14.4 C
Toronto
শনিবার, জুন ১৫, ২০২৪

হিমুর রেখে যাওয়া সম্পত্তির কী হবে?

হিমুর রেখে যাওয়া সম্পত্তির কী হবে?
অভিনেত্রী হুমায়রা হিমু

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হুমায়রা হিমুর মৃত্যু ঘিরে ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য। আটক হয়েছেন প্রেমিক মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন রুফি। আবার কেউ বলছে- অভিনেত্রী আত্মহত্যা করেছেন! যাই হোক, বর্তমানে হিমুর মৃত্যুর ঘটনা গড়িয়েছে আদালতে। আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলায় কারাগারে আছেন অভিযুক্ত রুফি।

এদিকে, মৃত্যুর তিন থেকে চার মাস আগে থেকেই হতাশায় ভুগছিলেন হিমু। সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে এটিএন বাংলার ‘স্বপ্নের রানী’ শিরোনামের এক ধারাবাহিক নাটকে। কাকতালীয়ভাবে হিমুর মৃত্যুর দিনই প্রচারিত হয়েছে নাটকটির শেষ পর্ব।

- Advertisement -

জানা গেছে, মৃত্যুর ১০-১২ দিন আগে হিমু এই ধারাবাহিকের শুটিং সম্পন্ন করেছিলেন। সেখানেই শুটিং সেটে মেকাআপ রুমে সহকর্মীদের বলেছিলেন তার শেষ ইচ্ছের কথা। ওদিনের ঘটনার বর্ণনা দিলেন সহশিল্পী অভিনেত্রী স্বর্ণলতা দেবনাথ।

তিনি বলেন, ‘তিন থেকে চার মাস আগে “স্বপ্নের রানী” শুটিং সেটের মেকআপ রুমে আপু হঠাৎ করেই বলছিল, “আচ্ছা আমি যদি মারা যাই বা চলে যাই তাহলে, এই যে আমার গাড়ি, ফ্ল্যাটটা এটা কি আমি অনাথ আশ্রমে দিয়ে যেতে পারব?” আপুর এমন কথা শুনে আমরা সবাই বিচলিত হয়ে পড়েছিলাম। হঠাৎ কেন এই কথা বলল। ওদিন মেকাআপ রুমে আমরা পরিচালকসহ অনেকেই ছিলাম। তারপর আপুকে আমরা জিজ্ঞেস করছিলাম কেন এসব কথা বলছ- তখন আপু বলেছিল, “মানুষের তো অনেক কিছু হতে পারে। আমার না আর বাঁচতে ইচ্ছে হচ্ছে না। আমি যদি মরে যাই তাহলে এগুলো অনাথ আশ্রমে দিয়ে যেতে চাই।” তখন আমরা আপুকে অনেক বোঝানোর চেষ্টা করি। আর যতদিন শুটিং ছিল আপুকে খুব ব্যস্ত রাখতাম।’

এই অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘তখন বুঝতে পেরেছিলাম যে, আপু একা থাকতে থাকতে অনেকটা ডিপ্রেসড হয়ে গেছেন। প্রথম প্রথম যখন তার সঙ্গে কাজ করতাম, তখন আপু বিগো অ্যাপসে অনেক ব্যস্ত থাকতেন। কিন্তু শেষ দিনগুলোতে তিনি অনেকটাই পরিবর্তন হয়ে গিয়েছিলেন। চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলেন, কাজে মনোযোগী ছিলেন। আমরা যে চঞ্চল হিমু আপুকে দেখেছি, শেষ সময়ে ওই চঞ্চলতা পাইনি তার মাঝে।’

বর্তমানে হিমুর পরিবারের সদস্যরাও বেঁচে নেই, তাই তার সম্পত্তি (ফ্ল্যাট-গাড়ি) আদালতের নির্দেশেই বণ্টন হবে। এমনটাই জানালেন অভিনয় শিল্পী সংঘের সভাপতি আহসান হাবিব নাসিম। তার কথায়, ‘পুলিশের সঙ্গে এ বিষয়ে আমাদের কথা হয়েছে। যেহেতু হিমুর বাবা-মা কেউ বেঁচে নেই, তাই আদালত থেকে কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতেই থাকবে তার সম্পত্তি। দলিলপত্র চেক করে দেখা হবে কোনো উইল আছে কি-না। পরে আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন সেই মোতাবেকই সব কিছু হবে।’

উল্লেখ্য, গেল ২ নভেম্বর মারা গেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী হুমায়রা হিমু। উত্তরার নিজ বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উত্তরার আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তখন হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় তার প্রেমিক জিয়াউদ্দিন রুফি। পরদিন র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।

৩ নভেম্বর রাতেই লক্ষ্মীপুর পৌরসভার লামচরী জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা শেষে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন হিমু।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles