5.6 C
Toronto
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২২

দিল্লির বায়ু দূষণের জন্য দায়ী হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ!

দিল্লির বায়ু দূষণের জন্য দায়ী হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ!

শস্যের আগাছাপুড়িয়ে বায়ু দূষণ ছড়াচ্ছে ভারতের বিজেপি শাসিত হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশ রাজ্য। অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে এমনই ইঙ্গিত দিয়েছে দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটি (ডিপিসিসি)।

- Advertisement -

শস্যের আগাছা পোড়ানোর ঘটনা সবথেকে বেশি পাঞ্জাবে হলেও, শেষ একবছরে তা হ্রাস পেয়েছে প্রায় ৫৬ শতাংশ। কিন্তু, দুই রাজ্য -উত্তরপ্রদেশ এবং হরিয়ানায় শস্যের আগাছা পোড়ানোর ঘটনা লাগাতার বৃদ্ধি পেয়েছে। রিপোর্টে এমনই উল্লেখ করা হয়েছে।
দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির রিপোর্টে উল্লেখিত, চার রাজ্যে শস্যের আগাছা পোড়ানোর মাত্রা তুলনা করার জন্য ২০২০, ২০২১ এবং ২০২২ সালের দীপাবলির দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২০ সালে দীপাবলির দিন পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ এবং দিল্লিতে শস্যের আগাছা জ্বালানো ৬২৩টি ঘটনা সামনে এসেছিল। তবে ২০২১ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৩টি। এবং চলতি বছরে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৮৬টি ঘটনায়।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাঞ্জাবে শস্যের আগাছা জ্বালানোর হার ৫৬ শতাংশ কমে যাওয়ার কারণেই সার্বিকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১ সালে পাঞ্জাবে যেখানে শস্যের আগাছা জ্বালানো ৩ হাজার ৩২টি ঘটনা ঘটেছিল, ২০২২ সালের দীপাবলির দিন (২৪ অক্টোবর) ওই রাজ্যে তা কমে হয়েছে ১ হাজার ১৯টি। কিন্তু হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশে তা লাগাতার বৃদ্ধি পেয়েছে।

হরিয়ানায় ২০২০, ২০২১ এবং ২০২২ সালে ঘটনা ঘটেছে যথাক্রমে ৫০টি, ২২৮টি এবং ২৫০টি। উত্তরপ্রদেশে এই ঘটনার সংখ্যা ২০২১ সালে ১২৩টি থেকে ২০২২ সালে বেড়ে হয়েছে ২১৫টি। অন্যদিকে, চলতি বছরে দীপাবলির দিন দিল্লিতে আগাছা পোড়ানোর দু’টি ঘটনা ঘটেছে। তবে ২০২০ এবং ২০২১ সালে দিল্লিতে শস্যের আগাছা পোড়ানোর কোনও ঘটনাই ঘটেনি বলে উল্লেখ করা হয়েছে ওই রিপোর্টে।

প্রসঙ্গত, দিল্লি এবং পাঞ্জাব -এই দুই রাজ্যের শাসক দল আম আদমি পার্টি (আপ)। রাজনৈতিক মহলের মতে, দিল্লির বায়ু দূষণ পরিস্থিতি নিয়ে যেভাবে আপ সরকারকে চেপে ধরেছে বিজেপি, কংগ্রেস, তারই পাল্টা জবাবে এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। দিল্লির বায়ু দূষণ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে হিটলারের সঙ্গে তুলনা করে শনিবার(৫ নভেম্বর) তার ছবি সংবলিত পোস্টার পোড়ানো হয়েছে দিল্লি বিজেপির সদর কার্যালয়ের বাইরে। নয়াদিল্লির পথে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন কংগ্রেস কর্মীরা।

তবে রোববারও (৬ নভেম্বর) দূষণ সামান্য কমেছে। তা কমতেই দিল্লি থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা। ভারতের রাজধানী এবং সংলগ্ন এলাকাগুলোতে দূষণ মোকাবেলায় যে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছিল সরকার, রোববার তার মধ্যে কয়েকটি শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কেন্দ্রের নজরদারি সংস্থা জানিয়েছে, দিল্লির বায়ু দূষণের মাত্রা অতি সামান্য হলেও কমেছে। ফলে কিছু বিষয় প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তবে শুধু সর্বোচ্চ স্তরের সতর্কতামূলক ব্যবস্থাই প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। বাকি নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে। প্রাথমিক স্কুলগুলো বন্ধই থাকবে। তবে এই অবস্থায় হাইওয়ে, সড়কপথ, ওভারব্রিজ তৈরি, মেরামত এবং ভাঙার কাজ আবার চালু করা যাবে। বিদ্যুৎ এবং পানি সরবরাহ সংক্রান্ত যে সমস্ত কাজ বন্ধ করা হয়েছিল, তাও আবার চালু করা যাবে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles