17.1 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৫, ২০২৪

বংশরক্ষার জন্য একাধিক যুবককে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ, অতঃপর…

বংশরক্ষার জন্য একাধিক যুবককে দিয়ে স্ত্রীকে ধর্ষণ, অতঃপর...
প্রতীকী ছবি

স্বামীর বিরুদ্ধে বংশরক্ষার জন্য একাধিক যুবককে দিয়ে ধর্ষণ করানোর অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বারুইপুর থানা এলাকার এক নারী। ওই নারী এবং তার স্বামী— দু’জনেই থ্যালাসেমিয়ার বাহক। দম্পতির দুই সন্তানই থ্যালাসেমিয়ায় ভুগে অল্প বয়সেই মারা যায়। ওই নারীর দাবি, তাদের দুটি সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় মারা যাওয়ায় তিনি আর মা হতে চাননি।

কিন্তু স্বামী ‘বংশরক্ষার’ তাগিদে তার পরিচিত তিন যুবকের রক্ত পরীক্ষা করান। প্রথমে তাদের মধ্যে একজনের সঙ্গে তাকে সহবাস করতে বাধ্য করেন। কিন্তু, তিনি সন্তানসম্ভবা না হওয়ায় আবার অন্য যুবককে দিয়ে তাকে ধর্ষণ করিয়েছেন স্বামী। এভাবে একাধিকবার তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

- Advertisement -

এরপর ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেও ছেড়ে দেয় পুলিশ। স্বামীকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েও নিরাপত্তার অভাববোধ করেন তিনি। নারীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জেল থেকে মুক্তি পেয়ে গিয়েছেন অভিযুক্তরা। তার পর থেকে তিনি আতঙ্কে রয়েছেন। আপাতত বাড়িছাড়া। বার বার আশ্রয় বদল করেছেন। শেষমেশ তিনি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি ছিল।

এরপরই ওই নারীকে ধর্ষণের ঘটনায় তার স্বামীর বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হয়নি? কেন হেফাজতে নেওয়া হয়নি তাকে? প্রশ্ন তুলেছে কলকাতা হাইকোর্ট। অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা জানতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিংহের প্রশ্ন, প্রথমে অভিযোগ পাওয়ার পরে পুলিশ কেন অভিযুক্ত স্বামীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়নি। কেনই বা লিখিত অভিযোগের জন্য অপেক্ষা করেছিল পুলিশ। এই মামলায় তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে কেন পদক্ষেপ করা হবে না, সেই প্রশ্নও তোলেন বিচারপতি সিংহ।

বৃহস্পতিবার এই মামলা চলাকালীন পুলিশকে নির্যাতিতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সিংহ। পাশাপাশি এই মামলাতে ১২ জুন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ১৩ জুন রাত ৯টা পর্যন্ত বারুইপুর থানার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

বিচারপতি সিংহের নির্দেশ, বারুইপুর পুলিশ সুপারের অফিসেরও ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে। সেখানে ১৩ জুনের রিপোর্ট সংরক্ষণ করে রাখতে হবে। এই মামলায় রাজ্যের কাছেও রিপোর্ট চেয়েছে হাই কোর্ট। আগামী ৩০ জুলাই মামলার পরবর্তী শুনানি। ওই দিন আদালতকে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্টও জমা দিতে হবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles