5.6 C
Toronto
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২২

মেট্রোরেল-২ এর রুট বদল

মেট্রোরেল-২ এর রুট বদল

ঢাকা মহানগরী ও পার্শ্ববর্তী এলাকার যানজট নিরসনে ছয়টি মেট্রোরেল নির্মাণ করবে সরকার। এর একটি উত্তরা-কমলাপুর। এমআরটি-৬ নামে এ মেট্রোরেল জাপানের অর্থায়নে নির্মিত হচ্ছে। আগামী ১৬ ডিসেম্বর আগারগাঁও পর্যন্ত চালুর প্রস্তুতি চলছে। এমআরটি-২ নামে আরেকটি মেট্রোরেল হবে গাবতলী থেকে কমলাপুর হয়ে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত। এটির অ্যালাইনমেন্ট সংশোধনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

- Advertisement -

এর আগে মেট্রোরেলটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে বাস্তবায়নের কথা ছিল। কিন্তু দেখা গেছে, পিপিপিতে বাস্তবায়ন করতে হলে ৮৫ শতাংশ অর্থ সরকারকেই বহন করতে হবে, অথচ প্রকল্পটি কার্যকর হয় না। তাই সার্বিক বিবেচনায় পিপিপি তালিকা থেকে মেট্রোরেল প্রকল্পটি বাদ দিয়েছে সরকার। এখন জাইকার আর্থিক সহায়তায় নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে।

জানা গেছে, ঢাকার গাবতলী থেকে চট্টগ্রাম রোড পর্যন্ত ছিল এমআরটি-২ লাইনের অ্যালাইনমেন্ট। এমআরটি-৪ নামে আরেকটি লাইনের গন্তব্য ছিল নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত। কিন্তু একই রুটে রেলওয়ের ভিন্ন প্রকল্প থাকায় প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না। তাই এমআরটি ২-এর রুট পরিবর্তন করতে হচ্ছে। এর মাধ্যমে ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জকে যুক্ত করবে মেট্রোরেল। প্রকল্পের প্রস্তাবিত অ্যালাইনমেন্ট হচ্ছে- গাবতলী-ঢাকা উদ্যান-মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড-ঝিগাতলা-সায়েন্স ল্যাবরেটরি-নিউমার্কেট-আজিমপুর-পলাশী-ঢাকা

মেডিক্যাল কলেজ-গুলিস্তান-মতিঝিল-কমলাপুর স্টেশন-মান্ডা-দক্ষিণগাঁও-ধামড়িপাড়া-সাইনবোর্ড-ভুইঘর-জালকুড়ি-নারায়ণগঞ্জ। প্রস্তাবিত ব্রাঞ্চ লাইন গোলাপশাহ মাজার-নয়াবাজার-সদরঘাট। প্রকল্পের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। এ মেট্রোরেলের আগের অ্যালাইনমেন্ট ছিল- গাবতলী-এমব্যাংকমেন্ট রোড-বসিলা-মোহাম্মদপুর বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড-সাতমসজিদ রোড-ঝিগাতলা-ধানমন্ডি ২ নম্বর রোড-সায়েন্স ল্যাবরেটরি-নিউমার্কেট-নীলক্ষেত-আজিমপুর-পলাশী-শহীদ মিনার-ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ-পুলিশ হেডকোয়ার্টার-গোলাপশাহ মাজার-বঙ্গভবনের উত্তর পার্শ্বস্ত সড়ক-মতিঝিল-আরামবাগ-কমলাপুর-মুগদা-মান্ডা-ডেমরা-চট্টগ্রাম রোড। নতুন অ্যালাইনমেন্টসহ এমআরটি লাইন-২ বাস্তবায়ন করতে প্রকল্পটি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় সরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়নের জন্য পিডিপিপি (প্রিলিমিনারি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল) মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জিটুজি ভিত্তিতে পিপিপি পদ্ধতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে এমআরটি লাইন-২ বাস্তবায়নে পিপিপি রিসার্চ ও প্রিলিমিনারি স্টাডি করা হয়। এই রিসার্চ ও স্টাডি পর্যালোচনা করে প্রকল্পটি জিটুজি ভিত্তিতে পিপিপি পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের তালিকা থেকে বাদ পড়ার সিদ্ধান্ত আসে গত ২৩ জুন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত তালিকা থেকে বাদ পড়ার সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ-জাপান ৫ম যৌথ পিপিপি প্ল্যাটফরম সভায় উপস্থাপনের সুপারিশ হয়েছে।

জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১৫ জুন বাংলাদেশ ও জাপান সরকারের মধ্যে জিটুজি ভিত্তিতে পিপিপি পদ্ধতিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মেমোরান্ডাম অব কোঅপারেশন (এমওসি) স্বাক্ষরিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৮ সালের ৭ জুন অনুষ্ঠিত সভায় পিপিপিতে বাস্তবায়নে তালিকাভুক্ত হয়েছিল। একই সভায় জাপান সরকার মারুবেনি করপোরেশনকে লিড মেম্বার করে সাব ওয়ার্কিং গ্রুপ (এসডব্লিউজি) গঠন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জাপানের ভূমি, অবকাঠামো পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের (এমএলটিআই) আর্থিক সহায়তায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠান পিপিপি রিসার্চ করে। ওই স্টাডি রিপোর্টে সরকারি অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নপূর্বক অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স পিপিপির মাধ্যমে করা যেতে পারে। কিন্তু এই সুপারিশের সঙ্গে দ্বিমত করে ডিএমটিসিএল। এ প্রেক্ষাপটে ২০২০-২১ অর্থবছরে এমএলআইটি কর্তৃক নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান অরিয়েন্টাল কনসালট্যান্ট গ্লোবাল (ওসিজি) অ্যান্ড পিডব্লিউসি প্রিলিমিনারি স্টাডি করে।

এটি পর্যালোচনা করে গত মার্চে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ইকোনমিক ইন্টারনাল রেট অব রিটার্ন (ইআইআরআর) ১৫ শতাংশ এবং ফিন্যান্সিয়াল ইন্টারনাল রেট অব রিটার্ন (এফআইআরআর) অগণিত উল্লেখ করা হয়। এতে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ভায়াবল (কার্যকর) নয় বলে প্রতীয়মান। কিন্তু সরকারের রিভাইজড স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানে (আরএসটিপি) ২০১৫-২০৩৫ এ এমআরটি-২ কার্যকর হিসেবে দেখানো আছে। তাই পরামর্শকের প্রতিবেদনের সঙ্গে পুনরায় দ্বিমত করে ডিএমটিসিএল। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে রিভিউ করলে তখন বলা হয় ইকোনমিক আইআরআর ১৫ শতাংশ ও ফিন্যান্সিয়াল আইআরআর ৩.৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রকল্পটি কার্যকর। ভূমি অধিগ্রহণ ছাড়া প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৫.৩০ বিলিয়ন ডলার। প্রিলিমিনারি স্টাডি রিভিউতে মডালিটি অব পিপিপি অপশনস বিষয়ে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হাইব্রিড অ্যানুইটি মডেল এইচএ-২ এবং এইচএ-৩ কে সুপারিশ করে। এইচএ-২ মডেলের আওতায় সব পূর্তকাজ ট্রাডিশনাল মেথডে অর্থাৎ সরকারি অর্থায়নে করে দিতে হবে।

পিপিপি পার্টনার করবে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল (ইঅ্যান্ডএম), রেলিং স্টক (আরএস), ডিপো অ্যান্ড অপারেশনাল অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স করা হবে। আর এইচএ-৩ মডেলের বেলায় সিভিল ও ইঅ্যান্ডএম সিস্টেমে কাজ করতে হবে সরকারি অর্থায়নে। আর পিপিপি পার্টনার করবে রোলিংস্টক ও ডিপো অ্যান্ড মেইনটেন্যান্সের কাজ। এ পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে চাইলে ৪০ শতাংশ ভিজিএফ এবং প্রকল্পের প্রায় ৮৫ শতাংশ খরচ সরকারকে বহন করতে হবে। সার্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এই জিটুজি ভিত্তিতে পিপিপি পদ্ধতি সরকারের সহায়ক হবে না। এ জন্য ডিএমটিসিএল প্রকল্পটি পিপিপি তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

এর পর দাতা সংস্থার অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দিকে হাঁটে সরকার। প্রথমে জাইকার অর্থায়নে ফিজিবিলিটি স্টাডি করার জন্য পরিকল্পনা কমিশনের নীতিগত অনুমোদনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এমআরটি লাইন ২-এর ডিপো ও ডিপো এক্সেস করিডর এবং কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড নির্মাণে ডেমরার মাতুয়াইল ও দামড়িপাড়া মৌজায় গ্রিন মডেল টাউন এবং আশুলিয়া মডেল টাউনের মধ্যবর্তী স্থানে মোট ৬৫ হেক্টর জমি রাজউকের ড্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এমআরটি-২ প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪৫ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা ধরা হয়েছে বৈদেশিক ঋণ হিসাবে। বাকি ১৫ হাজার ২১০ কোটি খরচ হবে সরকারি খাত থেকে। তবে ভূমি অধিগ্রহণ, টিওডিসহ স্টেশন প্লাজার খরচ এখানে ধরা হয়নি। এমআরটি লাইন-২ মেট্রোরেল হবে এলিভেটেড ও আন্ডারগ্রাউন্ড সমন্বয়ে। এ বিষয়ে গতকাল বক্তব্য জানতে চাইলে ‘মিটিং’য়ে থাকায় কথা বলতে পারেননি প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা মো. আব্দুল বাকি মিয়া।

সূত্র : আমাদের সময়

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles