6.2 C
Toronto
শনিবার, ডিসেম্বর ৩, ২০২২

মাদক তো দূরের কথা ধূমপানও করেনি আমার ছেলে: ফারদিনের বাবা

মাদক তো দূরের কথা ধূমপানও করেনি আমার ছেলে: ফারদিনের বাবা

বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তার বাবা ও সহপাঠীরা।

- Advertisement -

সোমবার সকালে বুয়েট শহিদ মিনারের সামনে মানববন্ধনে এ দাবি জানান তারা।

নিহত ফারদিনের বিরুদ্ধে মাদকসংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে এ সময় বাবা কাজী নূর উদ্দীন বলেন, আমার ছেলে জীবনে কখনো ধূমপান পর্যন্ত করেনি, মাদক তো অনেক দূরের বিষয়। তার সহপাঠীরা জানান, গণমাধ্যমের এমন ভূমিকায় তারা হতাশ হয়েছেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নূর উদ্দীন আরও বলেন, ফারদিনের মাদকসংশ্লিষ্টতার ব্যাপারে মিথ্যা নিউজ করার মানে হলো সুষ্ঠু তদন্ত কার্যক্রমকে ব্যাহত করা এবং এর পক্ষে যারা দাঁড়িয়েছিল তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়া। তাদের মোরাল ভ্যালুতে আঘাত করা।

তিনি বলেন, বলা হচ্ছে মাদককারবারিরা ৬-৭ জন মিলে ফারদিনকে হত্যা করেছে। কিন্তু তাকে শুধু বুকে ও মাথায় আঘাত করা হয়েছে। ৬-৭ জন মিলে মারলে হাতে বা পায়ে কিছুটা হলেও আঘাত করার কথা ছিল। কিন্তু তারা তা করেনি। তার মানে ফারদিন তার হৃদয়ে এবং মস্তিষ্কে যা ধারণ করে হত্যাকারীরা তার পক্ষে ছিলেন না।

ফারদিনের বাবা বলেন, একটা ছেলে, যে বুয়েটে ডিবেটিং করে, ইন্টারন্যাশনাল কম্পিটিশনে যাবে, সে কিভাবে ফেনসিডিল আসক্ত হবে? যারা ফেনসিডিল সেবন করে তারা কি ডিবেট করার অবস্থায় থাকে? তাদের দ্বারা কি ইন্টারন্যাশনাল কম্পিটিশন করা সম্ভব?

কাজী নূর উদ্দিন বলেন, ফারদিনের বান্ধবীকে আমরা আসামি করে মামলা করেছি, কারণ সে ফারদিনের সর্বশেষ সঙ্গী ছিল। আমার সন্তান ডেমরার বাসা থেকে ক্যাম্পাসে এসে বন্ধুদের সঙ্গে গ্রুপ স্টাডি করার কথা ছিল। আমার প্রশ্ন এখানে যে, আমার ছেলে ক্যাম্পাসে না গিয়ে বান্ধবীর সঙ্গে দেখা করতে গেল কেন? তার সঙ্গে কেন এত সময় কাটাল? কী কারণে তার সঙ্গে দেখা করল? সেই মেয়েটির সঙ্গে কী ধরনের যোগাযোগ হয়েছে? তার ফোন ট্র্যাকিং করে বের করা যেতে পারে। আমার সংশয় এখানে, যে ছেলের ছিল পরদিন পরীক্ষা, সে বান্ধবীর সঙ্গে রাত ১০টা পর্যন্ত সময় কাটাল কেন?

তিনি বলেন, আমি ধূমপান ছাড়তে পারিনি বলে সন্তানদের কাছে আমার ভালোবাসা বা গর্বের জায়গা বোধ হয় ক্ষুন্ন হয়েছে। আমার তিন সন্তান ধূমপান কেন, ধূমপানের (সিগারেট) ধোঁয়াটা পর্যন্ত নিতে পারে না। ফারদিন বুয়েট ক্যাম্পাসে ছিল, উদ্ভাস কোচিংয়ের শিক্ষক ছিল, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে যেত-কেউ কি বলতে পারবে ফারদিন ধূমপান করেছে?

তিনি বলেন, ফারদিন নিখোঁজ হওয়ার পরের দিন আমরা থানায় জিডি করি। জিডির পরিপ্রেক্ষিতে তারা কী ব্যবস্থা নিয়েছিলেন তা আমরা এখনো জানতে পারিনি। জিডি করার পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কোনো আপডেট পাইনি। জিডি থেকে লাশ পাওয়া পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে আমরা সন্তুষ্ট নই।

বিচার পেতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমেই পেতে হবে, তাই তাদের ওপর আস্থা ছাড়তে চান না বলে জানান কাজী নূর উদ্দিন। তিনি বলেন, তদন্তের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো দায়িত্বশীল ভ‚মিকা পালন করবে বলে আশা করি। আমার সন্তান কারও শত্রু ছিল না। নিজের পেশাগত জীবনে আমি কারও সঙ্গে শত্র“তা তৈরি করিনি। এমন একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করাটা সহজ বিষয় নয়।

ফারদিন হত্যার বিষয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রতিবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, দুঃখজনকভাবে কয়েক দিন ধরে কিছু গণমাধ্যম ফারদিনকে নিয়ে কিছু আপত্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করেছে, যা আমাদের হতাশ করেছে। বুয়েট সাংবাদিক সমিতির মাধ্যমে ইতোমধ্যে আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি ও সত্য তুলে ধরেছি। আমরা আশা করব ভবিষ্যতে গণমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রকাশে সতর্ক হবে।

সূত্র : যুগান্তর

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles