-0.9 C
Toronto
শনিবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২৩

ভালোবাসার ইতিকথা : ১৮

ভালোবাসার ইতিকথা : ১৮
ছবিটীম মার্শাল

আমরা দুজন দুজনকে প্রচণ্ড ভালবেসেছিলাম কিন্তু তোমার আর আমার মাঝে যে ভাগ্যের একটি অদৃশ্য দেয়াল ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলো সেটা আমরা কেউ বুঝতে পারিনি আর সে অদৃশ্য দেয়ালটি আমাদের এক সাথে হতে দেয়নি। যে কোন কারনেই হোক সত্যিকারের ভালোবাসার মানুষটাকে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই পাওয়া হয় না। নিয়তির এ কেমন নিষ্ঠুরতা বুঝে উঠতে পারিনা।

আমি নিয়ম মাফিক কেঁদে চলছিলাম সকাল দুপুর রাত। আমার চোখের নিচে কালি পরে গেলো । মনে হচ্ছিল আমি কোনো কঠিন রোগে ভুগছি। আমি বোধ শক্তি হারিয়ে ফেলেছিলাম । এর মধ্যে আমার বন্ধুরা, ঘনিষ্ট আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতে পান চিনি হলো । অত্যান্ত বিষণ্ণ চেহারাটাকে সাজানো হলো পান চিনির সাজে। সেদিন সবার সাথে পাত্রও এসেছিলো । কিন্তু সেদিনও আমি পাত্রকে দেখিনি। দেখিনি মানে দেখানো হয় নি। এতে আমার বাবা মায়ের কোন হাত ছিলো না। ছিলো অন্য একজনের যে কিনা আমাকে বিয়ে দেবার ব্যাপারে অতি উৎসাহী ছিলো । বর্ণনা শুনে মনে হচ্ছে আমাদের পরিবার অত্যান্ত রক্ষণ শীল পরিবার কিন্তু ব্যাপারটা একদমই সে রকম না। আমরা গান নাচ কবিতা শিখে এবং মঞ্চে পারফর্ম করে আধুনিক ভাবে বড় হয়েছি । কিন্তু আমার বেলাতে এসে সব কিছুতেই নিয়তি বা দিকে মোড় নিলো । পাত্র বাড়ি থেকেও উনারা অনেকেই এসেছিলেন। আমার হবু শ্বশুর আমাকে আংটি পরিয়ে দোয়া করলেন। পরে শুনেছিলাম পাত্র অনেক বিস্মিত হয়েছিলেন আমাদের পরিবারের অদ্ভুত কর্ম কাণ্ড দেখে। পাত্র এসেছে অথচ পাত্র পাত্রীর একে অপরকে দেখার বা কথা বলার সুযোগ দেয়া হলো না। সেটা যে ইচ্ছা প্রণোদিত ভাবে করা হয়েছে সেটা উনি বুঝতে পারেন নি।

- Advertisement -

রাতে আমাদের উপর তালাতে এক ঘরেতে সব বন্ধুদের ঘুমাতে দেয়া হলো যেনো আমরা সবাই মিলে আনন্দ ফুর্তি করতে পারি। কিন্তু ঘটনা ঘটলো বিপরীত । আমি সারারাত ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদলাম । আমার এমন কান্না দেখে আমার বন্ধুরাও খুব মন মরা হয়ে গিয়েছিলো । সারারাত আমরা কেউই ঘুমালাম না।পরদিন সকালে আমি আমার নানুর হাতে পান চিনির আংটিটা পাশে রেখে দিয়ে বলেছিলাম নানু এই আংটি ফেরত দিয়ে দাও, আমি এই বিয়ে করবো না। আমাকে জোর করে বিয়েতে বসালে আমি কিন্তু কবুল বলবো না । আমি মৌলভী সাহেবকে বলবো আমি বিয়েতে রাজি না আমি কবুল বলবোই না। আমার দিকে নানু বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে থেকে আংটিটা তুলে রাখতে রাখতে বললেন ঠিক আছে আংটিটা তুলে রাখি সত্যিই যদি ফেরত দিতে হয়।
বন্ধুরা তাদের সাধ্য মতো চেষ্টা করেছিলো বিয়েটা ঠেকাতে । ওরা আমাদের বাড়ি তোমাদের বাড়ি অনেক ছুটাছুটি করেছিলো , সে সব কথাতো তুমি সবই জানো । পান চিনি হোল ১৯ তারিখ আর বিয়ের দিন ঠিক হলো ২৯ তারিখ। মাঝখানে ৯ দিন দুইদিন পরে ঈদ। তোমার বাড়ির লোকরাও বুঝতে পারছিলেন না এতো অল্প সময়ে বিয়েটা কি করে থামাবেন। তারপর যেখানে পান চিনি হয়ে গেছে। উনারা হয়তো খুশি হতেন আমি যদি নিজ থেকে তোমাদের বাড়ি চলে যেতাম । তাহলে উনাদের আমার বাবার সামনে এসে দাঁড়াতে হবে না। সে রকম ইঙ্গিত উনারা আমার বন্ধুদের দিয়েছিলেন। তারপর যা ব্যবস্থা করার উনারা করবেন। তুমিও সেটাই চেয়েছিলে। কিন্তু আমি তোমাদের কারো ইচ্ছাই পুরন করতে পারি নি। আমার বন্ধুরা তোমার বাড়ীর লোকদের বিশেষ ভাবে অনুরোধ করে এসেছিলো আমাদের বাড়ীতে কোন একজন দায়িত্ব পূর্ণ কাউকে পাঠাতে । উনারা রাজিও হয়েছিলেন।

আমার বোনেরা আমার বন্ধুদের তোমাদের বাড়ি আসা যাওয়াটা কি ভাবে যেনো জেনে গিয়েছিলো । বিশ্বাস ঘাতকতা করেছিলো আমারই স্কুল কলেজের একজন ঘনিষ্ট বন্ধু যে কিনা সর্ব ক্ষণ ঢাকা থেকে আসা বন্ধুদের সাথে ছিলো , তোমাদের বাসা চিনিয়ে ওদের নিয়ে গিয়েছিলো । তারপর শুরু হলো আমার বোনদের রণ রঙ্গিণী মূর্তি । আমাকে আর আমার বন্ধুদের খুব বাজে ভাবে বকাঝকা করলো । সাথে সাথে তুমি তোমার পরিবার কেউই বাদ পড়লো না।

আমি আমার বন্ধুদের দিয়ে তোমার ভাবী কে খবর পাঠিয়ে ছিলাম , প্লিয আপনাদের বাড়ি থেকে কাউকে পাঠান কথা বলতে আমার বাবার সাথে। উনারা কাকে পাঠাবে কাকে পাঠানো ঠিক হবে সেটা শুধু ভাবলেনই কিন্তু কেউ বিয়ের কয়েকদিন আগে সাহস করে আমার বাবার সাথে কথা বলতে এলো না। আর আমার বাড়ি থেকে একা বের হবার কোন উপায়ই ছিলো না। আমি পুরো পুরি গৃহ বন্ধী ।

ম্যাল্টন, অন্টারিও

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles