19.9 C
Toronto
শনিবার, জুলাই ১৩, ২০২৪

বিদায় কানাডা

বিদায় কানাডা
বিদায় কানাডা

আমার পরিচিত একজন মেয়ে তার নাম হলো অদিতি। সে একজন ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট। দুই বছরের ডিপ্লোমা শেষ করে চাকরি করে। সে তিন বছরের ওয়ার্ক পারমিটে আছে। এমনকি অদিতি এক বছর কাজ করার পর PR ( permanent resident) এর জন্যও ফাইল সাবমিট করেছে। তার দুই বছর ওয়ার্ক পারমিট ডান। আছে হাতে আর একবছরের ওয়ার্ক পারমিট। অপেক্ষা কীভাবে কী হয় সেই ভরসায়।

তার বোন এসেছিল কানাডায় তারও বছর খানিক আগে স্টুডেন্ট ভিসায়। তার নাম হলো প্রিয়া। প্রিয়া যখন ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হয়েছিল টরন্টোর একটা কলেজে সেটা ছিল এক বছর মেয়াদি কোর্স। যে এজেন্সি তাকে ভিসা প্রসেসিংয়ে সাহায্য করেছিল সে এজেন্সি তাকে এক বছরের কোর্সে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল ও নানা পরামর্শ দিয়েছিল। বলেছিল পরে আরেক বছরের কোর্স করলে তুমি তিন বছরের ওয়ার্ক পারমিট পাবে ইত্যাদি। এভাবে ঐ এজেন্সি তাকে এক বছর মেয়াদি কোর্সে ভিসা পাইয়ে কানাডায় আসতে সাহায্য করে।

- Advertisement -

প্রিয়া তার এক বছরের কোর্স শেষ করে ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করে। এখানে একটুখানি বলে নিচ্ছি। যারা এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করবে তারা এক বছরের ওয়ার্ক পারমিট পাবে। দুই বা তার অধিক বছরের কোর্সের জন্য ওয়ার্ক পারমিট হবে তিন বছরের।

তবে এক বছরের ওয়ার্ক পারমিটে PR এর টার্গেট পয়েন্টস ওঠানো মুশকিল। তিন বছর হলে সুবিধা হয়। বর্তমানে তো তিন বছরের ওয়ার্ক পারমিটেও অনেকের টার্গেট পয়েন্টস ওঠাতে ঘাম ঝরছে।

যাই হোক ফিরে আসি প্রিয়ার কাছে। যেহেতু সে এক বছরের ওয়ার্ক পারমিটে ছিল তাই সে PR এর জন্য ফাইল ওপেনও করে ঐ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই। সে সময় ছিল জেনারেল express entry এর পয়েন্টস 400 এর মতো। প্রিয়ার IELTS সহ টোটাল মার্কস হাতে ছিল 370 এর মতো। 30 পয়েন্টস বিহান্ড।

এর মধ্যে তার কপালের সুখ চন্দন বাঁ দিকে ঘুরে দাঁড়াল। অর্থাৎ এক বছর পর তার ওয়ার্ক পারমিট শেষ হয়ে গেল। এখন উপায়? ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া সে লিগ্যালি কোনো কাজ পাবে না। আবার থাকাও যাবে না। কোনো একটা কাঠের ঠুকরো ধরে তো মহা সমুদ্রের বুকে কিনারায় পৌঁছানোর চেষ্টা করতে হবে।

তারপর প্রিয়া করল কি সে সাত-সতেরো না ভেবে ভিজিটর ভিসার আবেদন করল। এটাই তো একমাত্র উপায় ছিল তার। ছয় মাস পর কানাডা ত্যাগ করে আবার আসা যায় এটাই হলো সাধারণ ভিজিটরদের বেলায় নিয়ম। অসাধারণ ভিজিটরদের বেলায় অন্য নিয়ম। অসাধারণ আবার কারা? তারা হলেন যারা কোনো LMIA approved জব অফার পেয়ে ওয়ার্ক পারমিটে থাকবেন তাদের ছয় মাস পর না গেলেও হয়।

কিন্তু প্রিয়ার বেলায় অসাধারণ ভিজিটর হওয়া সম্ভব না। কারণ সে অলরেডি PR এর ফাইল জমা দিয়েছে। আবার তাকে কানাডায় থাকতেও হবে। তাই সে প্রতি ছয় মাস পরপর ভিজিট ভিসা বর্ধিত করে করে প্রায় দুই বছরের মতো পার করেছে। আর জীবনধারণের জন্য তো কিছু করা লাগবে। লিগ্যাল কোনো কাজ তো হওয়ার কথা না ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া। তাই সেই কাজ করেছে ক্যাশে। তাতে দিন চলে গেলেও মনের আকাশের দুঃচিন্তা দূর হয় নি একবিন্দু। হবেই বা কীভাবে? তার এক বছরের ওয়ার্ক পারমিট শেষ হলে সে একটা কলেজে আরেক বছরের একটা কোর্সে ভর্তি হয়। ভেবেছিল এটা তার পয়েন্টস ওঠাতে সাহায্য করবে বা ওয়ার্ক পারমিট ফের পেতে সাহায্য করবে। কিন্তু কপাল ভালো না হলে সব দিক থেকে প্রতিকূলতা নেমে আসে। তার সে আশা ফলপ্রসূ হয় নি। দ্বিতীয়বার কোর্স থেকে সে PR এর জন্য কিছুটা পয়েন্টস ওঠাতে পারলেও দ্বিতীয়বার সে আর ওয়ার্ক পরমিট পায় নি। ফলে তাকে সেই তিমির কুঠিরের থাকতে হয়েছে। ভিজিট ভিসায় থাকা আর ক্যাশে কাজ করা। PR পেতে এসবের কোনোই অবদান ছিল না। স্টুডেন্টদের একবার ওয়ার্ক পারমিট শেষ হলে দ্বিতীয়বার আর পাওয়া যায় না। তাহলে তো সবাই সারাজীবন ওয়ার্ক পারমিটেই থেকে যেতে পারত।

তারপর সে একের পর এক বিভিন্ন মানুষের পরামর্শে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় নি। হয়েছে ভুলের ওপরে আরেক ভুল। একবার ভুল হলে তারপর সঠিক সিদ্ধান্ত না নিতে পারলে ভুলের বোঝা বাড়তেই থাকে। প্রিয়ারও তাই হয়েছে সোজা কথায়।
এভাবে তো আর দিন যায় না আশা-নিরাশা দোদুল্যমানে। এখনো পর্যন্ত তার কোনো পজেটিভ রেসপন্স আসে নি।

এদিকে সে কানাডা ছেড়ে একবার চলে গেলে আর আসতে পারবে না সহজ নিয়মে। কারণ তার ওয়ার্ক পারমিট নেই। আর ভিজিট ভিসার মেয়াদও দশ বছরের জন্য না। অন্য কোনো নিয়মে আসতে পারলে সে হয়তো আসতে পারবে ভবিষ্যতে।

প্রিয়ার আর কোনো রাস্তা নেই। সে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে। দুই দিন পরে উড়াল দেবে ব্যাকহোমে প্রিয়া। তারপর সে চেষ্টা করবে ইউক’তে যাওয়ার। সেখানে তার প্রেমিক পুরুষ থাকে। যখন কাগজ এপ্রুফড হবে তখন সে ইউকে’তে যেতে পাবরে। ভালোবাসার মানুষটার পাশে থাকতে পারবে। অন্তত ভালোবাসার মিল বন্ধনে তার অতীতের সব ব্যর্থতা, না পাওয়ার কষ্ট মোচনের চেষ্টা করা যাবে। এই ভালোবাসার শক্তি এমনই যা অন্য সব কিছু হারানোর ব্যথা ভুলিয়ে দেয়। প্রেমিকের হাতে হাত, চোখে চোখ তারপর বিভোর সুখ স্বপ্নে বিলীন হওয়া কম কিছু নয় কানাডিয়ান PR এর চেয়ে।

ইউকে’তে স্থায়ীভাবে থাকার চেষ্টা করবে। সেখানে স্থায়ী হতে পারলে পরে সে কানাডায় আসার জন্য অন্যভাবে চেষ্টা করবে। কারণ এদেশে সে রেখে যাচ্ছে তার প্রাণপ্রিয় ছোট বোনটাকে। তবে সেসব সবই কল্পনার কথা। বাস্তব যেটা হতে পারে প্রিয়জনের সান্নিধ্য পাওয়া। জীবনে এটারও খুব বেশি দরকার আছে। তাই তার মধ্যে হাহাকার এতটা নেই। বরং চাপা উত্তেজনা, এক পরম শিহরণ সারা শরীরে বয়ে যাচ্ছে। হাসি মুখেই সে জানাচ্ছে বিদায় কানাডা।

আমার পরামর্শ : এমন অবস্থা হলে যেমন এক বছরের কোর্সে আসলে আসার পর দুই বছরের কোর্সের জন্য আবেদন করা। তাহলে তিন বছরের ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া যাবে।

আল্লাহ আপনাদের সুস্থ রাখুন।

টরন্টো, কানাডা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles