22.1 C
Toronto
বুধবার, জুন ১২, ২০২৪

টুকরা দেহ ফেলা হয়েছিল বিভিন্ন জায়গায়, ৮ বছর পর বোন গ্রেপ্তার

টুকরা দেহ ফেলা হয়েছিল বিভিন্ন জায়গায়, ৮ বছর পর বোন গ্রেপ্তার
প্রতীকী ছবি

আট বছর আগের একটি খুনের রহস্যের কিনারা করেছে পুলিশ। ভাইকে কুপিয়ে খুন করে প্লাস্টিকের প্যাকেটে ভরে তা বিভিন্ন জায়গায় ফেলে আসার ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হলো নিহতের বোনকেই।

ঘটনাটি ২০১৫ সালের। ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের জিগানির বিভিন্ন জায়গায় প্লাস্টিকের ক্যারি ব্যাগে পাওয়া যায় বেশ কিছু দেহাবশেষ। কিন্তু নিহতের মাথা পাওয়া যায়নি। পুলিশ হৈচৈ করে তদন্তে নামলেও কোনো কিনারা হয়নি। কিন্তু হাল ছাড়েনি পুলিশ। টানা আট বছর পর ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হলো নিহতের বোন ভাগ্যশ্রীকে। আট বছর পর পুলিশ রহস্যভেদ করেছে কিভাবে ভাগ্যশ্রী ও তার লিভ-ইন সঙ্গী ওই যুবকের দেহ টুকরা করে তা বিভিন্ন জায়গায় ফেলে আসে।

- Advertisement -

খুনের কারণ হিসেবে পুলিশ জানিয়েছে, ভাগ্যশ্রী ও তার লিভ-ইন সঙ্গীর সম্পর্কের মধ্যে বাধা হয়ে দাঁডিয়েছিলেন তার ভাই। ওই খুনের পরই জিগানির ভাড়া করা ঘর ছেড়ে অন্যত্র চলে যান ভাগ্যশ্রী। পরে তারা মহরাষ্ট্রের নাসিকে একসঙ্গে থাকতে শুরু করেন। পুলিশ তদন্ত প্রায় বন্ধই করে দিয়েছিল। পরে ভাগ্যশ্রী ও তার সঙ্গীর কিছু কর্মকাণ্ড চোখে পড়ার পর ফের খোলা হয় মামলার ফাইল।

গোপন সূত্রে খবর পেয়ে ভাগ্যশ্রী সিদাপ্পা পূজারি ও তার সঙ্গী সুপুত্র শঙ্করাপ্পা তালওয়ারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কর্ণাটক থেকে পলিয়ে নাসিকের এক ওষুধ কম্পানিতে তারা কাজ করতেন।

পুলিশের দাবি, ভাগ্যশ্রী ও তার ভাই নিঙ্গারাজু সিদাপ্পা পূজারি বেঙ্গালুরুতে গিয়ে জিগানির একটি কারখানায় কাজ শুরু করেন। শহরেই একটি ছোট ঘর ভাড়া করে থাকতে শুরু করেন তারা। এদিকে আগে থেকে ভাগ্যশ্রীর সম্পর্ক ছিল সুপুত্রুর সঙ্গে। সুপুত্রু তখন বিবাহিত। গোটা বিষয়টি জানতে পেরে তাতে আপত্তি করেন ভাগ্যশ্রীর ভাই নিঙ্গারাজু। কোনোভাবেই ভাইকে বোঝাতে না পেরে লিভ-ইন সঙ্গীকে সঙ্গে নিয়ে তাকে খুন করার ছক কষেন ভাগ্যশ্রী। পরিকল্পনামতো খুনও করেন। বিভিন্ন জায়গায় দেহাবশেষ ফেলেও আসেন ভাগ্যশ্রী ও সুপুত্রু।

গোটা ঘটনা সামনে আসে যখন জিগানির একটি ফাঁকা জায়গায় একটি ব্যাগে মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহতের কাছে পাওয়া একটি প্রেসক্রিপশনের সূত্র ধরে ভাগ্যশ্রীর বাড়িতে পৌঁছয় পুলিশ। সেখানে কাউকে না পেয়ে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাগ্যশ্রীর কারখানায় গিয়ে হাজির হয় পুলিশ। সেখান থেকে ভাগ্যশ্রীর ব্যাপারে সব তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই লাপাত্তা হয়ে যান ভাগ্যশ্রী ও তার লিভ-ইন সঙ্গী। কোনো খবর না পেলেও হাল ছাড়েনি তারা। শেষ পর্যন্ত খবর পাওয়া যায় নাসিকের একটি ওষুধ করাখানায় সুপুত্রু নামের একজন কাজ করেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখা যায়, তিনি কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। পরে ভাগ্যশ্রীর খোঁজ করতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি একটি ওষুধ কারখানায় কাজ করেন। তাকে গ্রেপ্তারের পরই সুপুত্রুর নাগাল পায় পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, জেরায় দুজনই তাদের অপরাধ স্বীকার করেছেন।

সূত্র : জি নিউজ

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles