ধর্মঘটী কানাডা পোস্ট কর্মীদের মানবিক উদ্যোগ, ফুড ব্যাংক ও শিশুদের সান্তা চিঠিতে সহায়তা

ধর্মঘটী কানাডা পোস্ট কর্মীদের মানবিক উদ্যোগ, ফুড ব্যাংক ও শিশুদের সান্তা চিঠিতে সহায়তা - the Bengali Times
বড়দিনের উৎসবকে সামনে রেখে তারা স্থানীয় ফুড ব্যাংকের মাধ্যমে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং কমিউনিটির শিশুদের সান্তা ক্লজকে লেখা চিঠি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন

চলমান ধর্মঘটের চাপ সত্ত্বেও টরন্টোর কানাডা পোস্টের কর্মীরা মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে এসেছেন। বড়দিনের উৎসবকে সামনে রেখে তারা স্থানীয় ফুড ব্যাংকের মাধ্যমে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছেন এবং কমিউনিটির শিশুদের সান্তা ক্লজকে লেখা চিঠি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এই উদ্যোগ ইতিমধ্যেই টরন্টোর সামাজিক মহলে ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত সপ্তাহে নর্থ ইয়র্ক হারভেস্ট ফুড ব্যাংকে (NYHFB) শুরু হয়েছে নতুন এক ক্যাম্পেইন “স্প্রেডিং ক্রিসমাস চিয়ার: ব্রিঙ্গিং দ্য কমিউনিটি টুগেদার ফর লাভ, কেয়ার অ্যান্ড গিভিং”। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দিয়েছেন কানাডা পোস্টের মেইল ক্যারিয়ার নাহান ফাহে, যিনি কানাডিয়ান ইউনিয়ন অব পোস্টাল ওয়ার্কার্সের সহায়তায় ক্যাম্পেইনটি চালু করেন।

- Advertisement -

ক্যাম্পেইনের আওতায় টরন্টোর পরিবারগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে যাতে তাদের শিশুরা সান্তা ক্লজকে লেখা চিঠি ১১৬ ইন্ডাস্ট্রি স্ট্রিট-এর ফুড ব্যাংকে জমা দিতে পারে। পাশাপাশি, যারা সক্ষম, তাদের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে কিছু অপচনশীল খাদ্য সামগ্রী দান করার। ফুড ব্যাংকের ভেতরে বিশেষভাবে দানবাক্স স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চিঠি এবং খাদ্য সামগ্রী রাখা যাবে। এই কার্যক্রম চলবে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত, যাতে বড়দিনের আগেই শিশুদের চিঠিগুলো সংগ্রহ এবং বিতরণের ব্যবস্থা করা যায়।

কানাডা পোস্টের কর্মীদের দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্য হলো দেশজুড়ে শিশুদের সান্তা ক্লজকে লেখা চিঠি সংগ্রহ ও প্রস্তুত করা। তবে চলমান ধর্মঘটের কারণে সরকারি উদ্যোগটি এ বছর স্থগিত ছিল। তবুও, কর্মীরা তাদের নিজস্ব মানবিক প্রচেষ্টায় এই প্রথা অব্যাহত রাখছেন। নাহান ফাহে বলেন, “শিশুরা যেন তাদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই কারণেই আমরা নিজেদের উদ্যোগে এগিয়ে এসেছি।”

ফুড ব্যাংকের কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে যে, ধর্মঘটী কর্মীদের সহায়তায় তারা চিঠিগুলো প্রক্রিয়াজাত করার জন্য ফুড ব্যাংকের বৃহৎ গুদামঘর খুলে দিয়েছে। এতে কর্মীরা সেখানে বসে চিঠি সাজানো এবং প্রস্তুত করার কাজ করতে পারছেন।

টরন্টোর সামাজিক প্রেক্ষাপট: ফুড ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, টরন্টোতে বর্তমানে প্রায় ২ লাখ মানুষ খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ শিশু। বড়দিনের সময়ে খাদ্যের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। তাই এই ক্যাম্পেইন কেবল শিশুদের আনন্দই নয়, বরং অসংখ্য পরিবারের জন্য খাদ্য সহায়তারও সুযোগ তৈরি করছে।

সমাজকর্মীরা এই উদ্যোগকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাদের মতে, ধর্মঘটের সময়ও কর্মীদের মানবিক উদ্যোগ প্রমাণ করছে যে, কমিউনিটির সেবা কেবল চাকরি বা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং মানুষের দায়বদ্ধতা ও সহানুভূতির ওপরও দাঁড়িয়ে।

ধর্মঘটের উত্তেজনা পেছনে ফেলে কানাডা পোস্টের কর্মীরা যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা টরন্টোর সামাজিক জীবনে এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। এটি শুধু শিশুদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে না, বরং অসহায় পরিবারগুলোর জন্যও এক বড় সহায়তা হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles