27.7 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, জুন ২০, ২০২৪

আড়াই বছর পর মায়ের কোলে ছোট্ট জিসান

আড়াই বছর পর মায়ের কোলে ছোট্ট জিসান
মা সীমা আক্তারের কোলে জিসান পাশে নানি ঝর্ণা খাতুন

৫ বছর বয়সী জিসান কখনো নানির কোলে, আবার কখনো হাঁটছে। তার দুই চোখ যেন কাউকে খুঁজছে। নানি তাকে বললেন, ‘আর একটু সময়, এখনই চলে আসবে।’ অবুঝ জিসান বিশ্বাস করতে পারছে না। কারণ এমন আশ্বাস সে আগেও অনেকবার পেয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা পায়নি।

ঘড়ি কাঁটায় দুপুর সাড়ে ১২টা। সীমান্তের ওপার থেকে কয়েকজন পুরুষের সঙ্গে এক নারী বাংলাদেশে আসছেন। জিসানে চোখে–মুখে তখন আনন্দের ঝিলিক। প্রায় আড়াই বছরের অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো। দুই দেশের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জিসানের নানি ঝর্ণা খাতুন নাতিকে বলেন- ‘এই যে তোমার মা।’ ছোট্ট জিসান তখন এক লাফে মায়ে কোলে উঠে গলা জড়িয়ে ধরে বলে, ‘আমাকে রেখে এতদিন কোথায় ছিলে। আমি আর তোমাকে যেতে দেব না।’ মা-ছেলের এমন আবেগময় মুহূর্তে দেখে কেউ চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি।

- Advertisement -

বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছেন জিসানের মা সীমা আক্তার (২৩)। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের কৃষ্ণপুর ভুঁইয়াপাড়ার আবু বক্কর সিদ্দিকের মেয়ে। ২০২২ সালের মার্চে কাজের সন্ধানে দালালের মাধ্যমে অবৈধপথে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যান সামী। সেখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। ভারতের ত্রিপুরায় নিযুক্ত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের মাধ্যমে তাকে আড়াই বছর পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

সীমা আক্তার জানান, তার এক বান্ধবী পার্লারে কাজের কথা বলে তাকে ভারতে পাঠিয়ে ছিলেন। সিরাজগঞ্জ থেকে বাসে করে ফেনী পর্যন্ত সীমার সঙ্গে যান ওই বান্ধবী। পরে রাতে এক দালাল তাকে অবৈধপথে কাঁটাতারের বেড়া পার করে ভারতীয় এক দালালের হাতে দিয়ে চলে যান। সেখান থেকে সীমাকে আগরতলা বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। তাকে ব্যঙ্গালুরের একটি ফ্লাইটের টিকিট দিয়ে চলে যান ভারতীয় দালাল। বিমানবন্দরেই তিনি ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন। পরে আদালতে নেওয়া হলে বিচারক তাকে দুই বছর কারাদণ্ড দেন। সাজা শেষে চার মাস আগে সামীকে ত্রিপুরা রাজ্যের নরসিংগড় ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়া হয়। এই চার মাস তিনি সেখানেই ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের মাধ্যমে তিনি আজ দেশে ফিরেছেন। আড়াই বছর পর পরিবার ও সন্তানকে কাছে পেয়ে তার ভালো লাগছে।

সীমা আক্তারের মা ঝর্ণা খাতুন বলেন, আড়াই বছর আগে নাতিকে রেখে কাজের জন্য ঢাকা যাচ্ছে বলে বাড়ি থেকে বেড় হয় সীমা। অনেক খুঁজাখুঁজির পর মেয়ের সন্ধান না পেয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় জিডি করি। ৮ মাস আগে পুলিশের মাধ্যমে জানতে পারি- আমার মেয়ে ভারতের জেলে আছে। এই কয়েক বছর আমি আমার নাতিকে বুকেপিঠে আগলে রাখেছি। মেয়ের জামাইও মেয়ের জন্য অপেক্ষায় আছে।

মেয়ের জামাই আসেননি কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, সে গার্মেন্টসে চাকরি করে। ছুটি না দেওয়ায় আসতে পারেনি। এতদিন পর মেয়েকে পেয়ে আমার খুব ভালো লাগছে।

ত্রিপুরায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের কর্মকর্তা (কনস্যুলেট) ওমর শরীফ বলেন, একজন বাংলাদেশি নারীকে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করেছি। তিনি কাজের সন্ধানে পাসপোর্ট ছাড়া সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেন। পরে ভারতের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে আটক করে। ভারতের আদালতের মাধ্যমে তিনি সাজা ভোগ করেন। দুই দেশের প্রক্রিয়া শেষে আজ তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া ইমিগ্রেশন ইনচার্জ মো. খাইরুল আলম, উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম, আখাউড়া আইসিপি ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার রুহুল আমিন প্রমুখ।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles