
প্রতারণা ও চাঁদাবাজির অভিযোগে রাজধানীর ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা মামলায় জব্দ থাকা মোবাইল ফোন, আইপ্যাড ও পাসপোর্ট নিজের জিম্মায় চেয়ে আবেদন করেছেন মেঘনা আলম। গতকাল রোববার তিনি আদালতে হাজির হয়ে বলেন, ‘আমাকে গ্রেপ্তার নয়, বাসা থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। একজন মিস বাংলাদেশকে হেনস্তা করা বৈশ্বিকভাবে লজ্জার।’
গতকাল সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলামের আদালতে হাজির হন মেঘনা আলম। আদালতে মেঘনার আইনজীবী মহসিন রেজা পলাশ ও মহিমা ইসলাম বাঁধন জব্দ থাকা মোবাইল, আইপ্যাড ও পাসপোর্ট নিজ জিম্মায় চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক পরে আদেশ দেবেন বলে জানান।
শুনানি শেষে মেঘনা আলম বলেন, ‘গত ৯ এপ্রিল আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলা ভুল হবে। আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল। কারণ গ্রেপ্তার করার একটি আইনি প্রক্রিয়া থাকে, সেটা মানা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ, মামলা বা ওয়ারেন্ট ছিল না। আইনের লোক হোক বা না হোক, আমার বাসায় এসে তাৎক্ষণিকভাবে হামলা চালিয়ে জোর করে নিয়ে যায়। এটাকে আইনি ভাষায় অপহরণ বলে, গ্রেপ্তার বলে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘মিডিয়ায় আমাকে মডেল বলে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু প্রোফেশনাল আইডেনটিটি হচ্ছে আমি একজন পলিটিক্যাল লিডারশিপ ট্রেইনার।’ কেন মডেল পরিচয় দিতে চান না জানতে চাইলে ‘মিস আর্থ বাংলাদেশ’ বিজয়ী মেঘনা আলম বলেন, ‘আমাদের সমাজে মডেলদের নিয়ে বিভিন্ন ভুল ধারণা আছে। যে কারণে মানুষরা ধরেই নেয় মডেলরা কেমন হয়। আমি এ পেশাকে সম্মান জানিয়ে বলছি, আমার পরিচয় প্রথমতো মডেল নয়। ২০২০ সালে আমি মিস আর্থ বাংলাদেশ জয়ী হয়ে বাংলাদেশকে রিপ্রেজেন্ট করি। একজন মিস বাংলাদেশকে এভাবে মিথ্যা মামলায় হেনস্তা করা শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় বৈশ্বিকভাবে লজ্জার।’
নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মেঘনা আলম বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের একটা বিষয়ে পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমার বিরুদ্ধে কোনো রাষ্ট্রদূতের ফরমাল অভিযোগ নেই। যে রাষ্ট্রদূতের (সৌদি সাবেক রাষ্ট্রদূত) কথা বলা হচ্ছে, তিনি যদি ক্ষতিগ্রস্ত হন বা ভিক্টিম হন আদালতে এসে প্রমাণ দিয়ে যাক। মিথ্যা মামলা চালিয়ে রাষ্ট্র ও আমার বা সেই রাষ্ট্রদূতের কোনো লাভ হচ্ছে না।’
এর আগে গত ৯ এপ্রিল বাসা থেকে আটক হন মেঘনা আলম। পরদিন ১০ এপ্রিল বিশেষ ক্ষমতা আইনে ৩০ দিনের আটকাদেশ দিয়ে মডেল মেঘনা কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২৮ এপ্রিল ডিটেনশন আইনে মেঘনা আলমের ৩০ দিনের আটকাদেশ বাতিল করা হয়। ওইদিনই কারামুক্তি হন তিনি। এরপর থেকে তিনি জামিনে আছেন।
তার বিরুদ্ধে দায়ের করা চাঁদাবাজি মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, মেঘনা আলম, দেওয়ান সমিরসহ অজ্ঞাত দুই থেকে তিনজন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা বিভিন্ন সুন্দরী মেয়েদের দিয়ে বাংলাদেশে কর্মরত বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্রের কূটনীতিক বা প্রতিনিধি ও দেশীয় ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপন করিয়ে কৌশলে বিভিন্ন উপায়ে অবৈধ পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে তাদের সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায় করে আসছে।

