ফেসবুকে মহিলা লীগ নেত্রীর ভুয়া অশ্লীল ছবি, কারাগারে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র

- Advertisement -
গ্রেপ্তার শেখ নাজমুল সাকিব ইমন

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুন নাহার লিপির নাম ও ছবি দিয়ে ফেসবুকে ফেক আইডি খুলে তাতে অশ্লীল ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই ছাত্রের নাম শেখ নাজমুল সাকিব ইমন। গত ২৯ অক্টোবর খুলনার গোবরচাকা এলাকা থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

দুই দিনের রিমান্ড শেষে গত মঙ্গলবার ঢাকার একটি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ইমন। জবানবন্দিতে তিনি বলেছেন, নারীলোভী পুরুষদের বোকা বানিয়ে ‘ইনজয়’ করতেই ফেক আইডি খুলে অন্য নারীর অশ্লীল ছবিতে গলা কেটে ওই নেত্রীর ছবি বসিয়ে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়েছেন। শুধু তাই নয়, নারীলোভী পুরুষদের শিক্ষা দিতে এই ফেক আইডি থেকে তাদের কাছে টাকাও দাবি করেছিলেন ইমন। কিন্তু তার ডাকে সাড়া দেয়নি কেউই।

- Advertisement -

এদিকে ইমনের ‘ইনজয়ের’ কারণে বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনিবাহী সদস্য লিপি। রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দারস্থ হন। তথ্য ও প্রযুক্তি আইনে মামলা করেছেন রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায়। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতেই গ্রেপ্তার হন ইমন। পুলিশের পর মামলাটি বর্তমানে তদন্ত করছে সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশন।

নারী নেত্রী কামরুন নাহার আজ রোববার আমাদের সময়কে জানান, তিনি সপরিবারে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন উত্তর বেগুন বাড়ি সিদ্দিক মাস্টারের ঢাল এলাকায় বসবাস করেন। পরিচিতজনদের মাধ্যমে সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, তার ছবি ব্যবহার করে ‘কামরুন নাহার লিপি’এবং ‘নামটা জানা অজানা’নামে দুটি ফেক ফেসবুক আইডি খুলে সেগুলোর ওয়ালে তাকে রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছে একটি চক্র। এ ছাড়া লিপির ব্যক্তিগত ছবি এডিট করে অশ্লীল, আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও চিত্র সেই ফেসবুক আইডি থেকে আপলোড করে। ওই ফেক ফেসবুক আইডি থেকে লিপির বন্ধু ও আত্মীয় স্বজনদের ম্যাসেঞ্জারে অশ্লীল ছবি ম্যাসেজ আদান-প্রদানসহ টাকা দাবি করে আসছে চক্রটি।

- Advertisement -

ভুক্তভোগী ওই নেত্রীর অভিযোগ, কোনো একটি মহলের ইন্ধনে চক্রের সদস্যরা তার প্রকৃত ফেসবুক আইডি থেকে বা অন্য কোনোভাবে তার ছবি সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করে রাখে এবং বিভিন্ন সময়ে তা এডিট করে পূর্ব-পরিকল্পিতভাবে লিপি ও তার পরিবারে সদস্যদের সম্মান ক্ষুণ্ন করতে সেগুলো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে ভাইরাল করা হয়। ইমন ছাড়া আরও অনেকে এই চক্রে জড়িত। তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান কামরুন নাহার।

- Advertisement -

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের এসআই মো. আবু সাঈদ জানান, ইমন দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। তবে তিনি ‘নামটা জানা অজানা’ নামে অন্য আইডির দায় নেননি। এই আইডির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনা হবে।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles