শিশুদের ফাঁদে ফেলে পর্নোগ্রাফি গ্রুপে ছবি ছড়াতেন তানজিম

- Advertisement -
প্রতীকী ছবি

বোরহান উদ্দিন ওরফে তানজিম রাজধানীর বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশল বিদ্যায় উচ্চ ডিগ্রি নিয়েছেন। চাকরি করেন একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে। এসব পরিচয়ের বাইরে পুলিশের চোখে তিনি ভয়ঙ্কর সাইবার অপরাধী। এই ব্যক্তি আন্তর্জাতিক চাইল্ড পর্নোগ্রাফি গ্রুপের সদস্য। শিশু ও কিশোরীদের বন্ধুত্ব আর প্রেমের ফাঁদে ফেলে আপত্তিকর ছবি নিয়ে তা ছড়িয়ে দেন চাইল্ড পর্নোগ্রাফি সাইটে। বুধবার কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ জানায়, তাদের ই-ফ্রড টিমের সদস্যরা বিভিন্ন অনলাইন রুটিন মনিটরিং করার সময়ে ইনস্টাগ্রামের একটি আইডি থেকে আর্ন্তজাতিক চাইল্ড পর্নোগ্রাফি গ্রুপে যুক্ত হওয়া একজনের সন্ধান পাওয়া পান। এরপর সাইবার তল্লাশি করে জানতে পারেন, ভুয়া নামে ওই আইডি চালাচ্ছেন বোরহান উদ্দিন ওরফে তানজিম। প্রযুক্তির মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে বুধবার বিকেলে তাকে রাজধানীর শাহজাহানপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনে বিতর্কিত ইনস্টাগ্রাম আইডিটি সচল অবস্থায় পাওয়া গেছে।

- Advertisement -

তানজিমকে গ্রেপ্তারের অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের ই-ফ্রড টিমের সহকারী কমিশনার সুরঞ্জনা সাহা বলেন, তানজিম ইনস্ট্রামে ভুয়া আইডি খুলে আন্তর্জাতিক চাইল্ড পর্নোগ্রাফি কয়েকটি গ্রুপে যুক্ত রয়েছেন। এই ব্যক্তি নিজের পরিচয় লুকিয়ে নানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশু ও কিশোরীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতেন। কৌশলে সম্পর্ক গভীর করে তাদের আপত্তিকর ছবি নিতেন। শিশুদের সেই ছবি ছড়িয়ে দিতেন আন্তর্জাতিক চাইল্ড পর্নোগ্রাফি গ্রুপগুলোতে।

সাইবার পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, তানজিম একবার ছবি নিতে পারলে সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে এবং অভিভাবকদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরও ছবি নিতেন। তার কাছ থেকে তথ্য পেতে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

- Advertisement -

সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের অপর একজন কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার তানজিম আন্তর্জাতিক সাইটে এসব ছবি তুলে দিয়ে টাকা পেত কিনা বা শিশুদের অভিভাবকদের ব্লাকমেইল করে টাকা হাতিয়েছে কিনা, তা জানতে তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ পর্যন্ত সে কতো শিশুর সর্বনাশ করেছে, তা নিশ্চিত হতে জব্দ করা ডিভাইস পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles