
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত, সমালোচিত ওবায়দুল কাদের লম্বা সময় গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর এখন মুখ খুলেছেন। বিবিসি বাংলার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে মি. কাদের এখনো বাংলাদেশে কার্যত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকার কথা দাবি করেছেন। প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতায় অবস্থান করে সেখান থেকে কথা বলা শুরু করেছেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, সরকার পতনের আভাস তিনি আগেই পেয়েছিলেন। বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ৫ আগস্ট যেভাবে ঢাকায় জনস্রোত নেমে আসে, তা কেউই ঠিকমতো বুঝে উঠতে পারেননি। এমনকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের মন্ত্রীরাও সেভাবে প্রস্তুতি নিতে পারেননি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও আগেভাগে সঠিক তথ্য দিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ওবায়দুল কাদের জানান, ৪ আগস্ট রাতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক হয়। সেখানে বিভিন্ন বাহিনীর পক্ষ থেকে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ওই বৈঠকে সেনাবাহিনী, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিভিল প্রশাসন এবং আওয়ামী লীগের এমপি ও মন্ত্রীরাও উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, “আভাস অবশ্যই ছিল। তবে তা নিয়ে বিভিন্নজনের নানা অভিমত ছিল। বাস্তবে যেভাবে ৫ আগস্ট একটি বিস্ফোরণের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা এতটা সুসংগঠিতভাবে ঘটবে আমরা ভাবিনি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও সেই বাস্তবতাকে ঠিকঠাকভাবে বুঝিয়ে তুলতে পারেনি।”
তবে ওবায়দুল কাদের স্পষ্ট করে বলেন, তারা পরিস্থিতি পুরোপুরি বুঝতে পারেননি, এমন নয়। কিন্তু এটা যে সরাসরি সরকার পতনের দিকে যাবে, তা তারা কল্পনা করতে পারেননি। নিজেদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা, ভুল বিশ্লেষণ এবং চর্চা চলছে বলেও জানান তিনি।
বর্তমানে ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে সংগঠনকে নতুনভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন বলে জানান কাদের। ভবিষ্যতে দেশে শান্তি ফিরে এলে এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ পেলে দেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইতেও তারা পিছপা হবেন না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

