আয়াত : ২৫)।

মায়ের বুকের দুধ শিশুর জন্য স্রষ্টার পক্ষ থেকে এক মহান নিয়ামত। মায়ের দুধ বিশ্বস্ত ও নিরাপদ এবং শিশু তা সহজেই হজম করতে পারে। স্তন্যপানে মা ও শিশুর মধ্যে একটি গভীর আত্মিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং শিশু নিজেকে অধিক নিরাপদ মনে করে। আর দুধের মাধ্যমে মায়ের আচার-আচরণ ও স্বভাবের আদান-প্রদান হয়। আল্লাহ তায়ালা আল কোরআনে হজরত মুসা (আ.) এর শৈশবকালীন অবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে এরশাদ করেছেন, ‘মুসা-জননীর অন্তরে আমি ইঙ্গিতে নির্দেশ করলাম যে, তুমি শিশুটিকে দুগ্ধদান করতে থাকো।’ (সূরা আল কাসাস, আয়াত : ৭)।

মায়ের দুধের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে নবজাতক শিশুর সুস্থ ও সবল হয়ে বেড়ে ওঠার বীজমন্ত্র। দুর্যোগ মোকাবিলায় মায়ের দুধ সর্বশ্রেষ্ঠ খাদ্য ও পানীয়। প্রথম ছয় মাস মায়ের দুধই শিশুর খাদ্য ও পানীয়ের চাহিদা মেটায়। মায়ের দুধের অমৃত স্বাদের মধ্য দিয়ে শিশুর শিরায় শিরায়, প্রতিটি রক্তবিন্দুতে যা সঞ্চারিত হয়ে যায়। মায়ের দুধ তখন নবজাতকের কাছে শুধুই খাদ্যপানীয় নয়, প্রাথমিক অবলম্বন, নিরাপত্তার প্রথম নিশ্চয়তা, বিশ্ব সংসারের সঙ্গে প্রথম যোগসূত্রও। দিনে দিনে শিশু যখন বাড়তে থাকে, মাতৃদুগ্ধ তাকে দেয় পর্যাপ্ত জীবনীশক্তি, বৃদ্ধি ও মানসিক বিকাশ। মায়ের দুধ পানে শিশুদের স্মরণশক্তি, বুদ্ধিমত্তা, চোখের জ্যোতি, আচার-ব্যবহার, সামাজিকতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার সুন্দর বহিঃপ্রকাশ হয়। যে নবজাতকের মা শিশুকে দুধ পান করান তার জন্য মাহে রমজানের রোজা পালন করার বাধ্যবাধকতা পর্যন্ত শিথিল করে দেয়া হয়েছে।

মায়ের দুধের কোনো বিকল্প নেই। আমাদের সবার উচিত সবাই মিলে সব মাকে তার নিজ নিজ সন্তানকে মায়ের দুধ খাওয়ার ব্যাপারে সচেতন করা। কারণ মায়ের দুধই হচ্ছে নবজাতকের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ খাবার।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles