যৌন কেলেঙ্কারির তালিকায় যেসব ক্রিকেটার

- Advertisement -
ক্যারিবিয়ান তারকা ক্রিস গেইল

যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়কত্ব ছাড়লেন টিম পেইন। শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) হোবার্টে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে এই ঘোষণা দেন তিনি। তবে শুধু টিম পেন নয়, ক্রিকেটে যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িয়েছেন একাধিক ক্রিকেটার থেকে আম্পায়াররা। বিশেষ করে তালিকায় রয়েছে একাধিক অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটারের নাম। খবর এশিয়ানেট নিউজের।

মূলত মাঠের বাইরের আপত্তিকর এক ঘটনার কারণে দায়িত্ব ছেড়েছেন টিম পেইন। ২০১৭ সালে তাসমানিয়া ক্রিকেটের এক সাবেক নারী কর্মীকে ‘সেক্সটিং’র অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের জুনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ও ক্রিকেট তাসমানিয়ায় অভিযোগ করেন সেই নারী। তবে তখন করা তদন্তে পার পেয়ে যান পেইন। প্রায় সাড়ে তিন বছর পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাচ্ছে দেখে পদত্যাগ করেন অজি তারকা।

- Advertisement -

যৌন কেলেঙ্কারির ঘটনার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি স্পিনার শেন ওয়ার্ন। তখন ২০০০ সাল। স্টিভ ওয়ার অস্ট্রেলিয়া দলের ডেপুটি ছিলেন ওয়ার্ন। সেই সময়ে ব্রিটিশ নার্স ডোনা রাইটকে পাঠানো ওয়ার্নের যৌন উত্তেজনামূলক ফোনবার্তা ফাঁস হয়। সামনে আসে একাধিক অশ্লীল মেসেজও। যার ফলস্বরূপ সহঅধিনায়কের পদ খোয়াতে হয় ওয়ার্নকে।

এর ঠিক তিন বছর পরে আবারও যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়ান ওয়ার্ন। এক মডেলের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। পরবর্তীকালে সেই মডেল আবার শেনের ফিটনেসের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ২০০৬ সালে ফের এক বার যৌন বিতর্কে উঠে আসে ওয়ার্নের নাম। এছাড়া, একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, ২০১১ সালে আইপিএলে স্টেডিয়ামে প্রকাশ্যে তৎকালীন বান্ধবী এলিজাবেথ হারলেকে চুম্বন, ওয়ার্ন সবই ঘটিয়েছেন।

- Advertisement -

এই ব্যাপারে ওয়ার্নের সঙ্গে যিনি পাল্লা দিতে পারেন, তিন ক্যারিবিয়ান তারকা ক্রিস গেইল। ২০১২ সালের টি২০ বিশ্বকাপের সময় গেইলকে হোটেলের ঘরে তিনজন ব্রিটিশ নারীর সঙ্গে হাতানাতে ধরা হয়েছিল। যা নিয়ে খুব বিতর্ক হয়েছিল। এছাড়াও নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে গেইলের বিরুদ্ধে। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপে এক নারী কর্মী গেইলের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃতভাবে যৌনাঙ্গ দেখানোর অভিযোগ করেন।

- Advertisement -

সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার ইয়ান বোথামের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি এক অস্ট্রেলীয় পরিচারিকার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছেন। মিস বার্বাডো়জ লিনডি ফিল্ডের সঙ্গেও বথামের যৌন কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে।

ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা কেভিন পিটারসনের বিরুদ্ধেও উঠেছিল যৌন নির্যাতনের অভিযোগ। দক্ষিণ আফ্রিকার সুন্দরী ভ্যানিসা নিমোর সঙ্গে একাধিকবার সহবাসের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ভ্যানিসা জানিয়েছিলেন, কেপি নাকি তাকে দিনের মধ্যে বহুবার যৌনমিলনের জন্য জোর করতেন। যা নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি।

নারী মহলে পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার শহীদ আফ্রিদির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। একবার তার কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়ে যায়। সিঙ্গাপুরে একটি প্রতিযোগিতা খেলতে পাকিস্তান দলের সঙ্গে রওনা হওয়ার আগে করাচির একটি হোটেলের ঘরে বেশ কয়েকজন নারীর সঙ্গে আফ্রিদিকে পাওয়া যায়। সঙ্গে ছিলেন পাকিস্তানের আরও দুই ক্রিকেটার হাসান রাজা এবং আতিক-উজ-জামান। তিনজনকেই পরের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির দল থেকে বাদ দেওয়া হয়।

বাকি ক্রিকেটাররা ধরা পড়ে গেলেও হার্শেল গিবসকে ধরা পড়তে হয়নি। দক্ষিণ আফ্রিকার এই সাবেক ক্রিকেটার আত্মজীবনী ‘টু দ্য পয়েন্ট’-এ নিজেই সব গড়গড় করে বলে দিয়েছেন। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে হোটেলের ঘরে নারী কর্মীর সঙ্গে কী হয়েছিল, তা গিবসের বই পড়লেই জানা যাবে।

নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররাও বাদ যাননি যৌন নির্যাতনের অভিযোগ থেকে। ২০০৫ সালে ক্রাইস্টচার্চে ২৩ বছর বয়সী এক নারী কর্মীর সঙ্গে টাফির যৌন সম্পর্কের ছবি ফাঁস হয়। যদিও পরে ওই নারী টাফিকে চেনেন না বলেই দাবি করেন ও বিতর্কে ধামাচাপা পড়ে।

লাটভিয়ার মডেল জেলিনা কুলতিয়াসোভার সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কে জড়ান দক্ষিণ আফ্রিকার গতি তারকা আন্দ্রে নেল। কিন্তু তিনি যে বিবাহিত, তা ওই নারীকে জানাননি। নারী নিজেই এই তথ্য খুঁজে বের করেন। নেলের সঙ্গে সম্পর্কের কথা ফাঁস করে দেন।

২০০৫ সালে গোটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের বিরুদ্ধে যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ ওঠে। সে বার অস্ট্রেলিয়া সফরে ছ’টির মধ্যে পাঁচটি ম্যাচে হারতে হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। দলের স্পন্সর ‘ডিজিসেল’ রেগে আগুন হয়ে যায়। তাদের কর্মকর্তা হোটেলের ঘরে ক্রিকেটারদের যৌন সম্পর্কের কথা ফাঁস করেন। সেই বছর একই অভিযোগ ওঠে শ্রীলঙ্কা দলের বিরুদ্ধেও। শ্রীলঙ্কা পুলিশ একটি পতিতালয়ে হানা দেয়। জানা যায়, সেটি চলে শুধু ক্রিকেটারদের জন্যই। ১০ বছর ধরে সেখানে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের যাতায়াত। এক পুলিশকর্মী ক্রিকেটার সেজে সেখানে গিয়ে গোটা ব্যাপারটি ধরে ফেলেন। আট নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যৌন কেলেঙ্কারির তালিকায় নাম রয়েছে ভারতীয় ক্রিকেটার মোহাম্মদ শামিরও। ক্রিকেটারের স্ত্রী হাসিন জাহানের অভিযোগ, শামির সঙ্গে একাধিক নারীর সম্পর্ক রয়েছে। হাসিনের দাবি, এ নিয়ে বলতে গেলে তার ওপরে অত্যাচারও চালিয়েছেন শামি। যদিও এই বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন।

শুধু ক্রিকেটার নয়, বাদ যাননি আম্পায়ারও। পাকিস্তানের আম্পায়ার আসাদ রউফের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছিলেন এক ভারতীয় মডেল। তাদের কিছু ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছিল। যদিও রউফ অভিযোগ অস্বীকার করেছিলন। কিন্তু ছবি প্রকাশ্যে আসায় সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল রউফকে।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles