15.4 C
Toronto
শনিবার, আগস্ট ১৩, ২০২২

ইলমার ওপর ‘অমানসিক নির্যাতন চালাত’ স্বামী ও শ্বশুরবাড়ি

- Advertisement -
ইলমা চৌধুরী মেঘলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃত্যকলা বিভাগের ১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থী ইলমা চৌধুরী মেঘলার (২৬) ওপর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন অমানসিক নির্যাতন চালাত বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজন ও সহপাঠীরা।

মঙ্গলবার রাতে ইলমার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ছুটে আসেন তার সহপাঠী এবং শিক্ষকরা। রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে ইলমা চৌধুরী মেঘলার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ইলমার খালু ইকবাল হোসেন জানান, ইলমা ঢাকার ধামরাই উপজেলার সাইফুল ইসলামের মেয়ে। কানাডা প্রবাসী স্বামী ইফতেখারের বনানীর বাসায় থাকতেন। ঢাবি নৃত্যকলা বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী ছিলেন।

তিনি আরো জানান, ৬ মাস আগে কানাডা প্রবাসী ইফতেখার আবেদীনের সঙ্গে বিয়ে হয় ইলমার। পাঁচ দিন আগে কানাডা থেকে ঢাকার বাসায় আসে তার স্বামী।

ইকবাল অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাগ্নিকে স্বামী এবং শশুড় বাড়ির লোকজন মেরে ফেলেছ। আমরা এর বিচার দাবি করছি। ইলমার শরীরে আমরা অনেক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়েছি। গলায়ও আঘাতের চিহ্ন দেখেছি। ইলমা আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে হত্যা করা হয়েছে।

সসহপাঠীরা অভিযোগ করেন, ইলমার ওপর অমানসিক নির্যাতন চালাত তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। সহপাঠী মজিদা নাসরিন মম বলেন, বিয়ের আগ পর্যন্ত বেগম সুফিয়া কামাল হলে থাকতো ইলমা। বিয়ের পর থেকে বনানী শশুরবাড়িতে থাকতো। গত সেপ্টেম্বরে তার সঙ্গে শোষ দেখা হয়। একটি পরীক্ষা দিতে আসছিল। এর পরে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। আমরা শুনেছি তার স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজন কারো সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিত না। প্রতিনিয়ত সন্দেহ করতো ওকে।

মজিদা নাসরিন অভিযোগ করে বলেন, এমনকি ফোন দিলেও শাশুড়ি রিসিভ করতো। আমরা ওর শরীরের আঘাতগুলো দেখেছি। ওর শশুড়বাড়ির লোকজন বলেছে আত্মহত্যা করেছে। ইলমা কোনোভাবে আত্মহত্যা করে নাই। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

নৃত্যকলা বিভাগের প্রভাষক তামান্না রহমান বলেন, আমরা ইলমার শরীরের আঘাত দেখেছি। এটা কোনোভাবে আত্মহত্যা মেনে নেওয়া যায় না। আমি শুনেছি ইলমা যখন গত সেপ্টেম্বরে বিশ্বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল তখন ওর সঙ্গে একজন বডিগার্ড ছিল। কতটা অবিশ্বাস এবং সন্দেহ করতো তাকে।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরে আজম মিয়া জানান, সন্ধ্যার দিকে সংবাদ পেয়ে ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করি। শরীরের অনেক জায়গায় পুরাতন ও নতুন জখম রয়েছে।

ওসি আরো জানান, পরিবারের লোকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইলমার স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় রাখা হয়েছে। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles