-4.6 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৭, ২০২২

শীত এলেই ভাগ্য খোলে ওদের

- Advertisement -

সারি সারি মাটির চুলা জ্বলছে, প্রতিটি চুলার উপরে বসানো হয়েছে ‘খোলা’। একটু পরপর খোলার ঢাকনা তুলে কড়াইতে তুলে দিচ্ছেন চালের গুঁড়ার ‘গোলা’। কয়েক মিনিট রেখেই গরম গরম চিতই পিঠা নামিয়ে প্লেট ধরিয়ে দিচ্ছেন ক্রেতাদের হাতে। প্লেটের এক পাশে দেয়া হচ্ছে পছন্দ মতো সরিষা ভর্তা, ধনে পাতা ভর্তা, মরিচ ভর্তা ও চিড়িং মাছের শুটকি ভর্তা। এমন দৃশ্য মাদারীপুর শহরের পুরাতন জেলখানার পূর্ব পাশে।

- Advertisement -

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জেলা শহরের শতাধিক স্থানে শীত এলেই যেন ভাগ্য খুলে যায় এসব মৌসুমি পিঠা বিক্রেতাদের। প্রতিদিন পিঠা বিক্রি থেকে আয় হয় ৩০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা। পিঠা বিক্রেতারা প্রত্যেকেই নিম্ন আয়ের মানুষ, আর্থিকভাবে খুবই অস্বচ্ছল। শীত মৌসুম এলেই তারা স্বল্পপুজি নিয়ে বাড়তি আয়ের আশায় পিঠা বিক্রি করে থাকে। এই পিঠা বিক্রি করেই শীতের তিন থেকে চার মাস তাদের জীবিকা নির্বাহ করে থাকে।

একাধিক পিঠা বিক্রেতার সাথে আলাপ করে জানা গেছে, শীতের রাতে গরম গরম পিঠার সাথে পরিচিত মাদারীপুরের প্রতিটি স্থানীয়রা। এখানে চিতই পিঠা খুবই জনপ্রিয়। সন্ধ্যা হওয়ার সাথে সাথে পিঠাপ্রেমীরা ভিড় জমায় এই ফুটপাতে বসা পিঠার দোকানে। লাইন দিয়ে পিঠা খায় তারা। কেউ কেউ খেয়ে আবার বাসার লোকজনের জন্য নিয়েও যায়। মাদারীপুরের শকুনি লেকের চারপাশেই রয়েছে প্রায় ২০ থেকে ২৫টি পিঠার দোকান যা শুধু শীত মৌসুমেই বসে। এছাড়াও শহরের কলেজ রোড, চৌরাস্তা, পুরান বাজার, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, খাদগী, মস্তফাপুর, চরমুগরিয়াসহ নানা জায়গায় ভ্রাম্যমাণ পিঠা বিক্রির দোকান। এখানে প্রতি পিস চিতই পিঠা বিক্রি হয় ৫ টাকা দরে। বিকাল থেকে শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে পিঠা বিক্রি।

মাদারীপুর শহরের ডিসি ব্রিজ এলাকার রাসেল তালুকদার বলেন, ‘বাসায় পিঠা তৈরি করা এখন অনেক কষ্টকর। তাই বাজারের পিঠা তার পরিবারের সদস্যদের জন্য কিনে নিয়ে বাসায় যাচ্ছি। খরচও খুব বেশি না। বাড়িতে বানাতে যে কষ্ট আর আর্থিক খরচ, তারচে এটাই বেস্ট।’

আরেক ক্রেতা হাফিজ মিয়া জানান, ‘সন্ধ্যার পরে হালকা কুয়াশায় প্রচণ্ড ঠান্ডা অনুভব হয়, তখন ভ্রাম্যমাণ এ পিঠার দোকান থেকে আমি পিঠা খেয়ে থাকি। চিতই পিঠা আমার খুব পছন্দ। শীতের ভেতর উনুনের পাশে দাঁড়িয়ে পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা।’

পিঠা বিক্রেতা আলতাব হোসেন বলেন, ‘শীতের মৌসুমে এলেই আমি পিঠা বিক্রি করে থাকি। অন্য মৌসুমে আমি দিন মজুরের কাজ করে থাকি। সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ক্রেতা থাকে। গত বছরের চাইতে এবার চাল, লাকড়ির দাম অনেক বেশি, তাই আগের মতো তেমন লাভ হয় না।’

আরেক পিঠা বিক্রেতা শরীফা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী একজন দিনমজুর। সংসারের কিছুটা হাল ধরতে আমি পিঠা বিক্রি করি। তাছাড়া শীতে আমার স্বামীর তেমন কাজ থাকে না। তাই সেও মাঝে মধ্যে আমাকে পিঠা বিক্রি করতে সাহায্য করেন। তবে এখানে মাঝে মাঝে স্থানীয় বখাটেরা পিঠা খেয়ে টাকা দেয় না। পুলিশকে বললেও কাজ হয় না।’

এ ব্যাপারে মাদারীপুর উন্নয়ন সংগ্রম পরিষদের সভাপতি মাসুদ পারভেজ বলেন, ‘স্বল্প আয়ের এসব মানুষের শীত এলে ভাগ্য খোলে। তাই তারা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যবসা করতে পারে, সেবিষয়ে সকলের সহযোগিতা করা উচিত। কেউ বাধা দিলে কাজটা অমানবিক হবে।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘কিছু স্থানে উন্মুক্তভাবে পিঠা তৈরি করতে দেখা যায়, তবে অনেক সময় তাদের অসাবধানতার কারণে বড় দুঘর্টনাও ঘটতে পারে। তাই তাদের নির্দিষ্ট স্থানে পিঠা তৈরি করা উচিত। তাদের কেউ বিরক্ত করার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

সূত্র : ঢাকাটাইমস

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles