23.8 C
Toronto
বুধবার, মে ২২, ২০২৪

প্রেমিকের বিশ্বাসঘাতকতায় বিপাকে নারী আইনজীবী

প্রেমিকের বিশ্বাসঘাতকতায় বিপাকে নারী আইনজীবী

ফেসবুকে মিলন মাহাবুব নামে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয় এক তরুণীর। কথোপকথনে জানতে পারেন, তারা একই কলেজের শিক্ষার্থী। প্রথমে বন্ধুত্ব এবং পরে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। কিছুদিন পর দু’জনের সম্পর্কের অবনতি হয়, বেড়ে যায় দূরত্ব। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন মিলন। তাঁর কাছে থাকা তরুণীর বিভিন্ন সময়ের ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে কয়েকটি ভুয়া আইডি খুলে আপত্তিকর বক্তব্য পোস্ট করতে শুরু করেন। ওইসব আইডি থেকে তিনি তরুণীর মা-বাবা, স্বজন, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে ফেসবুকে যুক্ত হন। ফলে তারাও দেখতে পান কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও ছবি। এতে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন বর্তমানে ঢাকার আদালতে শিক্ষানবিশ আইনজীবী ওই তরুণী।

- Advertisement -

এ ঘটনায় ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে করা মামলাটি আদালতের নির্দেশে তদন্ত করেছে পিবিআই। সংস্থাটির এসআইঅ্যান্ডও (সংঘবদ্ধ অপরাধ-দক্ষিণ) কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার সাগর সরকার বলেন, তরুণীর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। সার্বিক তদন্তে মিলন মাহাবুবের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ মিলেছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা জানান, রাজধানীর রাজারবাগ এলাকায় থাকেন ভুক্তভোগী তরুণী। গত বছরের ১০ জুন তিনি ফেসবুকে তাঁর নামেই খোলা আরেকটি আইডি থেকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পান। কৌতূহলবশত তিনি বন্ধুত্বের অনুরোধ গ্রহণ করেন। এর পর দেখতে পান, ভুয়া ওই আইডি থেকে তাঁর নামে নানারকম কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য, এমনকি তাঁকে যৌনকর্মী হিসেবে উল্লেখ করে পোস্ট দেওয়া হয়েছে।

ভুয়া আইডি থেকে তরুণীর স্বজন-পরিচিতদের কাছে টাকাও দাবি করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তিনি গত বছরের ২০ জুন ঢাকার শাহজাহানপুর থানায় জিডি করেন। পরে ডিবির তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পান। তিনি মিলনকে সাবধান করলে ফেসবুক আইডিটি নিষ্ক্রিয় করেন। তবে গত বছরের ২৬ অক্টোবর ভুক্তভোগী ফের তাঁর নামে কয়েকটি ভুয়া ফেসবুক আইডি সক্রিয় দেখতে পান।

এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই এসআই নাজিম উদ্দিন বলেন, প্রযুক্তিগত তদন্তে দেখা যায়, সিলেটের উপশহর এলাকায় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের একটি সংযোগ থেকে ওইসব ভুয়া আইডি তৈরি করে পোস্ট দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সহায়তায় ওই সংযোগ ব্যবহারকারী হিসেবে মিলন মাহাবুবকে শনাক্ত করা হয়।

তিনি সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে এ কাজ করেছেন বলে স্বীকার করেন। তবে আইডিগুলো নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছেন বলে জানান। যদিও পরে মিলন ফের ভুয়া ফেসবুক আইডিগুলো সক্রিয় করেছেন। গত বৃহস্পতিবারও সেগুলো সক্রিয় দেখা গেছে। ভুক্তভোগী তরুণী বলেন, আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি। সুবিচার পাব বলে আশা রাখি।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles