21.9 C
Toronto
শনিবার, জুন ২২, ২০২৪

চোখের দৃষ্টির হেফাজত জরুরি যে কারণে

চোখের দৃষ্টির হেফাজত জরুরি যে কারণে

দুনিয়ার যাবতীয় নেয়ামত উপভোগ করার প্রধান মাধ্যম হচ্ছে চোখ। জীবনকে সুখময় ও পরকালের নাজাতকে নিশ্চিত করতে আল্লাহর নির্দেশ অনুযায়ী চোখ ব্যবহারের কোনো বিকল্প নাই। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা দৃষ্টিশক্তির যথাযথ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন।

- Advertisement -

বর্ণিত হয়েছে, ‘মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।’ (সুরা আন-নুর: ৩০)

আল্লাহ তাআলা এখানে পুরুষদের নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি নারীদেরকেও দৃষ্টি সংবরণের আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন— ‘আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে।’ (সুরা আন-নুর: ৩১)

চোখকে বলা হয়ে থাকে মনের আয়না। মানুষ প্রথমে চোখ দিয়ে দেখে তারপর হৃদয় দিয়ে কল্পনা ও কামনা করে। পরবর্তীতে তা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হয়ে কার্যে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা চালায়। চোখের যত্রতত্র দৃষ্টিপাতে মানুষের মন অশান্ত অস্থির হয়। এমন ও পুরুষ রয়েছে যে একজন বেগানা নারীর প্রতি মাত্র একবার দৃষ্টিনিক্ষেপ করেছে যার ফলশ্রুতিতেই বছরের পর বছর অন্তর্দহন ভোগ করেছে।

যেকোনো ধরনের বড় পাপে বান্দার নিমজ্জিত হওয়ার প্রাথমিক ধাপ হচ্ছে দৃষ্টি। পথেঘাটে হাটবাজারে বিপণী-বিতানে বেগানা নর-নারীর ওপর ভুলক্রমে আমাদের দৃষ্টি নিপতিত হতেই পারে। পরক্ষণে সঙ্গে সঙ্গেই দৃষ্টি অবনমিত করতে হবে। ইচ্ছাকৃত দৃষ্টিকে সেখানে প্রলম্বিত করা যাবে না।

এ পরিস্থিতি সম্পর্কে আলী (রা.) রাসুল (সা.) কে জিজ্ঞেস করেন, উত্তরে রাসুল (সা.) বলেন : ‘হে আলী, অনাকাঙ্ক্ষিত দৃষ্টি পড়ে গেলে পুনরায় তুমি দৃষ্টি দিও না। কেননা প্রথম দৃষ্টি তোমার জন্য ক্ষমাযোগ্য কিন্তু পুনরায় দৃষ্টিপাত করা তোমার জন্য ক্ষমাযোগ্য নয়।’ (তিরমিজি: ২৭৭৭)

ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) লিখেছেন, ‘দৃষ্টিই যৌন লালসার উদ্বোধক। কাজেই এ দৃষ্টির নিয়ন্ত্রণ ও সংরক্ষণ মূলত যৌনাঙ্গেরই সংরক্ষণ। যে ব্যক্তি দৃষ্টিকে অবাধ, উন্মুক্ত ও সর্বগামী করে সে নিজেকে নৈতিক পতন ও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। মানুষ নৈতিকতার ক্ষেত্রে যত বিপদ ও পদস্খলনেই নিপতিত হয়, দৃষ্টিই তার মূল কারণ। কেননা দৃষ্টি প্রথমত আকর্ষণ জাগায়। আকর্ষণ মানুষকে চিন্তা বিভ্রমে নিমজ্জিত করে।

আর এ চিন্তাই মানুষের মধ্যে সৃষ্টি করে লালসার উত্তেজনা। এ যৌন উত্তেজনা ইচ্ছাশক্তিকে উদ্বুদ্ধ করে। আর ইচ্ছা ও প্রবৃত্তি শক্তিশালী হয়ে দৃঢ় সংকল্পে পরিণত হয়। এ দৃঢ় সংকল্প অধিকতর শক্তি অর্জন করে বাস্তবে ঘটনা সংঘটিত করে। বাস্তবে যখন কোনো বাধাই থাকে না, তখন এ বাস্তব অবস্থার সম্মুখীন না হয়ে কারো কোনো উপায় থাকে না।’ (আল-জাওয়াব আলকাফি: ২০৪)

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles