6.6 C
Toronto
রবিবার, এপ্রিল ২১, ২০২৪

চোখে-মুখে সুপার গ্লু লাগিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ নয়, বিবস্ত্র করে চুরির দাবি

চোখে-মুখে সুপার গ্লু লাগিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণ নয়, বিবস্ত্র করে চুরির দাবি

খুলনায় চোখে-মুখে সুপার গ্লু ও মুখে টেপ দিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনাটিকে চুরি বলে দাবি করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী নারীকে বিবস্ত্র করে লাঞ্ছিত করে অভিযুক্ত এনামুল বলে দাবি পুলিশের। শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে খুলনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করা হয়।

- Advertisement -

ওই ঘটনায় পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর গ্রামের ইমামুল জোয়াদ্দার ওরফে এনামুল, তার মা রাশিদা বেগম, ক্রেতা স্বর্ণ ব্যবসায়ী সুমন হালদার ও সহযোগী আব্দুস সামাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় এনামুলের কোমরে গোজা জিন্স প্যান্টের নিচ থেকে লোড অবস্থায় এক রাউন্ড তাজাগুলিসহ একটি অন সুটার গান, ১০০ পিস ইয়াবা, চেতনানাশক ট্যাবলেট ও সিগারেট জব্দ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার বলেন, ইমামুল জোয়াদ্দার ওরফে এনামুল জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে সে রাতের বেলায় দু-তিনদিন রাড়–লী গ্রামের ষষ্টিতলা বাজার সংলগ্ন মাঠের পাশে ভিকটিম জাহানারা বেগমের বাড়ির দক্ষিণ পাশে মেহগুণি বাগানে নেশা করতে গিয়েছিল। গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে সে ওই বাড়ির কাছে গিয়ে দেখে ওই মহিলা একা জাল বুনছে। এনামুল পরিকল্পনা অনুযায়ী মাগরিবের নামাজের পর ঘরের সানসেট ধরে ছাদের উপরে উঠে সিঁড়িঘর দিয়ে নিচে নেমে সিঁড়ির নিচে ভাত দেখতে পায়। এরপর সে ভাতে চেতনানাশক ট্যাবলেট মিশিয়ে আসে। রাত ২টার দিকে ছাদ দিয়ে তার ঘরে প্রবেশ করে এনামুল। এ সময় ওই নারীর জ্ঞান ফিরে এলে সে তার মুখ চেপে ধরে চোখে—মুখে সুপার গ্লু লাগিয়ে দেয়। একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হলে এনামুল শাবল দিয়ে তার ঘাড়ে আঘাত করে। এতে রক্তক্ষণ হওয়ার পর গৃহবধূ অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর এনামুল তার হাত-মুখ বেঁধে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। গৃহবধূর জ্ঞান ফিরে আসলে সে তার হাত খুলে ফেলে। তখন এনামুল রাগান্বিত হয়ে তার বুকে কামড় দেয়। এ সময় ওড়নার একপাশ দিয়ে পেছন থেকে হাত ও অন্যপাশ দিয়ে তার পা বাধে। আরেকটি ওড়না দিয়ে তার মুখে বাধে। ভুক্তভোগীর গোঙানিতে পাশের বাড়ির একজন নারী চোর চোর বলে ঘরের বেড়ার টিনে বাড়ি দিলে এনামুল একটি মোবাইল ফোন ও কানের দুটি দুল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরের দিন এনামুল পার্শ্ববর্তী ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগর বাজারে গিয়ে ৪ হাজার টাকায় কানের দুল বিক্রি করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার জানান, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এনামুল রাত ৪টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে গদাইপুর গ্রামের কেসমত সরদারের বাড়ি প্রবেশ করে একটি সিম্ফনি মোবাইল ফোন ও একটি কানের দুল চুরি করে। চুরি করা মোবাইল ফোনটি সে তার মাকে দেয় ও কানের দুলটি চুকনগর বাজারের মা জুয়েলার্সে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে। উক্ত দোকানের মালিক সুমন হাওলাদারকে আটক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আদালতের মাধ্যমে আসামি এনামুলকে রিমান্ডে এনে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে পাইকগাছা উপজেলার রাড়–লী গ্রামের একটি বাড়িতে চুরি করতে এসে চোখে-মুখে সুপার গ্লু দিয়ে এক গৃহবধূকে (৪৫) ধর্ষণ করার অভিযোগ ওঠে চোরের বিরুদ্ধে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকালে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেলে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। এখনো তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

সূত্র : দেশ রূপান্তর

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles