6.4 C
Toronto
রবিবার, মার্চ ৩, ২০২৪

অঞ্জনের সঙ্গে

অঞ্জনের সঙ্গে
যুগ যুগ পর দেখা হলো বন্ধু অঞ্জন দত্তের সঙ্গে

জানুয়ারী গোটা দিন ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে ঢাকা আন্তর্জাতীক ফিল্ম ফেস্টিভ্যলে ছিলাম। যুগ যুগ পর দেখা হলো বন্ধু অঞ্জন দত্তের সঙ্গে। মঞ্চে নিজর জীবনের ডানে বাঁমে শৈশবকাল মধ্যকাল অভিনয়ে মৃণাল সেন তাকে কেমন এক চিলের মত তিনি যেন খরগোস ছানা ছোঁ মেরে তুলে এনে ছিলেন বলে গেলো অঞ্জন। উপস্থাপক চলচ্চিত্র্র বোদ্ধা বিধান রিবেরু এক সাথে মঞ্চে দীর্ঘ কথামালা শেষ হতে তারা পেছনে গ্রীনরুমে চলেে গেলেন।

একটু জিরিয়ে গায়ক রূপে আবার আসতে হবে অঞ্জনকে। এই ফাঁকে আমি মঞ্চে উঠে পেছনে গিয়ে গ্রীনরুমে টোকা দিলাম।দরজা খুলতে ভেতরে ঢুকে অঞ্জনের দিকে এগিয়ে যেতে কিছু বলার আগেই দুই হাত মেলে জড়িয়ে ধরলো। অবাক লাগে সেই ১৯৮৪ পর দেখা তবে ঠিকই মনে আছে।

- Advertisement -

সেই তখন বিটপী এ্যাডভর্টাইজিং কোম্পানি ৩৫ তোপখানায় রোডে কাজ করি। কলকাতার হিন্দুস্তান থমসন এ্যাড এজেন্সীর দুই বড় কর্তা অভিনেতা ধৃতিমান চ্যাটার্জী ও শ্রীরূপ গুহঠাকুর এসে ছিলেন ঢাকায় একবছরের জন্যে আর্ট ডিরেক্টর হতে ট্রেনিং এ একজন কে নিয়ে যাবেন। বিটপীর বিশাল আর্ট সেকশানের মধ্যে আমাকেই তারা পছন্দ করলেন। সেই আমার এক বছর একটানা কলকাতা বাস।

রীতিমত সকাল সন্ধ্যা বালিগঞ্জে হিন্দুস্তান থমসনে অফিস করা। তখন সেখানে অঞ্জন দত্ত ফুল টাইম কপি রাইটার। মৃণাল সেনের ‘খারিজ’ সিনেমার অভিনেতা। না,তখনো অঞ্জন গান শুরু করেনি। পরিচয়,কাছাকাছি বন্ধুভাব,ঘোরাঘুরি,শুটিং দেখা,অফিসের পর রাম নিয়ে বসা প্রায়দিন নিয়ম হয়ে উঠে ছিলো। বছর শেষে আমার আবার ঢাকায় ফেরা। কিছুদিন যোগাযোগ ছিলো তারপর যা হয়। ইদানিং ফেসবুক হওয়াতে আবার খবরা খবর তবে এখন অঞ্জন উর্ধ গগনের তারা বলা যায়! ক’জন এভাবে গায়ক নায়ক পরিচালক হিসেবে সমান সাফল্য পায়! বড় কথা হলো অঞ্জন যেমন ছিলো তেমনি আছে, দেখা মাত্র দুই হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে ধরে।

এবার ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অস্টমদিন অর্থাৎ শেষের আগের দিন জাতীয় জাদুঘরে গোটাদিন মাস্টার্সক্লাসের কথা বলি। ৩ জন সিনেমা মাস্টার্স নিজের জীবন কাজ স্বপ্ন ইচ্ছে সম্পর্কে বলবেন মঞ্চে বসে ।হল ভর্তি দর্শক শ্রোতা দেখবে শুনবে কথা শেষে প্রশ্ন উত্তরের পালা।

শুরু হয়ে ছিলো চীনের সাংহাইঈ ফিল্ম অ্যাসোসিয়েশনের ডেপুটি চেয়ার শি চুয়ান কে দিয়ে। লাঞ্চের পর ইরানের বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক মাজেদ মাজেদি এসে বসলেন। দুই ঘন্টা বলার পর শেষ বক্তা অঞ্জন দত্ত। কথার পর গায়ক রূপেও মাতিয়ে দিলো হল ভর্তি তরুণ তরুণীদের। আবার বড়দেরও অঞ্জনের গানই এমন! একটি গীটার ও একা অঞ্জন মাতিয়ে ছাড়ে গোটা হল কিংবা স্টেডিয়াম। আগামী ২০শে এপ্রিল অঞ্জন এবং আরেক টরন্টোবাসী দারুণ গায়ক বিটপীয়ান রাজীবের শো রয়েছে সেখানে। আমার ভাগ্য ভালো আগেই দেখা হলো শোনা হয়ে গেলো। আমার সাথে ছিলেন কিশওয়ার ইমদাদ ও টরন্টো থেকে আসা কবি রোখসানা বেগম।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles