21.3 C
Toronto
রবিবার, জুন ২৩, ২০২৪

দুই মাসে তিন সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি

দুই মাসে তিন সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি

বিভাগীয় শহরের গণসমাবেশ শেষ করে রাজধানীতে আগামী ১০ ডিসেম্বর মহাসমাবেশ করবে বিএনপি। এই মহাসমাবেশ ঘিরে দলের শীর্র্ষ নেতৃত্বের বাড়তি প্রত্যাশা রয়েছে। তারা মহাসমাবেশের আগেই গুরুত্বপূর্ণ তিনটি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চায়। বিষয় তিনটি হলো- বিএনপি থেকে নির্বাচিতদের জাতীয় সংসদ থেকে পদত্যাগ, যুগপৎ আন্দোলনের রূপরেখা চূড়ান্ত করা এবং নির্দলীয় সরকারের এক রূপকল্প তৈরি করে জাতির সামনে তুলে ধরা। গুরুত্বপূর্ণ এই তিনটি বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনাও হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই তিন বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর দলটির চলমান আন্দোলনে নতুন মেরুকরণ হবে বলে মনে করেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।

- Advertisement -

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ সব বিষয় নিয়ে আমাদের কাজ চলছে, সময় হলে সব জানতে পারবেন।’

দলের নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার মহাসমাবেশ থেকে আন্দোলনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসতে পারে। সে ক্ষেত্রে এই তিনটি সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে আন্দোলনের ঘোষণা অর্থবহ হবে না।

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আন্দোলনের গতি বাড়াতে সরকারবিরোধী সব দলকে এক প্ল্যাটফরমে নিয়ে আসার কাজ দ্রæত এগোচ্ছে। যুগপৎ আন্দোলন করতে হলে কয়েকটি বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ডিসেম্বরের আগে সেই কাজগুলো শেষ করার বিষয়ে কাজ চলছে।

গত বৃহস্পতিবার স্থায়ী কমিটির অনির্ধারিত বৈঠকে কয়েক নেতা প্রশ্ন তোলেন- সরকারবিরোধী চূড়ান্ত আন্দোলনের পর্যায়েও কেন বিএনপির সংসদ সদস্যরা পদত্যাগ করছেন না? তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কয়েক নেতা। এ ছাড়াও বৈঠকে গত সপ্তাহে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে জেলা নেতাদের বৈঠকের সারমর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চার দিনব্যাপী ওই বৈঠকে ৯২ জন বক্তব্য রাখেন।

বিএনপির এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, সমাবেশ করে দায়িত্ব পালন শেষ করা যাবে না। ঢাকার মহাসমাবেশ সফল করতে কাজ করতে হবে। কর্মসূচির মধ্যদিয়ে নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে দলীয় এমপিদের ভ‚মিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন স্থায়ী কমিটির কয়েক নেতা। বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে জেলা নেতাদের বৈঠকেও একই প্রশ্ন ওঠে। বিএনপির নীতিনির্ধারকদের কয়েকজনও মনে করেন, এমপিদের সংসদ থেকে পদত্যাগের সময় এসেছে। বৈঠকের একপর্যায়ে ডিসেম্বরের আগে সংসদ সদস্যদের পদত্যাগের দাবি ওঠে। এতে অধিকাংশ নেতা সম্মতি জানান। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এ বিষয়ে চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চান। তবে এককভাবে নয়, সবার মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে চান বলে দলের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা জানান।

এদিকে দলের একটি সূত্র জানায়, দলীয় দুই এমপি ইতোমধ্যে সংসদ থেকে পদত্যাগ করতে চান বলেও ভারপ্রাপ্ত চেয়াম্যানকে জানিয়েছেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেন, সংসদ অবৈধ দাবি করেও সংসদে থাকাটা যুক্তিযুক্ত নয়। এ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্তে আসা উচিত। শীর্ষ নেতৃত্বও এ নিয়ে ভাবছেন।

দলের গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা বলেন, একজন বাদে বিএনপি দলীয় বাকি এমপিরা দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন। একজনের মতামত এখনো পাওয়া যায়নি।

সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক ঐক্যের উদ্যোক্তারা মিত্র দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় দফা বৈঠক করছেন। ইতোমধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটি আন্দোলনের দাবি সংবলিত ৯ দফা খসড়া চ‚ড়ান্ত করেছে। এই দফা নিয়ে এখন মিত্র দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে রূপরেখা চ‚ড়ান্ত করার পর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে। এই মাসের মধ্যে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক শেষ করবে বিএনপি।

এ দিকে বাতিল হওয়া এয়োদশ সংশোধনীর আলোকেই বিএনপি নির্দলীয় তত্ত¡াবধায়ক সরকারের রূপরেখা দেবে। বছরখানেক আগে নির্দলীয় সরকারের রূপরেখার একটা খসড়া চ‚ড়ান্ত করে দলটি। তার ভিত্তিতে বাস্তবতার আলোকে রূপরেখা চ‚ড়াকরণের কাজ চলছে। এ বিষয়ে দলের জ্যেষ্ঠ এক নেতা বলেন, সংবিধানের ভেতর থেকে কীভাবে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করা সম্ভব তার কয়েকটি ফুর্মলা দেওয়া হবে। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে চাইলে বিএনপি সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি আছে বলে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সূত্রে জানা যায়।

সূত্র : আমাদের সময়

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles