14.1 C
Toronto
রবিবার, মে ২৬, ২০২৪

জীবন ও সংসার

জীবন ও সংসার

প্রতিটি ছেলে মেয়ে বা তরুণ তরুণীর মনে একটা স্বাভাবিক চিন্তা থাকে তাদের বিবাহিত জীবনটা না জানি কেমন হয় ? তাদের কল্পনার তরুন বা তরুনীটি তাদের মনের মতো হবে তো ? তবে এটাও সত্যি কল্পনা ও বাস্তবের মিলন খুব কম সময়েই ঘটে । বিয়ের আগে প্রেমিক প্রেমিকার ভালোবাসা ,রোমান্টিক অনুভূতি যতোটা মধুর থাকে এবং, জীবনটা মধুময় হবে সে ভাবনা তাদের আপ্লূত রাখে ঠিক তোতোটাই নিরাশ হয় স্বামী -স্ত্রী হয়ে যাবার পর । অনেক স্ত্রীকেই স্বামীকে বলতে শোনা যায় ,” আমার জীবনটা অনেক সুন্দর হতো তোমাকে বিয়ে না করলে”। স্বামীও সে ভাবেই পাল্টা জবাব দেয় । আসল কথা হোলো প্রেমিক জীবন যতোটা মধুর হয় সংসার জীবন ততোটা মধুর হয় না যতক্ষণ না তারা একে অপরকে বন্ধু ভাবতে পারে । যদিও এটা সচোরাচর ঘটে না । স্বামীরা নিজেদের স্ত্রীর বন্ধু না ভেবে শাসক ভাবতেই বেশী ভালোবাসেন । এটাই বাস্তব।

- Advertisement -

আমরা সব সময় ভাবি আজকালদের ছেলে মেয়েদের ধৈয্য কম মানিয়ে নেবার ক্ষমতা নেই ।, বিয়ে ব্যাপারটা যে সমযোতার ,বা কমপ্রমাইযের ব্যাপার সেটা এ প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা বুঝে না। কই আমাদের নানা নানী বা দাদা দাদীর সময়ে এমনকি আমাদের মা বাবাদের সময়তো এমন বিয়ে বিচ্ছেদের কথা শুনা যায় নি। তার মানে এটা না যে উনারা খুব সুখে শান্তিতে ছিলেন সেটা ভাবার কোন কারন নেই। আমাদের নানী দাদীর সময়টার কথা যদি ভাবি তাদের বিয়ে হয়েছে অনেকটাই কম বয়েসে ।যতো ভালো বংশের মেয়েই হোক বাবা মা চেয়েছেন মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দায়িত্ব মুক্ত হতে। আর মেয়েটি বুঝে নিয়েছে বা মেয়েটিকে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে স্বামীর সংসারই তার আসল স্থান । সেখানে স্বামী , সংসারকে মানিয়ে গুছিয়ে নেয়াটাই দায়িত্ব । তখন তারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন না, তাদের পায়ের নীচের মাটিও শক্ত ছিলো না। সে সময় কোন মেয়ে স্বামীর ঘর ছেড়ে দিয়ে বাবার বাড়ীতে ফিরে আসার কথা চিন্তাও করেন নি। তখন অধিকাংশ স্ত্রী কেই শাসক স্বামীর অনুমতিতে উঠা বসা করতে হতো ।

এখন আসি আমাদের মা বাবাদের সময়ের কথায় ।তখন নারীরা শিক্ষার মুখ দেখতে শুরু করেছে ।কিছু কিছু নারী শিক্ষার দিকে এগিয়ে গেলেও তার সংখ্যা ছিলো অনেক কম। তখন নারীরা চাকুরীও করতে শুরু করে যোগ্যতা অনুযায়ী । সংসার চাকুরী , সন্তান সামলিয়েছেন । তারপরও উনাদের সংসার ফাগুন হাওয়ায় ভেসে গেছে এমন কিন্তু নয় । সেখানেও ছিলো নানা রকমের প্রতিকূলতা। নানা জনের নানা রকমের কটু কথা তাঁদের শুনতে হয়েছে বিশেষ করে স্বামীর বাড়ীর লোকজনের কাছ থেকে ।অতিষ্ঠ হয়ে হয়তো কোন কোন নারীকে চাকুরী ছেড়ে দিতেও দেখা গেছে ।,তবে এটাও সত্যি সে সময় থেকেই নারীরা আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে , হালকা পাতলা হলেও নারীরা বাইরের জগতে ঘুরা ফিরা করতে শুরু করেছিলেন এবং তখন স্বামীরাও স্ত্রীদের ব্যাপারে কিছুটা নমনীয় ভাব দেখাতে শিখেছে । তবে অবশ্যই সর্ব ক্ষেত্রে বা সর্ব পর্যায়ে নয় ।তখনও নারী নির্যাতন ব্যাপক হারেই ছিলো কিন্তু শিক্ষিত পরিবারগুলোতে সে ধরণের ঘটনা খুব শোনা যেতো না । তবে এটাও জোর দিয়ে বলতে পারি না যে উনারা খুব সাধু সন্যাসী ছিলেন।

এখন আসি আমাদের সময়টার কথা । যারা এখনো আমরা সংসার করেও নানা রকমের বাইরের কাজ করে যাচ্ছি । আমাদের সময় পঞ্চাশ ভাগ বিয়েই হয়েছে ভালোবেসে ।তখন মোটামুটি সব মেয়েরাই কলেজ ইউনিভারসিটিতে পড়াশোনা করার সযোগ পেয়েছে সাথে সাথে তাদের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে পেরেছে অবশ্য সবাই পারেনি পারিবারের বিরোধিতার কারনে। যারা পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে পেরেছে তারাও কি সবাই সুখী হতে পেরেছে ? পারেনি। তখন পুরুষ মানুষরা আদর্শ প্রেমিক হতে পারলেও আদর্শ স্বামী হতে পারেই। স্ত্রীর উন্নতি কিংবা জনপ্রিয়তা অনেক স্বামীকেই ঈষানীত করে তুলেছে। সাথে সাথে স্ত্রীকে সন্দেহ করাটাও তাদের একধরনের অসুস্থায় হয়ে দাঁড়াতো বা এখনো দাঁড়াচ্ছে । তাদের ধারনা হয়েছিলো তারা স্ত্রীকে অধীনে রাখতে পারছে না, সে কারনে তারা স্ত্রী কে ক্রমাগত মানুষিক নির্যাতন চালাতে থাকে। ( অবশ্য সেটা সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিলো না।) স্ত্রী না পারতো সইতে না পারতো ছাড়তে ।আমাদের সময় বিবাহ বিচ্ছেদ খুব একটা হতো না, যতক্ষণ না মারাত্মক কিছু ঘটতো । মহিলারা সংসারটা টিকিয়ে রাখতে চেয়েছে সমাজ, পরিবার , বাবা মায়ের সন্মান সব চাইতে বড় যেটা ছিলো সেটা ছিলো সন্তানদের ভালোবাসা । সে কারনে তারা বড় কোন সিধান্ত নিতে পারে নি। বুকের ভেতর হাজার কষ্ট নিয়েও সমাজের কাছে একটা সুখী চেহারা নিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছে । সমাজএর বন্ধুরা ভেবেছে আহা কি যে সুখী দম্পতি। অভিনয় করে করে স্ত্রীরাও জীবনটা এভাবেই কাটিয়ে দিয়েছে বা দিচ্ছে কিন্তু কাউকে বুঝতে দেয়নি, এটাই আমাদের সময়ের অনেকের দাম্পত্য জীবন। আজকাল অনেক সময় আমরা দেখতে পাচ্ছি বিয়ের ৪০\ ৪৫ বছর পর বিবাহ বিচ্ছেদ হচ্ছে , আমরা শুনে বিস্মিত হই, এতো বছর পর কেনো ? এ বয়েসে কেউ পরকীয়া করতে যায় নি। বিবাহ বিচ্ছেদ হওয়ার কারন হয় এতকাল যে স্ত্রী টি মানুষিক যন্ত্রণা সহ্য করেছে সে এখন এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি চায়। এখন ছেলে মেয়েরা যার যার স্থানে প্রতিষ্ঠিত । তাই তার কোন দায় দায়িত্ব নাই। তাই সে নিজের জীবনটা নিজের মতো শান্তিপূর্ণ জীবন কাটাতে চায়। তবে সবাই সেটা পারে না, মায়া কিংবা সমাজের জন্য আবার কখনো নিরাপত্তা হীনতার ভাবনার জন্য । আবার অধিকাংশ স্ত্রী ভেবে নিয়েছেন এতো কাল যখন কাটিয়ে দিয়েছি বাকী জীবনটাও চলে যাক । এখন জীবনে আর কি এইবা পাওয়ার আছে ?

এখন আসি এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের কথায় । ওরা মানুষিক ভাবে শক্ত । তারা ৯০ ভাগই স্বামীর মতো কিংবা স্বামীর চাইতে বেশী যোগ্যতা রাখে । তাদের পায়ের নীচের মাটি পাথরের মতো শক্ত , কাজেই তারা স্বামীদের কোনো ধরনের অসভ্য আচরণ ,কিংবা সামান্য কারণেই তাদের সাথে দুরব্যবহার তারা সহ্য করতে রাজি না। তারা স্বামীকে বন্ধুর মতো দেখতে চায় শাসকের মতো না। তাদের সমাজের কাছে কোন দায়বদ্ধতা নেই । তাদের নিজের জীবন তাদের নিজের। তাই এখন বিবাহ বিচ্ছেদের ঘটনাও বেশী । এখানে শুধু স্ত্রিদের না অনেক স্বামীও আছে যারা স্ত্রীদের দ্বারা নির্যাতিত অবহেলিত হচ্ছে ।সত্যি কথা বলতে গেলে এই প্রজন্মের ছেলে মেয়ে অর্থাৎ স্বামী স্ত্রী উভয়ের মাঝেই মানিয়ে গুছিয়ে নেবার জিনিসটা খুবই কম । আমরা বাস করেছি একধরনের দায়বদ্ধতায় আর এখনকার ছেলে মেয়েরা বাস করে দায়বদ্ধহীনতায় ।
ম্যাল্টন, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles