13.7 C
Toronto
মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৬, ২০২৪

স্ত্রীর ফোনে আড়ি পেতে ১৯ কোটি টাকা আয়!

স্ত্রীর ফোনে আড়ি পেতে ১৯ কোটি টাকা আয়!

বাড়ি থেকেই অফিস করতেন স্ত্রী। সেই সুযোগে তার ফোনে আড়ি পেতে ১৮ লাখ ডলার বা প্রায় ১৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা কামিয়েছেন স্বামী। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে। মার্কিন সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের রিপোর্টে উঠে এসেছে এই ঘটনার বিশদ বিবরণ।

- Advertisement -

জানা গেছে, অভিযুক্ত স্বামীর নাম টেইলার লুডন। তার স্ত্রী ব্রিটিশ কোম্পানি বিপি পিএলসিতে কর্মরত। করোনা মহামারিচলাকালীন বাড়িতে বসেই কাজ করতেন টেইলারের স্ত্রী। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিপি পিএলসি ঘোষণা করে, মার্কিন কোম্পানি ট্রাভেল সেন্টারস কিনতে চলেছে তারা। এই লেনদেন সংক্রান্ত পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন টেইলারের স্ত্রী। অফিসের অন্য কর্মীদের সঙ্গে তিনি যখন আলোচনা করতেন, সেই ফোনকলগুলোতে আড়ি পাততেন টেইলার।

সিকিউরিটিস অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন জানিয়েছে, স্ত্রীর ফোনে আড়ি পেতে জানতে পারেন বিপি পিএলসি ৭৪ শতাংশ পিমিয়াম দামে আমেরিকার ট্রাভেল সেন্টারস কিনতে যাচ্ছে। এই তথ্য কাজে লাগিয়ে ট্রাভেল সেন্টারসের একের পর এক শেয়ার কেনা শুরু করেন টেইলার। পুরাতন পড়ে থাকা অ্যাকাউন্টও সচল করেন।

এভাবে ১ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা। তবে শেষ পর্যন্ত কয়েকদিন আগে নিজের সমস্ত কীর্তি স্ত্রীর কাছে স্বীকার করেন টেইলার। সমস্ত ঘটনা শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়েন টেইলারের স্ত্রী। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। দিনকয়েকের মধ্যেই ডিভোর্সেরও আবেদন করেন তিনি।

শুধু তাই নয়, নিজের সংস্থার আধিকারিকদের গিয়ে গোটা বিষয়টি জানিয়ে দেন। তাতে উলটে নিজের বিপদ ডেকে আনেন। স্বামীর কুকর্মের সঙ্গী ছিলেন, এই অভিযোগ এনে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় টেইলারের স্ত্রীকে।

তবে একের পর এক অভিযোগের মুখে পড়ে আড়ি পেতে কামানো অর্থ ফিরিয়ে দিতে রাজি হয়েছেন টেইলার। তার আইনজিবী পিটার জিডেনবার্গ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। অপরদিকে বিপি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে।

কোভিড-১৯ মহামারীর শুরুতে বাড়ি থেকে অফিস করার চল শুরু হওয়ার পর থেকে এসইসি একাধিক ইনসাইডার-ট্রেডিং কেস পেয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বাড়ি থেকে কাজ করার সময় আড়ি পাতা বা তথ্য দেখে ফেলা। এতে ‘ওয়ার্ক ফর্ম হোম’ রীতি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, নায়রাল্যান্ড

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles