
মেট্রোরেলের শেষ স্টেশন ‘উত্তরা উত্তর পেরিয়ে’ গোলচত্বর। গোলচত্বরের শেষ মাথায় মেট্রোরেলের অফিস। অফিস পেরিয়ে পেছনের দিকটায় বিশাল জায়গায়জুড়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। স্কুলে যেতে ছোট ভাঙা রাস্তা। একটা প্রাইভেটকার ঢুকলে রিকশাও ঠিকমতো যেতে পারে না। যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর সরু ভাঙা সড়কের কারণে তাই উদ্ধারকাজে ব্যাঘাত ঘটেছে।
‘হঠাৎ বিকট শব্দে সামনের নারকেলগাছ ভেঙে ভবনে ধাক্কা দেয় বিমানটি। সঙ্গে সঙ্গে আগুন ধরে যায়। তিনতলা ভবনের নিচতলা মাটির নিচে, সেখানে ক্লাস হয় না। বিমানটি সেখানে ঢুকে পড়ে।
গতকাল সোমবার উত্তরা মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাটি এমনভাবেই বর্ণনা করেন প্রত্যক্ষদর্শী কলেজটির নিরাপত্তাকর্মী আকবর হোসেন।
গতকালের এই মর্মান্তিক ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পাইলটসহ অন্তত ২০ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন আরো অন্তত পৌনে দুই শ। রাজধানীর হাসপাতালজুড়ে আহত ও তাদের স্বজনদের আর্তচিৎকার আর বিষাদময় আহাজারি।
সরকার অনাকাঙ্ক্ষিত মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় এক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে।
জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গতকালও শিশু শিক্ষার্থীরা ক্লাস শেষ করে মাত্র বের হয়েছে। কেউ কেউ তাদের মা-বাবা ও স্বজনদের জন্য অপেক্ষা করছিল। ঠিক ওই সময়, দুপুর ১টার পর হঠাৎ বিমানটি আছড়ে পড়ে ভবনের ওপর।
মুহূর্তের মধ্যে সব ওলটপালট হয়ে যায়। ভয়ংকর বিস্ফোরণে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে।
বিমানটি মাইলস্টোন স্কুলের ৫ নম্বর ভবনে আছড়ে পড়ে। ওই ভবনে দুটি তলা মিলে মোট ১৬টি ক্লাস রুম। এর মধ্যে প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস হতো।
ছুটির পর ভবনটিতে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কোচিং করছিল। ভবনটির তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস রুমের সামনে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।
মাইলস্টোন কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘ঘটনার সময় আমাদের প্রথম থেকে সপ্তম শ্রেণির ক্লাস চলছিল। হঠাৎ বিকট শব্দে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। শিক্ষকরা দ্রুত তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে তৎপর হন। আমরা সঙ্গে সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা করি।’

