9.8 C
Toronto
শনিবার, নভেম্বর ২৬, ২০২২

ফরিদপুরের সমাবেশস্থলে ফখরুলসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা

ফরিদপুরের সমাবেশস্থলে ফখরুলসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা

ফরিদপুরে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে উপলক্ষে শহরের উপকণ্ঠে কোমরপুরের আব্দুল আজিজ ইন্সটিটিউট মাঠে একদিন আগেই সমবেত নেতাকর্মীদের ভিড় উপচে পড়েছে। প্রধান অতিথি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ শুক্রবার রাতে গণসমাবেশস্থলে এসে পৌঁছেছেন।

- Advertisement -

গণসমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু, স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল মাহমুদ চৌধুরী ও ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর।

বিভাগীয় এই গণসমাবেশের একদিন আগে থেকে ফরিদপুরে শুরু হয়েছে বাস ও মিনিবাস ধর্মঘট। এতে ফরিদপুরের সাথে সারাদেশের পরিবহন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বিএনপি নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেছেন, গণসমাবেশের আগে তাদের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এ পর্যন্ত জেলায় ২১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকালে কোমরপুরের জনসভাস্থলে দেখো গেছে, সমাবেশে আগতদের ভিড়ে কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছে সমাবেশস্থল। বাস ও মিনিবাস ধর্মঘট উপক্ষো করে বিভিন্ন উপায়ে সেখানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পৌছাচ্ছেন। তারা সেখানে খন্ড খন্ড মিছিল নিয়ে প্রদক্ষিণ করছেন সমাবেশের মাঠ ছাড়িয়ে আশেপাশের এলাকা। এতে সেখানে এক ভিন্ন আমেজের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত থেকেই সেখানে কয়েক হাজার নেতাকর্মী মাঠে অবস্থান নেন। সারারাত তাদের অনেকে খোলা আকাশের নিচেই অবস্থান করেছেন।

শুক্রবারও পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ, মাদারিপুর, শরিয়তপুর ও রাজবাড়িসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা আসতে থাকেন। দুপুরের পর থেকেই বাড়তে থাকে আগতদের ভিড়। সন্ধ্যা নাগাদ পূর্ণ হয়ে ওঠে মাঠ। এদিকে শুক্রবার দুপুরে সমবেত নেতাকর্মীরা কোমরপুর আব্দুল আজিজ ইন্সটিটিউটশন জামে মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করেছেন। গণসমাবেশস্থল সংলগ্ন মসজিদে মুসুল্লিদের ভিড় মসজিদ উপচে মাঠে ছড়িয়ে পড়ে। নামাজে জামাতের ইমামতি করেন কোমরপুর জামে মসজিদের ঈমাম হাফেজ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ।

বিএনপি নেতৃবৃন্দ বলছেন, তাদের এই গণসমাবেশে নির্ধারিত সমাবেশস্থল ছাড়িয়ে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি শহরের রাজবাড়ি রাস্তার মোড় ছাড়িয়ে দুই কিলোমিটার দুরে শহর পর্যন্ত পৌছে যাবে। শুক্রবারের মধ্যেই গণসমাবেশের মূল মঞ্চ প্রস্তুত করা হয়েছে। এর বাইরে গণসমাবেশের মাইক লাগানো হচ্ছে প্রায় এককিলোমিটার জুড়ে। সমাবেশের মাঠ ছাড়িয়ে ঢাকা-ফরিদপুর মহাসড়ক হয়ে শহর পর্যন্ত জনসমাগম ঘটবে বলে জানানো হয়েছে বিএনপির পক্ষ থেকে। সন্ধায় সমাবেশস্থলে দেশাত্মবোধক সংগীত পরিবেশন করে জাসাসের শিল্পীরা।

এদিকে, মহাসড়কে থ্রি হুইলার বন্ধের দাবিতে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত ৩৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে ফরিদপুরের মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ। এর পাশাপাশি বন্ধ রয়েছে বিআরটিসি বাস চলাচলও। ফরিদপুর বিআরটিসি বাস পরিবহনের সহকারী পরিচালক মামুন হাসান বলেন, শুক্র ও শনিবার ফরিদপুর থেকে সকল পথে বিআরটিসি বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। বাস মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছি আমরা। ৩৮ ঘণ্টার এই বাস ও মিনিবাস ধর্মঘটের ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেস আলী ঈসা জানিয়েছেন, তাদের গণসমাবেশের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ নগরকান্দা ও বোয়ালমারীসহ বিভিন্নস্থান থেকে ২১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। আওয়ামী লীগ গণসমাবেশকে বাধাগ্রস্ত করতে পাল্টা জমায়েত করে জনমনে ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা চালিয়েছে। যুবলীগ ও ছাত্রলীগ শহরে মিছিল বের করেছে। এর বাইরে গণসমাবেশের শুরু থেকেই সমাবেশের জন্য আবেদন করা নির্ধারিত স্থানের বদলে তাদের শহরের বাইরে গণসমাবেশ ঠেলে দেয়া হয়েছে। এসব সত্ত্বেও নেতাকর্মীরা বাঁধ ভাঙা জোয়ারের মতো ছুটে আসছেন।

শুক্রবার পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে পৌঁছেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। শনিবার এই গণসমাবেশে লক্ষাধিক লোকের সমাগম হবে বলে বৃহত্তর ফরিদপুরের বিএনপির পক্ষ থেকে প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

বিএনপির ফরিদপুর বিভাগীয় গণসমাবেশের সমন্বয়কারী কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ বলেন, বেসরকারি বাসের পাশাপাশি দুই দিন বিআরটিসি বাস বন্ধ করার কারণ বিএনপির গণসমাবেশকে বাধা দেওয়া। কিন্তু এতে বিএনপির গণসমাবেশে কোনো সমস্যা হবে না। কেননা বাধা পেলেই মানুষ বেশি বের হয় বাঁধ ভাঙার জন্য। তবে সমস্যা ও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে যাত্রী সাধারণকে।

সমাবেশে র প্রেস উপ কমিটির আহবায়ক এ বি সিদ্দিকী মিতুল জানিয়েছেন, গণসমাবেশে হলুদ ক্যাপ মাথায় সামনের সারিতে থাকবে কৃষকদলের কর্মীরা। ফরিদপুরের এই গণসমাবেশ স্মরণকালের ঐতিহাসিক সমাবেশ হিসেবে পরিগণিত হবে।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম বলেন, গোপালগঞ্জ থেকে দুই হাজার নেতা-কর্মী এসেছেন। ওই যে সামিয়ানা (মঞ্চের পাশে) সব গোপালগঞ্জের। এরকম সব জেলা থেকেই নেতা-কর্মী আসছেন।

সমাবেশের মাঠে উপস্থিত যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি মাহবুবুল হাসান ভুইয়া পিংকু বলেন, ফরিদপুর কারো পৈত্রিক সম্পত্তি নয়। নেতা-কর্মীদের আটকাতে পারবে না কোনো বাধাই। পিংকু জানান, শুক্রবার রাতে ৭/৮ হাজার নেতাকর্মীর মাঝে রাতের খবার বিতরণ করা হয়েছে। জেলার নেতারা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এসব ব্যবস্থা করছেন। গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকারের পক্ষ থেকে বাধা বিঘ্ন সত্ত্বেও নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাবেশস্থলে আসছেন। গণসমাবেশের শৃঙ্খলা উপকমিটির প্রধান ও শহর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক এমটি আক্তার টুটুল জানান, গণসমাবেশস্থলের সার্বিক শান্তিশৃঙ্খলার স্বার্থে কাজ করছে তাদের কর্মীরা।

বিএনপির এই ষষ্ঠ বিভাগীয় গণসমাবেশের আগের দিনে ফরিদপুরে শুক্রবার বিকেলে গণমিছিল করেছে আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামীম হকের নেতৃত্বে শহরের আলিপুরে শেখ রাসেল ক্রীড়া কমপ্লেক্স চত্বর থেকে শুরু হয়ে মুজিব সড়ক হয়ে ব্রক্ষ্মসমাজ সড়ক পর্যন্ত পৌছে মিছিলটি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন। বিভাগীয় এই সমাবেশকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে পুলিশের পক্ষ থেকে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার সকাল থেকে মাঠে দলবদ্ধভাবে আসছেন বিভিন্ন স্থানের নেতাকর্মীরা। তারা খণ্ড খণ্ড মিছিল করে মাঠ প্রদক্ষিণ করছেন ক্ষণে ক্ষণে। মাঠে অবস্থান নিয়ে আগের দিনেই মূল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। এখন চলছে গণসমাবেশের মাইক স্থাপন সহ আনুষঙ্গিক কাজ। শনিবার বেলা ১১টায় শহরের উপকণ্ঠে কোমরপুর আব্দুল আজিজ ইনস্টিটিউট মাঠে বিএনপির ষষ্ঠ বিভাগীয় এ গণসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

সূত্র : ঢাকাটাইমস

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles