8.6 C
Toronto
বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২২

নারী জিন ‘উম দুয়াইস’ থাকেন যে গ্রামে!

- Advertisement -
ছবি : সংগৃহীত

সংযুক্ত আরব আমিরাত…অফুরন্ত তেলের খনি, প্রাচুর্য ও বৈভবের এক স্বপ্নলোক। বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল শহর দুবাই এখানেই অবস্থিত। অথচ এই দেশেই রয়েছে জনশূন্য এমন একটি গ্রাম, যেখানে ধুধু বালি আর পরিত্যক্ত ঘরবাড়ি ছাড়া কিছুই নেই। গ্রামটিকে ঘিরে প্রচলিত রয়েছে নানা গল্প কাহিনী।

দুবাই থেকে মাত্র ৭৪ কিলোমিটার দূরে শারজার সীমানায় অবস্থিত রহস্যময় একটি গ্রাম, যার নাম ‘আল মাদাম’। এই গ্রামের সবগুলো বাড়ির দরজা-জানালা খোলা থাকে। ঘরের ভেতরের আসবাবপত্রও বেশ পুরনো এবং এলোমেলো। এমন পরিস্থিতি দেখে যে কারোরই মনে হতে পারে, আচমকা কোনো বিপদে সব ফেলে পালিয়েছেন এখানকার বাসিন্দারা। আবার এও মনে হতে পারে, যেন অতিপ্রাকৃত কোনো শক্তিতে ধ্বংস হয়েছে গ্রামটি।

স্থানীয়দের মতে, ১৯৭০ সালের দিকে গ্রামটিতে ‘আল কুতবি’ উপজাতি সম্প্রদায় বাস করতো। তবে প্রতিকূল পরিবেশ, পানিশূন্যতা আর মরুঝড়ের কারণে এই উপজাতি একটা সময় গ্রাম ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। এছাড়াও শোনা যায়, এই গ্রামে এমন এক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল যার দরুণ এর ধারেকাছে ঘেঁষতেও কেউ সাহস পেতো না। গ্রামটিতে এখনো অবশিষ্ট রয়েছে বেশ কিছু বাড়ি ও মসজিদ।

এদিকে, আল মাদামের পাশের গ্রামগুলোতে বসবাসরত মানুষজন বিশ্বাস করেন, এখানে এক নারী জিন ঘুরে বেড়ায়, যার নাম ‘উম দুয়াইস’। বিড়ালের মতো চোখের এই নারী জিনের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকে। স্থানীয়দের মতে, গ্রামটি রাতে উধাও হয়ে যায়, আবার সূর্যের আলো ফুটতেই এর দেখা মেলে। কিন্তু কেন এই ঘটনা ঘটে তার কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ বের করেছেন বিজ্ঞানীরা।

এ সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের মত ছিল, রাতের বেলায় মরুর বালিতে ঢাকা পড়ে যায় পুরো গ্রাম। কেননা সেখানে ক্রমাগত হাওয়া চলতেই থাকে। তবে বিজ্ঞানীদের একাংশের প্রশ্ন, গ্রামটি রাতে বালিতে চাপা পড়ে গেলে, দিনে আবার দ্রুত বালি সরে যায় কীভাবে?

তারা আরও একটি সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন, যার নাম ‘দৃষ্টিভ্রম’। কারণ দুবাইয়ে মরুভূমি আর সমুদ্র দুটোই কাছাকাছি অবস্থিত। ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি বাতাস দ্রুত গরম হয়, আর উপরের দিকের বাতাস সমুদ্রের কারণে ঠাণ্ডা থাকে। ফলে নীচের দিকে যখন আলোর প্রতিসরণ হয়, তখনই মনে হয় গ্রামটি অদৃশ্য হয়ে গেছে।

আল মাদামের রহস্যের কূলকিনারা কেউ খুঁজে পাক বা না পাক এই রহস্যময়তাই যে গ্রামটিকে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের অধিকারী করেছে সেটি আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যে রহস্য এরইমধ্যে মন কেড়ে নিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের লাখো পর্যটকের। প্রতিদিনই গ্রামটি দেখতে ছুটে আসছেন নানা দেশের নানা ধর্মের মানুষ। স্থানীয় প্রশাসনও পর্যটকদের সেবায় কাজ করে যাচ্ছেন নিরলস।

Related Articles

Latest Articles