23.8 C
Toronto
বুধবার, মে ২২, ২০২৪

যৌন হয়রানি : ঝাড়ফুঁকের ছুঁতোয় বাসনা পূরন কবিরাজের

যৌন হয়রানি : ঝাড়ফুঁকের ছুঁতোয় বাসনা পূরন কবিরাজের
ছবি সংগৃহীত

মরক্কো, সুদানে এক নতুন পথে যৌন হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন নারীরা। ঝাঁড়ফুকের ছুঁতোয় নেজেদের বাসনা পূরন করছে কবিরাজরা।

যৌন হয়রানিতে ভুক্তভোগী নারীদের সাক্ষাৎকার ও সরেজমিন তদন্তে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিসি আরব। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সুদান ও মরক্কোর ৮৫ জন নারীর কাছ থেকে কবিরাজের দ্বারা যৌন হয়রানির সাক্ষ্য সংগ্রহ করেছে বিবিসি ।

- Advertisement -

নারীদের যৌন হয়রানি করে থাকে এমন ৬৫ জন কবিরাজের নাম উঠে এসেছে দুই দেশ থেকে। এছাড়া কবিরাজ দ্বারা চিকিৎসার ছলে ধর্ষণের স্বীকার হ্রয়ার প্রমাণও উঠে এসেছে।

আরব ও অন্যান্য মুসলিম বিশ্বের একটি জনপ্রিয় অনুশীলন এই কবিরাজি। এতে অনুশীলনে বিশ্বাস করা হয় ‘জিন’ নামে পরিচিত খারাপ আত্মা সমস্ত সমস্যার সমাধাণ ও অসুস্থতা নিরাময় করতে পারে।

কবিরাজের কাছ থেকে যৌন হয়রানি স্বীকার হয়েছেন মরক্কোর একটি শহর কাসাব্লাঙ্কার এক নারী দালাল(ছদ্দনাম)।

তিনি বলেন, কয়েক বছর আগে বিষন্নতার চিকিৎসা নিতে তিনি শহরে একজন কবিরাজের কাছে যান। তার তখন বয়স ছিল ২০ এর মাঝামাঝি। কবিরাজ তখন তাকে জানায় বিষন্নতার কারন তার ‘প্রেমিক জিন’। কবিরাজ তাকে একটি ঘ্রাণ নিতে বলে। কস্তুরীর ঘ্রাণ বলা হয়েছিল এটিকে। সেই ঘ্রাণ নেওয়ার পরই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে আবিষ্কার করেন অন্তর্বাসহীন অবস্থায়। বুঝতে পেরেছিলেন তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। কবিরাজের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে দালালকে জানানো হয় ‘জিনদের উদ্দেশ্যে তাকে সপে দেওয়া হয়েছিল।’

এই ঘটনার পরও মুখ বন্ধ করে ছিলেন দালাল। তার ভয় ছিল, কাউকে জানালে নিজেকেই আবার দোষী হতে হবে। কয়েক সপ্তাহ পর সে দালাল বুঝতে পারল সে গর্ভবতী। কবিরাজকে তার গর্ভাবস্থার কথা বললে তিনি জানায় জিন তাকে গর্ভবতী করেছে।

দালাল একা নন। কবিরাজের কু-বাসনার স্বীকার হয়েছেন এমন অনেক নারীই নিজেকেই অন্যেরা দোষী করবে ভেবে পুলিশ অথবা পরিবারকে কিছু জানাতে বিরত ছিল। অথবা অনেকে ভেবে থাকে অভিযোগের পর জ্বিনদের প্রতিশোধ নিতে উস্কে দেওয়া হতে পারে।

সুদানের এক নারী সাওসান। স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের পর স্বামী যেন তার প্রতি আরও ভাল আচরণ করে সেই আশায় কবিরাজের শরণাপন্ন হন। কবিরাজ তখন তাকে যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেয়।

সুদানে বিবিসি যে ৫০ জন নারীর সঙ্গে কথা বলেছে তাদের মধ্যে তিনজনই শেখ ইব্রাহিম নামে একজনের নাম উলে­খ করেছে। আরও স্পষ্ট প্রমাণ সংগ্রহের জন্য বিবিসর এক গোপন সাংবাদিক রিম শেখ ইব্রাহিমের সঙ্গে দেখা করেন। ইব্রাহিমের কাছে বন্ধ্যাত্ব সমস্যায় ভুগছেন এমন সমস্যা নিয়ে হাজির হন রিম ।

শেখ ইব্রাহিম তখন তাকে বলেন, তিনি তার জন্য প্রার্থনা করবেন। আর তাকে ‘মাহাইয়া’ নামে পরিচিত এক ধরণের ‘কবিরাজি পানি’ খাওয়ানোর জন্য একটি বোতল প্রস্তুত করেছেন। এরপরই রিমের কাছাকাছি আসতে থাকে ইব্রাহিম । তার পেটে হাত রাখে। হাত সরিয়ে নিতে বললেও শরীরের অন্যান্য অংশেও হাত রাখতে থাকে। রিম তখনই সে রুম থেকে দৌড়ে চলে যায়।

রিমের সঙ্গে কি হয়েছিল সে বিষয়ে শেখ ইব্রাহিমের কাছে বিবিসি জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করে। শুধু ইব্রাহিমই নন, বিবিসির সংগ্রহ প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নিতে নারাজ মরক্কো অথবা সুদান কর্তৃপক্ষও ।

সুদানের ইসলামি মন্ত্রণালয়ের পরিবার ও সমাজ বিভাগের প্রধান ড. আলা আবু জেইদ নারীদের যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা প্রাথমিকভাবে বিশ্বাস করেননি। তবে তিনি বলেন, আধ্যাতিক কবিরাজি পেশায় যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণের অভাব থাকায় ‘বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে।’ আর বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় এটি অগ্রাধিকার নয়।

মরক্কোর ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ তৌফিক বলেন, তাদের (কবিরাজ) জন্য আলাদা কোন আইনের প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন না।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles