অর্থনীতির মন্দা ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ

অর্থনীতির মন্দা ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পদক্ষেপ - the Bengali Times
কানাডার অর্থনীতিকে মন্দার চক্র থেকে বের করতে ব্যাংক অফ কানাডা আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার ৩৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩২৫ শতাংশে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে

কানাডার অর্থনীতিকে মন্দার চক্র থেকে বের করতে ব্যাংক অফ কানাডা আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার ৩.৭৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩.২৫ শতাংশে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ব্যাংকের গভর্নর জানিয়েছেন, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের শুল্ক হুমকি এবং অভ্যন্তরীণ ভোক্তা ব্যয়ের দুর্বলতা এই পদক্ষেপের মূল কারণ।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে কানাডার জিডিপি প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত দশ বছরে অন্যতম নিম্নতম। একই সময়ে বেকারত্ব বেড়ে হয়েছে ৬.৯ শতাংশে। খুচরা বিক্রি প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে, আর ব্যবসায় বিনিয়োগও সংকুচিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, সুদের হার কমানো হলে ঋণ নেওয়া সহজ হবে, যা ভোক্তা ব্যয় এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগকে পুনরুজ্জীবিত করবে।

- Advertisement -

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গৃহঋণ বাজারে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে পড়বে। বর্তমানে অন্টারিও এবং ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় বাড়ির গড় মূল্য যথাক্রমে ৮.৯ লাখ ও ১০.৫ লাখ ডলার। উচ্চ সুদহার অনেক পরিবারকে বাড়ি কেনার বাইরে ঠেলে দিয়েছিল। সুদহার হ্রাসের ফলে গৃহঋণের মাসিক কিস্তি গড়ে ২০০–৩০০ ডলার পর্যন্ত কমতে পারে, যা নতুন ক্রেতাদের বাজারে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি করবে।

তবে সমালোচকরা সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, সুদহার কমানো আবাসন বাজারকে আবার অতিরিক্ত উত্তপ্ত করতে পারে। টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভারের আবাসন খাত ইতিমধ্যেই গত দশকে কানাডার একটি বড় অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া, তারা বলছেন, মুদ্রাস্ফীতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসার আগেই সুদহার কমানো হলে এর বিপরীত প্রভাবও দেখা দিতে পারে। বর্তমানে কানাডার মুদ্রাস্ফীতি ৩.৪ শতাংশ, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য ২ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নবনির্বাচিত প্রশাসনের শুল্কনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭২ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়। বিশেষ করে গাড়ি, ইস্পাত ও কৃষিপণ্য খাত সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সুদহার হ্রাসের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করা হলে সম্ভাব্য ক্ষতির কিছুটা ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হতে পারে।

সাধারণ জনগণ এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি অনুভব করলেও উদ্বেগও রয়েছে। গৃহঋণ ও ভোক্তা ঋণের কিস্তি কমলে হাতে খরচ করার অর্থ বেড়ে যাবে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে ঋণের বোঝা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। বর্তমানে কানাডার পারিবারিক ঋণ জিডিপির ১৮৭ শতাংশ, যা উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম উচ্চ।

শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রভাবের সম্ভাবনা রয়েছে। ছোট ও মাঝারি ব্যবসা সহজে ঋণ পেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সরকারের অনুমান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে প্রায় ১.২ লাখ নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে। তবে এর জন্য ভোক্তা আস্থা ফিরে আনা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সবমিলিয়ে, ১১ ডিসেম্বর ঘোষিত সুদহার হ্রাস কানাডার অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। স্বল্পমেয়াদে এটি মন্দার হাত থেকে অর্থনীতিকে রক্ষা করতে সহায়ক হলেও, দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রাস্ফীতি এবং আবাসন খাতে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কানাডার অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে সরকারের অন্যান্য নীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles